kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

২৪ এপ্রিল ২০১৯ : রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ষষ্ঠ বার্ষিকী

তাঁদের স্মরণে

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাঁদের স্মরণে

২৪ এপ্রিল ২০১৩। এখনো দিনটির কথা উঠলে অনেকেরই মনে ভেসে ওঠে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া দালান আর ছিন্নভিন্ন মানুষের শরীর। সাভারে রানা প্লাজা ধসে এ দিন প্রায় এক হাজার ১০০ শ্রমিক নিহত হন, যা ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা। সেই নিহত শ্রমিকদের স্মরণে কিছু সংগঠন একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করে। এতে শোভা পাচ্ছে শ্রমিকের মুষ্টিবদ্ধ হাতে হাতুড়ি আর কাস্তে। জনসাধারণের টাকায় ভাস্কর্যটি নির্মাণের পেছনের গল্প বলছেন নাঈম সিনহা

প্রথম দিকে উদ্ধারকাজ নিয়েই ব্যস্ত ছিল সবাই। এরপর মে মাসের শুরুতে ১৩টি প্রগতিশীল সংগঠন রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানায়। পরে ১৭ মে সিদ্ধান্ত হয় তারা নিজেরাই অস্থায়ী শহীদ বেদি (উল্লেখ্য, নিহতদের শহীদ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে সংগঠনগুলো) নির্মাণ করবে। এরপর ২৪ মে সকালে অস্থায়ীভাবে একটি বেদি নির্মিত হয়। স্থায়ী বেদি নির্মাণে ৮ জুন গঠিত হয় শহীদ বেদি নির্মাণ কমিটি। সমন্বয়ক ছিলেন গণমুক্তির গানের দলের আশীষ কোড়ায়া, সহসমন্বয়ক বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের তৌহিদুল ইসলাম ও দাবানলের সুমন মোহন মৈত্র। সদস্য ছিলেন মহসিন শস্ত্রপাণি, প্রফেসর ম. নুরুন্নবী, ছাত্র গণমঞ্চের সুজিত সরকার, প্রপদের (প্রগতির পরিব্রাজক দল) আঁখি, মার্ক্সবাদের প্রথম পাঠের ইসহাক ও ল্যাম্পপোস্টের শামা।  

কমিটি কাজে নেমে পড়ে দ্রুত। মোট ২১ দিন প্রচারপত্র বিলি করে গণচাঁদা সংগ্রহ করে। সংগ্রহকাজ চলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা—যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আজিজ সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট, পান্থপথ, গ্রিন রোড, এলিফ্যান্ট রোড, মগবাজার, আসাদগেট, আরামবাগে এবং সাভার-আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের হামীম গার্মেন্টস, জিকে গার্মেন্টস, চৌরঙ্গী মার্কেট, আশুলিয়া, কোণ্ডলবাগ, পুকুরপার, রানা প্লাজার পেছনের আবাসিক এলাকা, জামগড়া, পুরনো ও নতুন ইপিজেডের শ্রমিক আবাসিক এলাকায়। মোট ৩৩ হাজার লিফলেট বিলি করা হয়। পুরোটা নির্মাণে ব্যয় হয় ৮৫ হাজার ৬০১ টাকা। গণচাঁদা থেকে এসেছে ৩০ হাজার ৫০২ টাকা। বাকি টাকা সংগঠনগুলো ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্নজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে।

তিন সপ্তাহ লেগেছে ভাস্কর্যটি শেষ করতে। এর ভাস্কর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাত্র অন্তু মোদক। তাঁর সহকারী ছিলেন রাকিবুল আনোয়ার।

অন্তু বললেন, ‘সে সময় আমি চারুকলার ছাত্র। সংগঠনগুলোর কর্মীরা আমাকে জানায়, রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের স্মরণে একটি শহীদ বেদি বানাতে চায় তারা। আমি তাতে সাড়া দিই। শুধু নির্মাণসামগ্রী কেনার টাকা তারা সরবরাহ করে। আমার মনে পড়ে টিএসসিতে তারা একটি বাজারের ব্যাগ নিয়েছিল। তাতে অনেক  খুচরা টাকা ছিল। সব গণচাঁদা থেকে তোলা—দুই টাকা আর পাঁচ টাকার নোট। কর্মীদের ইচ্ছা—শ্রমিকের হাত আর তাতে ধরা কাস্তে আর হাতুড়িই হবে ভাস্কর্যের বিষয়। আমি প্রথমে মাটি দিয়ে আমার আবাসিক হলের সামনে একটা ডামি (প্রতিরূপ) বানাই। এরপর চারুকলার ভেতরেই হয় মূল কাজ। সেখান থেকে ট্রাকে করে রানা প্লাজার সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।’

২ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভাস্কর্যটি স্থাপনের কাজ চলে। গার্মেন্ট শ্রমিক স্মরণে এটিই দেশের প্রথম ভাস্কর্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা