kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

অবাক বিশ্ব

যে পত্রিকায় শুধু ভালো খবর ছাপা হয়

বিবিসি বাংলা খবরটি ছেপেছে ১ এপ্রিল। আহনাফ সালেহীন দেখে খুশি হয়েছিলেন

৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



যে পত্রিকায় শুধু ভালো খবর ছাপা হয়

পত্রপত্রিকায় আর সামাজিক মাধ্যমে যুদ্ধ, সহিংসতা, দুর্ঘটনার খবর দেখতে দেখতে যুক্তরাজ্যের নাগরিক এমিলি কক্সহেড মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন একসময়।

তখনই তাঁর মাথায় চিন্তা আসে নতুন একটি পত্রিকা চালু করার, যেখানে কোনো দুঃসংবাদ থাকবে না, থাকবে শুধু ভালো ও ইতিবাচক খবর।

সেই চিন্তা থেকেই ২০১৫ সালে মিস কক্সহেড ‘দ্য হ্যাপি নিউজ’ নামের এই পত্রিকার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা শুরু করেন।

এটি ৩২ পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ রঙিন একটি পত্রিকা, যার পুরোটাজুড়েই থাকে শুধু ইতিবাচক খবর।

মিস কক্সহেড বলেন, খবরের কাগজ সাধারণত ম্যাড়মেড়ে হয় এবং ততটা রঙিনও হয় না। এই পত্রিকাটি এর ঠিক বিপরীত।

প্রতি তিন মাসে একবার গ্রাহকরা এই পত্রিকা পেয়ে থাকেন।

মিস কক্সহেড ২০১৫ সালে তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী হ্যাপি নিউজের মূল পাতাটি কেমন হবে তার নকশা তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন এবং লেখেন, ‘কল্পনা করুন, এ রকম একটি পত্রিকা যদি বাস্তবে থাকত।’

সেই পোস্ট দেখে বেশ কয়েকজন তাঁকে উৎসাহ দেন পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

তখন থেকেই তিনি এই পত্রিকার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।

তাঁর এই পত্রিকা মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

আমি এবং পত্রিকার পাঠকরা এটি হাতে হাতে ছড়িয়ে দিই। প্রতিবেশী বা বন্ধুর কাছে দেওয়া, ট্রেন বা বাসে রেখে আসার মাধ্যমেই এটি নানা শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। অনেকের ধারণা, রংচঙে, আঁকাআঁকিতে ভরা এই পত্রিকাটি অ্যাপ বা ওয়েবসাইট। আসলে তা নয়, এটি একটি পত্রিকা, বলেন মিস কক্সহেড।

‘দ্য হ্যাপি নিউজ’ পত্রিকার ১৩তম সংস্করণ বাজারে এসেছে।

কিন্তু কী ধরনের খবর প্রকাশ করে থাকে এই পত্রিকা?

মিস কক্সহেড বলেন, এই কয়েক বছরের মধ্যে পাওয়া সবচেয়ে মজার খবরটি এসেছিল অস্ট্রেলিয়া থেকে।

‘অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বেশি বয়সী ব্যক্তি কয়েকটি আহত পেঙ্গুইনের জন্য জামা বুনেছিল। সেটির ছবি ও কার্টুন ছাপা হয়েছিল পত্রিকায়। যেটি আমার কাছে মনে হয়েছে, পত্রিকায় এখন পর্যন্ত ছাপা হওয়া সবচেয়ে মজার খবর।

মিস কক্সহেড বিশ্বাস করেন, গুরুত্বপূর্ণ খবরের পাশাপাশি ছোট ছোট মজার ও ভালো খবরও জানা উচিত মানুষের।

আমি জানি যে প্রতিদিন পৃথিবীতে ভয়াবহ সব ঘটনা ঘটছে। আমি সেগুলো আড়াল করতে চাইছি না।

কিন্তু আমি মনে করি, আমাদের ভালো জিনিসগুলো সম্পর্কেও জানা উচিত।

এভরিডে হিরোজ

হ্যাপি নিউজের একটি বিভাগ আছে, নাম এভরিডে হিরোজ, যাতে আহ্বান জানানো হয়, যদি আপনার চেনা কেউ, যে কিনা মানুষের সুখের জন্য কাজ করছেন, তাঁর কথা আমাদের লিখে পাঠান। তেমন একটি লেখা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠিয়েছেন ক্যারল এরিয়াস। এর নাম ওয়ার্ড রকস প্রজেক্ট—এটি ছিল আমার ছেলের চিন্তা। তার বয়স তখন ১০ ছিল। আমরা পাথরের ওপর রং করতাম আর ইতিবাচক কথা লিখতাম। সাড়ে চার বছর পর আমাদের লেখা পাথরগুলো বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে এবং অনেক লোক একই রকমভাবে পাথর রং করে তাতে ইতিবাচক কথা লিখছে। আপনারা কেউ যদি এমন পাথর পান, তবে ছবি তুলে ইনস্টাগ্রামের হ্যাশট্যাগ ওয়ার্ডরকসে দয়া করে পোস্ট দেবেন। আমি যখন জানতে পারি, কোনো লোক কঠিন সময় পার করছে, তখন আমার লাভইটফরোয়ার্ডলিস্ট স্বেচ্ছাসেবকদের জানাই। তাঁরা চিঠি, শুভেচ্ছাপত্র এবং নানা রকম মজার জিনিস পাঠিয়ে তাঁর দুঃখ ভোলানোর চেষ্টা করে। সারা পৃথিবীতে আমাদের এমন স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি।

 

কোলাকুলি করলে কষ্ট কমে

সাম্প্রতিককালের এক গবেষণা বলছে, কোলাকুলি করলে বা আন্তরিকভাবে জড়িয়ে ধরলে অক্সিটোসিনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা আমাদের ভালো বোধ করতে সাহায্য করে। আগে থেকেই জানা ছিল, অক্সিটোসিন শান্তির অনুভূতি তৈরি করে আর উদ্বেগও কমায়। বিশেষ করে নবজাতক জন্মের সময় গর্ভবতী মাকে ভালো করে জড়িয়ে ধরার কথা অনেক দিন ধরেই চালু আছে। উল্লেখ্য, মস্তিষ্ক যখন অক্সিটোসিন নিঃসরণ করে, তখন পৃথিবীর প্রতি একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। গবেষকরা আরো বলছেন, জড়িয়ে ধরলে রক্তচাপ কমে, হৃৎকম্পন স্বাভাবিক হয়। 

১৬ আগস্ট ২০১৮

 

ভিভ লা ফ্রান্স

প্রতিবছর ফ্রান্সে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় ৭৮ লক্ষ টন খাবার ফেলে দিতে হয়। তাই সংসদে বিল পাস হয়েছে খাবারগুলো সময় অতিক্রমের আগেই মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার। দোকানদারদের এ আইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নয়তো পঁচাত্তর হাজার ইউরো জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ফুড ব্যাংক নামে একটি সংস্থা খাবারগুলো মজুদ করার জন্য বেশ কিছু ওয়্যারহাউস ভাড়া নিয়েছে। প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা অভাবী মানুষের কাছে এ খাবার পৌঁছে দেবে।

২২ এপ্রিল ২০১৬ 

 

বইগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছিল

প্রায় ২০ হাজার বই। সবই কুড়িয়ে পাওয়া। শুরুটা ২০ বছর আগের। কলম্বিয়ার হোসে আলবার্তো গুইতেরেস তলস্তয়ের আনা কারিনেনার একটি কপি আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন। বইটি উদ্ধারের পর হোসে সিদ্ধান্ত নিলেন বই কুড়াবেন। একটি পাঠাগার গড়বেন শুধু কুড়িয়ে পাওয়া বই দিয়ে। সম্প্রতি তাঁর বইয়ের সংখ্যা ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তিনি পাঠাগারের নাম দিয়েছেন শব্দের শক্তি। এটি সবার জন্যই উন্মুক্ত।

২৩ মার্চ ২০১৮

হ্যাপি নিউজের কয়েকজন

জেবি অ্যালেন : হ্যাপি নিউজের একজন সম্পাদক। নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করেন। আর নিজের অনলাইন শপ থেকে এমন সব জিনিসপত্র বিক্রি করেন, যেগুলো মানুষকে সুখী করে।

অ্যাবি স্টাফোর্ড : হ্যাপি নিউজের শুরুর সংখ্যা থেকেই লিখছেন। বয়স ২৪। ইংরেজি ভাষা নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। ছুটির দিনে তাঁকে বাসায় পাবেন না। আকাশে তাকিয়ে দেখতে পারেন তিনি হয়তো স্কাইডাইভ দিচ্ছেন।

ডেভিড হেপেল : জীবনের উত্থান-পতনময় চতুর্থ দশক অতিক্রম করছেন তিনি। তবে বিবাহিত জীবনে সুখী। তাঁর নিজের একটি স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় এমন জিনিসের গিফট শপ আছে।

গ্যাব্রিয়েল ট্রিনর : তিনি একজন শিক্ষক, লেখক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা থেকে রেহাই নিতে আপনি তাঁর সঙ্গে বসতে পারেন। অনলাইনেও তাঁর লেসন নিতে পারেন। তিনি কিছু বইপত্রও লিখেছেন। হ্যাপি নিউজের সঙ্গে আছেন শুরু থেকেই।

উনা মেকেল : গ্লাসগোতে থাকেন। অবসরে লেখেন, সংগীত রচনা করেন। তাঁর কবিতার একটি ব্লগ আছে। বন্ধুরা তাঁকে বলে সুখী এবং ঝলমলে। উনা যেকোনো পরিস্থিতির ভালোটাই খুঁজে বের করেন।

মন্তব্য