kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

বিকেলবাড়ি

আহো জম্ফা বহাই

জম্পেশ আড্ডা মানে জম্ফা। একটি রেস্টুরেন্টের নামও। বাঁশ বেড়ার, ছন ছাউনির এ রেস্তোরাঁ। নিরিবিলি তার পরিবেশ। নাঈম সিনহা একদিন খেয়ে এসেছেন

৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আহো জম্ফা বহাই

 দিনটায় কটকটে রোদ ছিল। যাচ্ছিলাম পূর্বাচল। পেটে ছুঁচো ডন লাগালে ভাবলাম, একটু বিরতি দরকার। নীলা মার্কেট পার হয়ে সোজা কিছুদূর গেলাম। রাস্তা যেখানে শেষ হয়ে আসছিল, তার অল্প আগে ডান দিকে হলুদ সাইনবোর্ড দেখলাম। তাতে কালো হরফে লেখা জম্ফা। বাইরে থেকে বাগানবাড়ি বলে মনে হলো। ভেতরে ঢোকার পর প্রথম পেলাম রান্নাঘর। এরপর কিছুটা এগিয়ে বাঁয়ে একটা লম্বা কুঁড়েঘর। মাটির ওপর বেঞ্চ পাতা কয়েকটি। বাঁশের বেড়া আধা খোলা। আলো, বাতাস অনেক। এরপর ডানে দোতলা একটি ঘর। কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। বসার পর বালু নদের দেখা পেলাম। আরো দেখলাম একটা টংঘর। সেখানে চা-কফি আর জুস পাওয়া যায়। জম্ফার এখানে-সেখানে বেশ কয়েকটি আমগাছ। এর সব আসবাব কাঠ আর বাঁশের।

 

কথা হয়

জম্ফার উদ্যোক্তাদের একজন মিঠু। পড়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। বললেন, ছোট ভাই ইমনের সঙ্গে আড্ডা দিতাম পরীবাগের মজিদ মামার দোকানে। ওই আড্ডায়ই একটা রেস্তোরাঁ করার কথা মাথায় আসে। বন্ধু জায়েম আর আসিফ ভাই যোগ দিলেন। নাম কী হবে—কথাটা উঠল একদিন। গণমাধ্যমে কাজ করে এমন কিছু বন্ধুর কথা মনে পড়ল। তারা প্রায়ই বলে, আহো জম্ফা বহাই। জম্ফা বলতে তারা আড্ডা বোঝাত। প্রস্তাব করতেই সবার মনে ধরল নামটি। তারপর টং দোকানের ভাবনা রেখেই দোকানের সাজসজ্জা করলাম। শুরুটা ২০১৭ সালে। চেয়েছিলাম আর দশটা রেস্তোরাঁর চেয়ে আলাদা হবে জম্ফা। এটি হবে খোলামেলা। এসি বা মিউজিক সিস্টেম থাকবে না। মানুষ একটা গ্রামীণ পরিবেশে মন খুলে আড্ডা দিতে পারবে। আমরা এখানে কবুতর পালি, টমেটো আর লালশাক লাগাই। সব মিলিয়ে একটা গ্রামীণ পরিবেশ।

 

 

খাবার

মেন্যুটা ছোট; কিন্তু আকর্ষণীয়। মিঠুরা বলে, ‘সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস।’ খাবারের দামও নাগালের মধ্যেই। চিকেন চাপ-তান্দুরি-বারবিকিউ ১৪০-১৫৫ টাকা, বিফ চাপ-আচারি-কাবাব ১৭০-২০০, মগজ-কাঁকড়া-মাটন-চিকেন গ্রেভি ২০০-২৫০ টাকা। ড্রিংকস-ফ্রেশ জুস ছাড়াও ফ্রাইড রাইসের চারটি সেট মেন্যু রয়েছে ২৬০-৩২০ টাকায়।

 

মেলা

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দেশি পিঠার মেলা বসেছিল জম্ফায়। মূলত শহরবাতি নামের একটি সংগঠন ছিল আয়োজক। ২০১৮ সালে আরেকটি মেলা হয়। সেইবার দেশীয় পণ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সরোবরি, কাকতাড়ুয়া, র, যথাশিল্পসহ বেশ কিছু দেশি উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছিল।

 

শিল্প শিল্পীবান্ধব

আপনি কি স্কুল-কলেজজীবনে গান করতেন বা গানের দল ছিল? উত্তর হ্যাঁ হলে আপনাকে খুঁজছে জম্ফা। হারিয়ে যাওয়া এমন গানের দলকে গান গাওয়ার সুযোগ করে দেয় জম্ফা। যেমন কুমিল্লার ত্বকির কলেজজীবনে ব্যান্ড ছিল। সেটি পরে ভেঙে যায়। তিনি সম্প্রতি জম্ফায় আসেন। পুরনো একটা গানও করেন। সেই গান বেশ জনপ্রিয়তা পায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এ ছাড়া জাহিদ গগন নামে এক তরুণ পরিচালক গণ-অর্থায়নে বানাচ্ছেন সিনেমা ‘প্রেমপুরাণ’। তাঁর সিনেমার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে জম্ফা।

 

লাইব্রেরি

মানুষের কাছ থেকে চেয়ে আনা বই নিয়ে এক কোণে রয়েছে একটি লাইব্রেরি। বেড়াতে আসা অতিথিরা চাইলেও দিতে পারেন নিজেদের বই। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধসহ নানা ধরনের বই রয়েছে। মিঠু বলেন, ‘শেষ বিকেলে এক কোণে বসে পড়তে পারেন জীবনানন্দের কবিতা। কেউ হয়তো এখানে এসে পুরো বই পড়ে না; কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেওয়া।’

মন্তব্য