kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ফেসবুক থেকে পাওয়া

৩০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

তাহারেই পড়ে মনে

২০১৭ সালের সম্ভবত ২৮ অক্টোবর। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বিভাগীয় বোটানিক্যাল অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. জাকির হোসেন স্যার আমাকে ফোন করে অনুরোধ করলেন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করার জন্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানির ছাত্র ছিলেন, সেই সূত্রে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক। অনুষ্ঠান শুরুর আগে লক্ষ করলাম—দীর্ঘকায়, প্রসন্ন মুখের বিশিষ্ট একজনকে উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই কাছে গিয়ে সালাম বিনিময় করছেন। আলোচনা পর্বে বক্তারাও অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে তাঁকে সম্বোধন করছেন। তিনি এই বোটানিক্যাল অলিম্পিয়াডের উদ্যোক্তা বলে নয়, অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বলেও নয়, অনেকেই তাঁর ছাত্র বলে। তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সময় হলে আমি মজা করে বললাম, ‘‘সম্মানিত সুধী, ছেলেবেলায় পড়েছি, ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র’; কিন্তু এ পর্যায়ে এমন একজনকে বিনীত আহ্বান জানাব, যিনি বলতে পারেন, ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি শিক্ষক’।’’ করতালিতে মুখর হয়ে উঠল মিলনায়তন। হাসিমুখে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ালেন ড. শামীম আহসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানির অধ্যাপক। তাঁর কথা শুনে মুগ্ধ হলাম। আলোচনা পর্ব শেষে আমি চলে এলাম।

রাতে একটা অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলো। পরিচয় জানতে চাইলে ওপ্রান্ত থেকে বললেন, ‘আমি শামীম আহসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানির শিক্ষক। জাকির (এডিসি) আমার ছাত্র। ওর কাছ থেকে আপনার নাম্ব্বার সংগ্রহ করেছি। আপনার সঞ্চালনায় আমি এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে না পারলে নিজেকে অপরাধী মনে হবে।’ এরপর আমি কী করি, কোথায় থাকি জানতে চাইলেন। বললেন, ‘আপনি বাংলার শিক্ষক? আমি তো মনে করেছিলাম বোটানির হবেন। গাছপালা নিয়ে এত কথা জানলেন কী করে? ঢাকা গেলে অবশ্যই আমার বাসায় আসবেন।’

সেইবার মিনিট ছয়েকের মতো কথা হয়েছিল। নাম্বারটা সেভ করে রেখেছিলাম। গত বছর আমার মেয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ছিল। এই সুযোগে স্যারকে ফোন করলাম। এমনিতে ঢাকায় যাওয়া হয় না। ভাবলাম এবার দেখা করব। তাই আগে থেকেই খোঁজ নেওয়া। বেশ কয়েকবার ফোন করলাম; কিন্তু কেউ রিসিভ করল না। আমাকে ধন্যবাদ জানাতে স্যার ফোন করেছিলেন, তার মানে এই নয় যে আমার নাম্বার তিনি সেভ করে রেখেছেন। তবু চেষ্টা করতে দোষ কি? দুদিন পর আবার ফোন করলাম। একজন ভদ্রমহিলা রিসিভ করলেন। স্যারের স্ত্রী। দু-এক কথার পর আমি তাঁকে অনুরোধ করলাম স্যারকে ফোনটা দেওয়ার জন্য। তিনি আফসোসের সঙ্গে বললেন, ‘আপনি বোধ হয় জানেন না, উনি গত ডিসেম্বরে মারা গেছেন!’

কামরুন নাহার মুন্নী

সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ

আবদুর রব সেরনিয়াবাত কলেজ, বরিশাল

 

সাঁতার কাটা বড়ই কঠিন

নানুভাইদের বাড়ির পুকুরটা সুন্দর। ঘাট বাঁধানো। মাছে ভরা। দেশি হাঁস ‘হু কেয়ারস’ ভঙ্গিতে শামুক কুড়িয়ে বেড়ায়! লম্বা ঠোঁট নেড়ে প্যাক প্যাক করে। গুইসাপেরও নাকি ভালো আনাগোনা আছে। আমাদের হাতিয়া সফরের অন্যতম আকর্ষণ হলো এই পুকুর। ইনডোর স্টেডিয়ামের কেমিক্যাল দেওয়া পানিতে শেখা সাঁতারবিদ্যার প্রয়োগ করতে চায় আমার ভাই উসামা। মাকনুন ক্যাডেট মানুষ, সাঁতারের বেসিক জ্ঞান সে রাখে। মামা তো ভালোই সাঁতার কাটতে জানেন; কিন্তু এ ব্যাপারে আমি একেবারেই নবীন! তবে এবারের ট্যুরে আমি সাঁতারটা শিখে ফেলতে চাই। টলটলে পানি দেখে আমার অবস্থা অনেকটা ‘বাহির বলে দূরে থাকুক-ভেতর বলে আসুক না,’ গানের মতো। সকালে সবাই গুড়-নারকেলের চিতই পিঠা খেয়ে মোটামুটি গরম। পুকুরের ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রার একটা সামঞ্জস্য করতে ঘাটের সিঁড়িতে নামছে আর হি-হি, হু-হু করছে। হুট করে মামা ও উসামা ঝুপ করে পানিতে ঝাপ দিল। মাকনুনও সাহস করে এগোচ্ছে। আমি তখনো মাত্র তিন সিঁড়ি নেমেছি। পরের সিঁড়িগুলো ভয়াবহ পিচ্ছিল। পড়ে গেলে নির্ঘাত বিপদ। রীতিমতো অসহায় আমি! এমন সময় আনন্দের অসীম সমুদ্র হাতে করে নিয়ে হাজির হলেন নানুবাড়ির সোলাইমান ভাইয়া। ওনার হাতে একটা লাইফ জ্যাকেট। বাহ! আমাকে আর পায় কে!

লাইফ জ্যাকেট গায়ে দিয়ে কষে গিঁট বেঁধেছি। তবে ভয় করছে—যদি ডুবে যাই!

এভাবে কিছু সময় দ্বিধায় কাটানোর পর, যাবতীয় জড়তাকে কাঁচকলা দেখিয়ে ধাক্কা দিয়ে একেবারে অথৈ পানির মাঝে ফেলে দিল মাকনুন!

আমি মাঝ পুকুরে। টাইটানিক ছবির শেষ দিকে মহাসাগরে ভেসে থাকা মৃত মানুষের মতো মনে হচ্ছে নিজেকে! সাঁতার কাটার সময় ভার নাকি হালকা করতে হয়—পানিতে হাত-পা নাড়াতে হয়। আমি কিচ্ছু করতে পারছি না! মনে হচ্ছে, পুকুরের সব পানি আমাকে আটকে রেখেছে! পানি বড়ই কঠিন! অনেকক্ষণ এলোপাতাড়ি হাত-পা ছোড়াছুড়ির কারণে আমি একেবারে পুকুরের মধ্যিখানে চলে এসেছি! সেখানটা খুব গভীর। আমাকে উদ্ধার করার আগ্রহ কারোরই নেই! ঘণ্টাখানেক দাপাদাপি করে সবাই উঠে পড়েছে। পাড়ে বসে ভয় দেখাচ্ছে—‘আমাক আর তোলা হবে না! একেবারে তিন দিন পর, ফেরার সময় আমাকে তুলে আনা হবে। তত দিনে আমার লেজ গজিয়ে যাবে, আমি মৎসকন্যা হয়ে যাব!’ এসব শুনে চিৎকার করে নানুভাই-নানুমণি সবাইকে ডেকেছি। তাঁরা হাসছেন আমার কাণ্ড দেখে। একসময় নানুভাই আমাকে রশি ধরার প্রস্তাব দিলেন। ব্যাপারটা এমন—উনি পানিতে রশি ছুড়ে মারবেন, তা ধরে আমি পাড়ে চলে আসব! রশি বেয়ে পাহাড়ে চড়তে হয় জানতাম। পানির মানুষকে উদ্ধার করা যায় জানা ছিল না! এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেল। যাহোক, দিন শেষে মুরব্বিরা বললেন, আমার দ্বারা জীবনে অনেক কিছুই হবে, শুধু সাঁতার কাটা বাদে!

জুয়াইরিয়া জাহরা হক

মিরপুর, ঢাকা

 

সেই নাটক, সেই গান

কয়েক বছর আগে ইটিভিতে একটি ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হতো। রাত ৮টায় শুরু হতো। তখন থাকতাম রংপুর ক্যান্টনমেন্টে। নাটক শুরু হলে আম্মু টিভির ভলিউম বাড়িয়ে দিতেন। কান পেতে থাকতাম এই সময়টার জন্য। শোনা মাত্রই দৌড় দিতাম টিভিরুমের দিকে। আব্বু রাগ করে বলতেন, ‘লেখাপড়া বাদ দিয়ে মা-ছেলে মিলে টিভি দেখা হচ্ছে?’ মা বলতেন, ‘৩০ মিনিটের নাটক দেখলে পড়াশোনার এমন কোনো ক্ষতি হবে না।’

নাটক শুরু হতো ঢাকা শহরের রাস্তার একটি দৃশ্যের সঙ্গে একটি গান দিয়ে—‘ব্যস্ত শহরে ঠাসবুনটের ভিড়ে, আজও কিছু মানুষ স্বপ্ন খুঁজে ফিরে।’

তখন জানতাম না এটা অর্ণবের গান। ওই নাটকের মাধ্যমেই প্রথম ঢাকা শহরের এই ব্যস্ত রাস্তাগুলো দেখেছি।

কয়েক বছর ধরে ঢাকায় আছি। মাঝেমধ্যে জ্যামে বসে থাকলে এই গানটা শুনি; নস্টালজিক হয়ে যাই। এখন চাইলেই ইউটিউবে যখন-তখন যেকোনো নাটক দেখতে পারি; কিন্তু ছোটবেলার ওই নাটক আর গানগুলো মনে এতটা দাগ কেটেছিল—সেটা আজ এত শত শত নাটকের ভিড়েও খুঁজে পাই না।

আল সানি

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য