kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

ফেসবুক থেকে পাওয়া

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

দ্য বাইক রাইড

আমরা তখন নোয়াখালীর হাতিয়ায়। উপজেলার ওছখালি থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে চরকিং বলে একটা গ্রামের বাজারে। এখানে আমরা যেন ‘এলিয়েন’। তাই তাবৎ লোকজন মহা উৎসাহে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে! এদিকে আমাদের হালুয়া টাইট! মাগরিবের ওয়াক্তও পার হয়ে গেছে। এক আপুর বাসায় বেড়াতে এসে আটকে গেছি। দ্রুত বাড়ি ফেরা দরকার। তিন দিনের হাতিয়া সফর শেষে আগামীকালই ঢাকার লঞ্চে উঠব। এখন কোনো ইজিবাইক পাওয়া যাচ্ছে না। আর এখানে রিকশাও চলে না। বিকট শব্দ করে লেগুনার বড় ভাই গোত্রীয় এক বাহন হাতিয়ায় চলাচল করে। এখানকার মানুষ এটাকে ‘বাস’ বলে ডাকে। সন্ধ্যা ফুরিয়ে গেলে এই ‘বাস’ও আর চলে না। শেষ ভরসা বাইক। ঘটনা হচ্ছে, আমরা তিনজনই নারী। তারপর আবার রাস্তার এক পাশে ধানক্ষেত, আরেক পাশে ভূতুড়ে জঙ্গল। আর কুয়াশা তো আছেই। অন্ধকার রাত আর সম্পূর্ণ অচেনা এক লোকের বাইকের পেছনে বসাও কম ভয়ের ব্যাপার নয়।

আর কোনো উপায় না দেখে কাঁচুমাচু করতে করতে একটা বাইকে বসি। আমি আর ছোট বোন মাকনুন এক বাইকে। আরেক বাইকে বসেছেন নানু। বাইক স্টার্ট দেওয়ার আগে চালকদের বারবার বলেছি, ‘ভাই আস্তে চালাবেন।’

আমি বসেছি মাঝে। অস্বস্তির চরমে আছি। মাকনুন জাপটে ধরে আছে আমাকে। মনে হচ্ছে ছোট বোনকে সম্ভাব্য বিপদ থেকে বাঁচিয়ে রাখা আমারই দায়িত্ব। ওর শরীরের বেশ খানিকটা বাইকের বাইরে। যেন একটু এদিক-সেদিক হলেই পড়ে যাবে। চারদিকে অদ্ভুত রকমের অন্ধকার। চাঁদের আলো আর কুয়াশা মিলেমিশে ধানক্ষেতের ওপর সাদা একটা স্তর তৈরি করেছে! অনেক দিন পর জোনাক পোকারও দেখা মিলল।

রাস্তায় স্পিড ব্রেকার এলে আমরা চাপা স্বরে কিচিরমিচির করি। আমি একটা হাসির কথা বলি আর মাকনুনের প্রচণ্ড নাক চুলকানোর বেগ হয়! দুজন দুজনকে না হাসানোর অনুরোধ করি, হাসতে হাসতে ধপাস করে পড়ে গেলে যৌথ প্রযোজনায় আহত হতে হবে!

ক্লাস নাইন-টেনের মেয়েদের ফ্যাসিনেশনের একটা বড় জায়গাজুড়ে থাকে মোটরসাইকেল বা বাইক। বাইকওয়ালা ছেলেপেলে দেখলে তাদের মনে আবেগের উৎপাদন হয়! বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের অনেককে ভয়াবহ বাইক অ্যাক্সিডেন্টে পড়তে দেখে মেয়েদের বাইকসংক্রান্ত অতি আবেগী স্বপ্ন উড়ে যায়। কিন্তু ছেলেরা আজীবনই বাইকপ্রেমী। আমি আর মাকনুন দুপুরেই বলাবলি করছিলাম এসব কথা। বলছিলাম, আমাদের বাইকে চড়ার গুপ্ত ইচ্ছার কথা। খায়েশ যে এমনভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধরা দেবে কে জানত!

মাঝ রাস্তায় যাত্রাবিরতি। তখন আমরা সিট অদল-বদল করেছি। যেতে যেতে আশপাশে দোকানের সাইনবোর্ডের নাম পড়ে রাখছি। মনে মনে ভয় পাচ্ছি, চালক যদি বদ লোক হয়! রাস্তার বাঁকে বাঁকে ভয় আর ভালোলাগার অনুভূতি!

এভাবে একসময় বাড়ি পৌঁছে যাই। ভাগ্য ভালো, চালক ছিলেন ভদ্রলোক।

জুয়াইরিয়া জাহরা হক

মিরপুর, ঢাকা

 

ললাটে লাল টিপ

বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে সবখানে। একটু একটু করে গাছের ধূসর পাতা ঝরে পড়ছে। কচি নতুন পাতায় পাতায় সেজে উঠছে প্রকৃতি। ফুলের বাগানে শুধুই রঙের খেলা।

প্রিয়ন্তি, তোমার ঢেউ খেলানো কালো চুলের মাঝ বরাবর সিঁথি, পেছনে গোলাপের খোঁপা, হলুদ-লাল শাড়ির লুকানো ভাঁজ, চোখের পাতায় কাজল, রাঙা ঠোঁট, ললাটে নীল টিপ—এ যেন পুরো পৃথিবীর ফাগুনমাখা বসন্ত! কাঁপা কাঁপা হাতে এমন প্রকৃতি আর প্রেমমাখা রঙের মিশেলে ‘বসন্তের চিরকুট’ প্রিয়ন্তির মুঠোফোনে পাঠায় নিলয়। কিন্তু তত্ক্ষণাৎ কোনো উত্তর আসে না। নিলয়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। ঘণ্টাও পার হলো, ফিরতি খুদে বার্তা আর এলো না। সময়ের ব্যবধানে নিলয়ের ওপর যেন নীরব লজ্জা ভর করেছে। প্রিয়ন্তিকে নিয়ে একটু একটু করে হৃদমাঝারে ভালোলাগা-ভালোবাসার ভেলা সাজালেও কখনো তা বলতে পারেনি।

এখন নীলয়ের সাজানো বাগানে যেন আগুন লেগেছে। আগুন লেগেছে মনে। প্রিয়ন্তির কাছ থেকে ফিরতি এসএমএসের আশায় গোটা রাত নির্ঘুম কেটে যায় নীলয়ের। বসন্তের এমন দিনে প্রিয়ন্তিকে মনের কথা জানানো ঠিক হয়নি—এমনটি ভাবতে ভাবতে পরদিন কোনো রকমে ভার্সিটিতে যায় নিলয়। ক্লাসে বসেও নিজেকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না তার। লজ্জায় লাল বনে যাওয়া দুটি নয়নে কত রং খেলা করলেও তা প্রকাশ করার কোনো ভাষা নেই। ক্লাস শেষ। মাথা নিচু করে বসে থাকে সে। এমন সময় নিলয়ের পাশে এসে বসে প্রিয়ন্তি। নিলয়ের হাতে হাত রাখে। বলে, ‘দেখো নিলয়, মাথাভরা ঢেউ খেলানো কালো চুলের মাঝ বরাবর সিঁথি, পেছনে টেনে বাঁধা গোলাপের খোঁপা আর ললাটে লাল টিপ। এটা শুধুই তোমার জন্য। দেখবে তুমি?’

সাধন সরকার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

বাবা মানে ভালোবাসা

একবার বাবার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করেছিলাম। এক দিন পরই ঘুরতে যাওয়ার কথা। তাই খুশিতে সেদিন খুব এক্সাইটেড ছিলাম। কিন্তু হঠাৎই বিপত্তি। আগের দিন দুপুরে কোনো এক কাজে ঢাকা চলে গেলেন বাবা। সকালে মনে খুশি থাকলেও বিকেল থেকে মন খারাপ হয়ে যায়। রাতে পড়ার টেবিলে বসিনি। না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

পরদিন সকালবেলাটা ছিল স্বপ্নের মতো। বাবা ডাকছিলেন। বললেন, ‘তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে নে।’ প্রথমে ভেবেছিলাম, স্বপ্ন দেখছি; কিন্তু না সত্যি। কিছুক্ষণ পরই ঘোরার জন্য বেরিয়ে পড়লাম আমরা। আমার জীবনে সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হিসেবে আছে সেই দিনটি। বাবাকে আজও ধন্যবাদ দিই সেই সুন্দর সকাল উপহার দেওয়ার জন্য।

ওয়াসিক হোসেন রুপক

অষ্টম শ্রেণি

 কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল।

মন্তব্য