kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

সন্ধানী

বন্ধুদের একটি দল। বেড়ায় আর প্রশ্ন করে। খোঁজে বাংলার হারানো গল্প। যেগুলো লুকিয়ে আছে ষাট গম্বুজ মসজিদ বা কোদলা মঠে। দশ বছর হচ্ছে তারা খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে। একটি প্রামাণ্যচিত্রও বানিয়েছে সম্প্রতি। দেখতে গিয়েছিলেন নাঈম সিনহা

৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সন্ধানী

ফাইন্ডিং বাংলাদেশ

দলটির নাম ফাইন্ডিং বাংলাদেশ। ভাবনাটি মূলত আদনান ফকিরের। একবার তারা বেড়িয়েছিল দেশের উত্তরাঞ্চলে। উত্তরাঞ্চলের প্রত্ননিদর্শন ও সেগুলোর গল্প নিয়ে পরে একটি প্রামাণ্যচিত্রও বানিয়ে ছিল। ডেইলি স্টারের সেলিব্রেটিং লাইফ উৎসবে পুরস্কারও জিতে নিয়েছিল। আসলে ছবিটির নাম ছিল ফাইন্ডিং বাংলাদেশ। পরে এটিই দলের নাম হয়ে যায়।

 

তাঁরা তখন ছাত্র মাত্র

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাঁরা। একের সূত্রে আরেকের আর আরেকের সূত্রে অনেকের চিন-পরিচয় হয়ে যায়। গল্প হয়। ভাব বিনিময় হয়। আদনানের পরিকল্পনা নিয়ে আলাপসালাপ চলতে থাকে। ২০০৯ সাল হবে সেটা। আদনান বেড়াতে চায় বন্ধুবান্ধব মিলে আর জানতে চায় প্রত্ননিদর্শনগুলোর গল্প—যে গল্প বইতে লেখা নেই, আলোচনায়ও আসেনি কোনো দিন। একপর্যায়ে তাঁরা দক্ষিণবঙ্গেও যাত্রা করেন। দক্ষিণের যাত্রায়ই হারানো গল্পের খোঁজ করার আসল শুরু।

 

ফাইন্ডিং বাংলাদেশ দলের সদস্যরা

যেভাবে খোঁজ

ফাইন্ডিং বাংলাদেশের এক সদস্য তামজিদ আহমেদ আনন্দ। বললেন, ‘আমরা ঘুরতে পছন্দ করি। আর পছন্দ করি প্রশ্ন করতে। বেড়াতে গিয়ে আমরা চায়ের দোকানগুলোতে ঘণ্টা পর ঘণ্টা পার করে দিতাম। স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে গল্পে বসে যেতাম। জানতে চাইতাম—স্থাপনাটি কবেকার, কিভাবে হলো ইত্যাদি। দেখতাম বইতে পড়ে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে অনেকই ফারাক অনেক জায়গার।’ নির্মাতা আদনান ফকির বললেন, ‘খুঁজে পাওয়া ৪২টি গল্প আমরা প্রাথমিকভাবে বাছাই করেছিলাম। সেখান থেকে ১১টি গল্প পরে ফাইনাল করা হয়েছে।’

 

ছবিটি এমন

প্রামাণ্যচিত্রটি শুরু হয়েছে কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতা আবৃত্তি দিয়ে। তারপর নির্মাতাদলের নামের সঙ্গে শহর, নদী, প্রকৃতি দেখানো। এরপর দর্শকের সঙ্গে লু অন হুইলস নামের বিশেষ এক গাড়ির পরিচয় ঘটে।

প্রামাণ্যচিত্রটিতে বারোভূঁইয়ার এক ভূঁইয়া রাজা প্রতাপাদিত্যের গল্প যেমন আছে, আছে খানজাহান আলীর গল্প। আছে গাজী-কালু-চম্পাবতীর গল্পও। বলা হয়েছে মাকারার কথা। বনবিবির গাথাও আছে। উল্লেখ্য, মাকারার দেখা পাওয়া যায় প্রাচীন মন্দির বা মসজিদে। এটি একটি কাল্পনিক প্রাণী, যার মুখ হাতির মতো, দাঁত ও শরীর কুমিরের মতো আর পেছন দিকটা শুশুকের মতো। প্রাচীন স্থাপনাগুলোর গায়ে যেসব টেরাকোটা (পোড়া মাটির ফলক) আছে, তার কোনো কোনোটায় দেখবেন মাকারাকে।

 

সফদর ডাক্তার ছবির এক চরিত্র

মাঝেমধ্যেই ছবিটিতে সফদর ডাক্তার নামের এক চরিত্র হাজির হন। তিনি বেশ রস করে ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা করেন। তবে সুন্দরবন আর বনবিবির কাহিনি বলার সময় তাঁকে উত্তেজিত দেখা যায়। রাগের মাথায় একাই চলে যান বন রক্ষা করতে। পরে অবশ্য আহত হয়ে ফিরে আসেন। বলতে শুরু করেন আরেক গল্প—সাতক্ষীরার দেমরাইল মন্দিরের কামিনী ভূতের।

 

বিশেষ গাড়ি লু অন হুইলস

দুটি রিকশা জোড়া দিয়ে অনেকটা ভ্যানের মতো দেখতে এই গাড়ি। চালকসহ তিন-চারজন বসতে পারে এতে। এর পেছন দিকে টয়লেটও আছে। তাই নাম লু অন হুইলস। নির্মাতাদল এই গাড়িতে করেই ঘুরে বেড়ায়।

 

শেষের গল্প

ছবিটি দেখানো হয়ে গেলে আদনান ফকির এসে দাঁড়ান মঞ্চে। বলেন, ‘দীর্ঘ সময়ের লম্বা এই কাজে অনেকের অবদান আছে। আমরা এখন সবাই কর্মজীবনে ঢুকে পড়েছি। ছাত্র থেকে আমিই যেমন শিক্ষক বনে গেছি। পকেট মানি থেকে টাকা বাঁচিয়ে কাজটি করেছি আমরা।’

 

একনজরে

নাম : বাংলাদেশের হারানো গল্প

পরিচালক : আদনান এম এস ফকির

দৈর্ঘ্য     : ৭৬ মিনিট।

দেখানো হয়েছে : ১৭টি ঐতিহাসিক নিদর্শন

বলা হয়েছে     : ১১টি গল্প

পাত্র-পাত্রী : প্রায় পঞ্চাশ জন (সবাই দলের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা