kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

উদ্যমী বাংলাদেশ

আরজুমান আরা খামারি

৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আরজুমান আরা খামারি

ভালো লাগেনি আরজুমান আরার মালয়েশিয়া থাকতে। দেশে ফিরে কিছু একটা করতে চেয়েছিলেন। টার্কি দিয়ে শুরু, পরে উটপাখিও তুলেছেন খামারে। এখন একজন সফল খামারি আরজুমান আরা। দেখা করে এসেছেন এমদাদুল হক মিলন

পুরো নাম মোসাম্মৎ আরজুমান আরা।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার তর্পণঘাট গ্রামে জন্ম। বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে ভূগোল বিষয়ে স্নাতক। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর মালয়েশিয়ায় যান; কিন্তু ছোটবেলা থেকেই নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন। দেশে ফিরে আসার সুযোগও মিলল; কিন্তু কী করবেন স্থির করতে পারছিলেন না। তবে বেশিদিন ভাবতে হয়নি। ইউটিউব থেকে জানলেন টার্কির কথা।

১২ বিঘায় তিন হাজার

টার্কির খামার করে লাভবান হয়েছেন এমন খামারির কথা জানতে পারলেন ইউটিউব থেকে। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করলেন। তিনি উৎসাহ দিলেন। পরে ১০০ টার্কির বাচ্চা নিয়ে আসেন নওগাঁ থেকে। সেটা ২০১৬ সাল। বাড়ির ছাদেই বাচ্চাগুলো বড় করে তুলতে পারেন সফলভাবে। পরে উপজেলা সদর থেকে আধা কিলোমিটার দূরে উত্তর শ্যামপুর মৌজায় ছয় বিঘা জমি কেনেন। বাণিজ্যিকভাবে টার্কির খামার গড়ে তোলেন। তাঁর খামারটির আয়তন ১২ বিঘা। এখন তিন হাজার টার্কি আছে তাঁর খামারে। রাজধানীসহ সারা দেশেই আরজুমান আরার টার্কির বাজার, বিশেষ করে অভিজাত হোটেলগুলোয় তিনি টার্কির মাংস পাঠান। প্রায় ৫০ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে তাঁর মাধ্যমে।

 

টার্কির পর উটপাখি

ইউটিউব আর ফেসবুক থেকে উটপাখির খবর পান আরজুমান। এখন তাঁর খামারে পাঁচটি উটপাখি আছে। কিন্তু উটপাখি নিয়ে সফল হতে পারবেন কি না বুঝতে পারছেন না। বড় সমস্যা খোলা জায়গার। উটপাখির জন্য যে পরিমাণ খোলা জায়গার প্রয়োজন তা নেই তাঁর।

 

২৫ হাজার সক্ষমতা

দুটি অটোমেটিক ইনকিউবেটর মেশিন আছে তাঁর খামারে। প্রতি মাসে ২৫ হাজার বাচ্চা ফোটানোর সক্ষমতা আছে। তিনি নিজের টার্কিগুলোর বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করেন। অনেক ক্ষুদ্র চাষিও এখান থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে নেন। দিনাজপুর তো বটেই, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় থেকেও আসেন অনেকে।

আরজুমান আরার একদিন

ফজরের নামাজ পড়ে রান্নায় বসে যান। স্বামী কাজে বেরোনোর পর তিনি সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেন। তারপর যান খামারে। বাচ্চা ফোটানো, পাখিদের খাওয়ানো, খামার পরিচ্ছন্ন করা ইত্যাদি কাজই তিনি তদারকি করেন। নতুন একটি তিনতলা ভবন বানাচ্ছেন খামারে। তার খোঁজখবরও রাখেন নিয়ম করে। প্রতি মাসে তাঁর ইকো অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হয়। অথচ একসময় কথা কম শুনতে হয়নি, বিশেষ করে এই কথাটি—মেয়েদের কি এসব কাজ মানায়? 

এখন সেসব কথার দিন ফুরিয়েছে। তাঁকে দেখে বরং অনেক নারী উৎসাহী হয়ে এগিয়ে এসেছেন। ভবিষ্যতে খামারটি আরো বড় করার ইচ্ছা আছে তাঁর। নতুন খামারিদের সহযোগিতাও দিতে চান।  কর্মসংস্থান বাড়িয়ে বেকারত্বও দূর করতে চান।

 

 

এখন একটা সিস্টেম দাঁড়িয়ে গেছে

আরজুমান আরা

 

আপনার খামারের নাম ইকো অ্যাগ্রো ফার্ম। নামটি কিভাবে বাছাই করলেন?

ইকো মানে পরিবেশবান্ধব। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপকরণ ব্যবহার করতে চাই না এখানে। সে ভাবনা থেকেই ইকো অ্যাগ্রো ফার্ম নাম দিয়েছি।

 

এমন একটি খামার গড়তে কী কী লাগে?

লেখাপড়া জানা থাকলে ভালো হয়।  টাকা তো লাগেই। খামারের জায়গা নির্বাচন একটি বড় কাজ। পরিশ্রমী হতে হবে। ধারণা থাকতে হয় পাখির খাবার ও রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে। উদ্যোক্তা হওয়ার প্রশিক্ষণ নিলে কাজে আসে।

 

খামারের হিসাব-নিকাশ, পাখির খাবার জোগাড়, পাখি বিক্রি ইত্যাদি কাজ একটু বিস্তারিত বলুন। 

খামারের হিসাব-নিকাশ আমি নিজেই দেখি। পাখির খাবারের জন্য খামারের ভেতরের জমিতে ঘাসের আবাদ করেছি। পুকুরে কলমিশাক আর কচুরিপানা চাষ করি। তবে বাইরে থেকে কিনে আনি ভুট্টা। আমাদের এখান থেকে জীবিত পাখি কিনে নিয়ে অনেকে বাজারে বিক্রি করে। টার্কি শহরে, এমনকি মফস্বলের বাজারেও বিক্রি হয় এখন। আর প্রক্রিয়াজাত গোশত আমরা সাধারণত বড় বড় হোটেলে সরবরাহ করি।

 

খামারের কাজ তো আছেই, ঘরের কাজও করেন? দুই দিক সামলাতে কষ্ট হয়?

ঘরের কাজ সামলে খামারে কাজ করা তো কিছু কষ্টেরই। এখন অবশ্য একটা সিস্টেম তৈরি হয়ে গেছে। পরিশ্রমের কাজগুলো কর্মীরাই করে। আমি দেখভাল করি। হিসাব রাখি ইত্যাদি।

 

উটপাখির আচার-ব্যবহার কেমন হয়?

পাখি হলেও উটপাখি উড়তে পারে না। উটপাখির দৌড়ানোর জন্য অনেক বড় খোলামেলা জায়গার দরকার হয়। অপরিচিত মানুষ দেখলে বা কাউকে পছন্দ না হলে তারা হিংস্র আচরণ করে।  

 

আপনার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোক কিভাবে আপনাকে সাহায্য করছে?

স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন অনেক। তাঁরা খামারে এসে কাজও করেছেন। আমি কোথাও গেলে তাঁরা দেখাশোনা করেন। স্বামী আমাকে উৎসাহ দেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা