kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ফেসবুক থেকে পাওয়া

২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

মোবাইল ভাঙছে তো তোমারটা

আমার মায়ের মোবাইলের ওপর যেন শ্রদ্ধা-ভক্তি উঠে গেছে। যদি বলি—‘মা মাথার চুল পড়ে কেন?’

মা : থাক, তুই...মোবাইল নিয়াই থাক।

—মা আমি চোখে ঝাপসা দেখি।

মা : আরো মোবাইল নিয়া থাক।

—মা মাথা ঘুরায়।

মা : আরো টেপো ফোন, তাইলে মাথা ঘুরাবে না।

—মা গায়ে জ্বর।

মা : কেন মোবাইলে চার্জ নাই?

—মা মশা কামড়ায়।

মা : আরো থাক মোবাইল নিয়া।

 

সেদিন হঠাৎ হাত থেকে পড়ে ফোনটা ভেঙে গেছে। শব্দ পেয়ে মা পাশের রুম থেকে বললেন, ‘কী পড়ছে?’

আমি চেঁচিয়ে বললাম, ‘মোবাইল পড়ে ভেঙে গেছে।’ মা তো হেসে কুটি কুটি। বললেন, ‘ভালো হইছে, আরো থাক ফোন নিয়া।’ বললাম, ‘আচ্ছা আম্মু।’ মা বললেন, ‘ভাঙছে তো। এখন দেখুম কী নিয়া থাকো!’ আমি হেসে বললাম, ‘মোবাইল ভাঙছে তো তোমারটা!’

উম্মে নিপা

উইমেন্স কলেজ, বরিশাল

 

আমাদের প্রিয় কেল্টুদা

কেল্টু নামটা আসলে আমাদেরই দেওয়া। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের কমিকসের কেল্টুর শারীরিক গঠনে মিল থাকার কারণে আমরা ওকে কেল্টু বলে ডাকতাম। আমাদের কেল্টু দা যখন ক্লাস ফাইভে ছিল, আমরা তখন ফোরে। আমরা যখন ফাইভে উঠলাম, কেল্টুদা তখনো ফাইভে। কেল্টুদার বাবা বললেন, ‘ফাইভে দুইবার থাক ছেলে। একবারে বৃত্তি নিয়ে সিক্সে উঠবে।’ কিন্তু কেল্টুদার আর বৃত্তি পাওয়া হলো না। তিন বছর পর এইট থেকে আমরা যখন বৃত্তি নিয়ে নাইনে ভর্তি হচ্ছি, কেল্টুদার মন খারাপ। বৃত্তি পায়নি সে। বাবার কথামতো আবারও তাকে এইটেই

থাকতে হলো। হয়ে গেল এক বছরের জুনিয়র। আবার চার বছর পর আমরা এইচএসসি শেষ করে বিভিন্ন

ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার মিশনে আছি। কেল্টুদার বাবা তখন কেল্টুকে বলল, ‘বাবা, এবার আর টেস্ট পরীক্ষা দিস না। পরের বার দিস। একেবার বোর্ড কাঁপায় দিবি পরেরবার।’ কেল্টুদা তাই করল; কিন্তু বোর্ড কাঁপানোর বদলে পরের বছর রেজাল্টের দিন কেল্টুদাই কেঁপে গেল। প্রথমবার কোথাও চান্স পেল না; কিন্তু তার বাবা এসে কেল্টুদাকে বলল, ‘পরের বছর হবেই, দেখিস।’

কেল্টুদার বন্ধুরা পড়াশোনা শেষ করে এখন চাকরির পেছনে ছুটছে আর কেল্টুদা কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে ফার্মগেট ওভারব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দূরে একটা কোচিং সেন্টারের সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে। তাতে লেখা, ‘নিশ্চিত চান্স’। কেল্টুদা সেই চান্সের স্বপ্ন ছুঁতে আবারও হাঁটা শুরু করল আর মনে মনে বলল, ‘আর মাত্র একটা বছরই তো।’

 

—আল সানি

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

ছাদ

যেকোনো নতুন বাসায় কিংবা অফিসে গেলেই আমি সুযোগ খুঁজি কখন ছাদে যাওয়া যায়। বেশির ভাগ সময়েই গিয়ে দেখি দরজায় একটা তালা ঝুলছে। তবে চেষ্টা করলে খুলেও যায় সেই বাধা। তার পরই ছাদ। একটি নতুন জায়গা বোঝার জন্য ছাদের চেয়ে ভালো  কোনো কিছু হয় না। পান্থপথের খুব উঁচু একটি ঝা-চকচকে ভবনে গেলাম একদিন। চারদিকে আলো আর উৎসব। ছাদে উঠে তাকিয়ে দেখি ভবনটির পেছনে বিশাল এক বস্তি। সেখানে কোনো আলো নেই, উৎসব নেই। আনন্দ আছে কি? সেটা অবশ্য ছাদ থেকে বোঝা যায় না। তার জন্য মাটিতে নামতে হয়।

 

ঢাকার অদূরে মাতুয়াইলে উঁচু একটি ভবনের ছাদ আমার খুব প্রিয়। একদিকে শুধু পুকুর, জল আর ছোট ছোট ঘর। আরেক দিকে গাছ, সবুজ মাঠ। এখানে রাতের আকাশ মনে হয় খুব কাছে। তারাগুলো যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়।

 

কাউকে খুব ভালোবাসলে অনেকে ছাদে আসে একা। কারো ওপর ভালোবাসা, বিশ্বাস ভেঙে গেলেও ছাদে আসে অনেকে। অন্ধকার রাত, বৃষ্টি হচ্ছে তুমুল, বজ্রপাতে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ের জন্য দৃশ্যমান হয় প্রিয়জন। ঝড়ের রাতে কিছু পাগল ছেলে-মেয়ের ছাদে নেমে আসে আস্ত একটা পৃথিবী।

 

কখনো ছাদে তাকিয়ে থাকি উড়ে যাওয়া বিমানের দিকে। বিমানগুলোকে মনে হয় অন্য কোনো গ্রহের অচিনপাখি। এর ভেতরে এই গ্রহের কিছু মানুষ উড়ছে, জানালা দিয়ে নিচে তাকাচ্ছে অথচ কোনো মানুষকেই দেখছে না—এমন ভাবনা পেয়ে বসে আমাকে। একসময় ভাবি, একটা মানুষ কত দূরে যেতে পারে। একটা নবজাতক মাকে দৃষ্টিসীমার বাইরে হারিয়ে ফেললে অসহায় কান্নাজুড়ে দেয়। সেই প্রিয়মুখ কত দূরে যেতে পারে? পৃথিবীর দূরতম দেশও অনেকের কাছে হাতের মুঠোয় চলে আসে। কিন্তু এর বাইরে গেলে?

মাত্রই কয়েক দিন আগে বিমান দুর্ঘটনায় অনেকগুলো প্রাণ ঝরে গেল। তাদের প্রিয়জন কখনো কি ছাদে উঠবে, একা কাঁদবে? ওই আকাশটার দিকে তাকিয়ে খুঁজবে কাউকে? উড়ে যাওয়া বিমানগুলোর কর্কশ গর্জন বুকে বাজবে? তারা আবার আঁতকে উঠবে? নাকি শুধু এই বিমানগুলোর ভয়ে আর কোনো দিন কেউ ছাদে উঠবে না?

বিজ্ঞান বলে ‘আকাশ’ বলে কিছু নেই আসলে। আমাদের দৃষ্টিসীমা যেখানে শেষ হয়ে যায়, তারও ওপারে চলে যায় অনেকে। তারা চলে যায় না-ফেরার দেশে। আহা, এমন কোনো ছাদ থাকত যদি, যেখানে এই পোড়া চোখ দেখতে পেত ওপারে চলে যাওয়া মানুষদের!

 

    —আহাদ আদনান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা