kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

আনন্দ বাংলা

তাজমহল হতো না যদি না আসত পহেলা বৈশাখ

৮ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাজমহল হতো না যদি না আসত পহেলা বৈশাখ

সপ্তম শতকের রাজা শশাঙ্ককে অনেকে বঙ্গাব্দ প্রচলনের কৃতিত্ব দিতে চান। কিন্তু উপযুক্ত দলিল না পাওয়ায় সম্রাট আকবরই কৃতিত্ব পান। আকবর নববর্ষ (নওরোজ) উদ্‌যাপন রীতিরও প্রচলন ঘটান। এই রকম এক নওরোজেই শাহজাদা খুররমের সঙ্গে দেখা হয়েছিল মমতাজের। গোড়া থেকে লিখেছেন আহনাফ সালেহীন

 

গদিনশিন হওয়ার দুই দশক পরে আকবর তখনকার পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সম্রাট। ধর্ম, দর্শন, শিল্পকলা মানে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে তখন মনোযোগী তিনি। অমর্ত্য সেন তাঁর আর্গুমেন্টিভ ইন্ডিয়ানে বলেছেন, ‘আকবর সব ধর্মবিশ্বাসীর সমান উপযোগী একটি বর্ষপঞ্জি তৈরি করতে চেয়েছিলেন।’ অনেক গবেষক বলেন, আকবর নাকি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক, সর্বজনগ্রাহ্য দিনপঞ্জির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন সিংহাসনে আরোহণের দিন থেকেই। বস্তুত কর সংগ্রহের জন্য তাঁর একটি ফসলি বর্ষপঞ্জির দরকার হয়ে পড়েছিল। তিনি এ কাজে আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজীকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি তখনকার দিনের খ্যাতিমান জ্যোতির্বিদ। আকবরের মন্ত্রী আবুল ফজল আকবরনামায় লিখেছেন,  ফসল সংগৃহীত হয় সৌর বর্ষপঞ্জি অনুসারে। তাই হিজরি সালের পাশাপাশি একটি সৌর বর্ষপঞ্জির প্রয়োজন ছিল। দ্বীন-এ-ইলাহির মতো আকবর সেটির নাম দিয়েছিলেন তারিখ-ই-ইলাহি।  ১৫৮৪ সালে এ বর্ষপঞ্জির প্রচলন ঘটে। কিন্তু সাল গণনা শুরু হয় আরো পিছিয়ে গিয়ে ১৫৫৬ সালে। আকবরের সিংহাসন আরোহণের বছর থেকে।

মাসের নামগুলো নেওয়া হয়েছে নক্ষত্রের নাম থেকে, যেমন বৈশাখ বিশাখা থেকে, ভাদ্র এসেছে ভদ্রপদ থেকে, চৈত্র এসেছে চিত্রা থেকে। পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ উদ্‌যাপনের সূচনাও করেছেন সম্রাট আকবর। তারিখ-ই-ইলাহি চালু করার পর তিনি ১৪টি নতুন উৎসবের কথা ঘোষণা করেন। তার মধ্যে নওরোজ একটি। বলা হয়ে থাকে, নওরোজ উৎসবেই শাহজাদা সেলিম (পরে সম্রাট জাহাঙ্গীর) মেহেরুন্নিসার (পরে নূরজাহান) প্রেমে পড়েছিলেন। আরো বলা হয়, শাহজাদা খুররমের (পরে সম্রাট শাহজাহান) সঙ্গে নওরোজ উৎসবেই প্রথম দেখা হয়েছিল মমতাজের। এ কারণে অনেকে বলতে চান, পহেলা বৈশাখ না হলে তাজমহল হতো না।

জায়গাভেদে পহেলা বৈশাখ আয়োজনের আছে ভিন্ন ভিন্ন নাম। আসামে বলে রঙ্গলি বিহু, নেপালে বলে বিক্রম সামওয়াত, তামিলনাড়ুতে পুঠাণ্ডু, উত্তর ভারতে বলে বৈশাখী, কেরালায় বিষু, ওড়িশায় বিষুব সংক্রান্তি, থাইল্যান্ডে বলে সংক্রান, লাওসে বলে সোংকান। ঢাকায় প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের দিন সকালবেলায় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। ইউনেসকো ২০১৬ সালে একে কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি ঘোষণা করেছে।

শুভ নববর্ষ।

মন্তব্য