kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

হয়ে ওঠার গান

মডেল রুমা

র‌্যাম্প হাঁটিয়েদের তালিকার ওপরেই আছে সৈয়দ রুমার নাম। পেরিয়ে এসেছেন ক্যারিয়ারের দেড় যুগ। মাসিদ রণ লিখেছেন তাঁকে নিয়ে

১৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মডেল রুমা

রুমার প্রিয়,মডেল-কেট মস,রং-সাদা ও কালো,পোশাক-শাড়ি,ভালো লাগে-কার্টুন দেখতে,পছন্দ-হিপহপ গান অবসরে-ঘুম

তিনি একজন কোরিওগ্রাফারও। ব্যস্ততা গ্রুমিং স্কুল নিয়েও। ভালো মডেল তৈরির লক্ষ্য নিয়ে চালু করেছেন গ্রুমিং স্কুল গ্ল্যামারস লিমিটেড। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানের লাইফস্টাইল বিভাগের দায়িত্বও তাঁর ঘাড়ে।

সেই ১৯৯০ সাল

ঢাকার ওয়ারীতে তাঁদের নিজেদের বাড়ি ছিল। ওয়েস্টার্ন পোশাক পরা যাবে না,  ছেলে বন্ধু বানানো যাবে না—এসব বিধিনিষেধ ছিল না রুমার ওপর। মা-বাবা তাঁদের দুই বোনকে স্বাধীনচেতা, আধুনিক মানুষ হিসেবেই দেখতে চেয়েছেন। বড় বোন একটু চাপা স্বভাবের হলেও রুমা ছিল  টম বয়। ছোট করে চুল কেটে ছেলেদের মতো পোশাক পরে পাড়া বেড়াতে বেরোত। সমবয়সীরা তাঁকে একটু-আধটু বুঝি ভয়ই পেত! অনেক ছেলে বন্ধু থাকলেও কেউ সেভাবে প্রেম নিবেদন করেনি। তবে একটা ছেলে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, কারণ সে পাড়ায় নতুন এসেছিল। রুমাকে ভালোভাবে তখনো জেনে ওঠেনি। রুমা তাকে ধোলাইও দিয়েছিল। কিন্তু বাইরে সে যতটা ‘ড্যাম কেয়ার’, ভেতরে কিন্তু ততটাই সিরিয়াস। কাজের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল দেখার মতো। পড়ার সময় মন দিয়ে পড়ত। আড্ডা দেওয়ার সময়ও সে ছিল মধ্যমণি।

রেশমা ছিলেন তাঁর রোলমডেল

বড় বোন রেশমাকে খুব ফলো করতেন রুমা। রেশমা মডেল হতে চাইলে রুমাও চাইলেন মডেল হতে। তবে মা-বাবা এবার বাদ সাধলেন। তাই লুকিয়ে রেশমা একবার পাবলিক লাইব্রেরিতে একটা শো করতে চাইলেন। মহড়ায় একা না গিয়ে ছোট বোন রুমাকে সঙ্গে নিতেন। সেটি ২০০২ সাল। রুমা তখন ক্লাস নাইনে। পাবলিক লাইব্রেরির শোতে গিয়ে মজা লাগল রুমার। তার পর থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে দুই বোন কয়েকটি শো করেছেন। রুমা এসএসসি দেওয়ার পর পন্ডসের একটা বিলবোর্ডের মডেল হওয়ার ডাক পেলেন। বড় বোন সাহস দিলেন। রুমা ফটোশুট করে ফেললেন। কিন্তু এবার আর লুকাবেন কিভাবে?

জানাজানি হয়ে গেল

বিলবোর্ড  উঠে গেল ঢাকা শহরের কয়েকটি জনবহুল জায়গায়। বন্ধুরা খুব প্রশংসা করল দেখে, কিন্তু বাড়িতে তখন যুদ্ধ। রেশমাই মাকে বোঝালেন। বললেন, তুমি একবার রুমার সঙ্গে গিয়ে দেখোই না কাজটা কিভাব হয়? রুমার মা পরে বেশ কয়েকবার মেয়ের সঙ্গে ফটোশুট আর শোতে গিয়েছেন। তাঁর ভুল ভেঙেছে। মানলেন, মডেলিং একটি সৃজনশীল জায়গা। এখানে টিকে থাকতে লাগে মেধা আর সততা। সৎথাকলে এখানে নিরাপদ থাকা যায়। তবে আত্মীয়স্বজনরা তখন অবুঝ। ছোট মামা, যে কিনা রুমাকে সবচেয়ে বেশি আদর করতেন, তিনি টানা পাঁচ বছর কথা বলেননি।

দুর্দিন গেছে

রুমা শুধু অপেক্ষায় থেকেছেন সুদিনের। ভেবেছে, একদিন মামা-চাচারও ভুল ভাঙবে। অবশেষে সে দিন এসেছে। লোকজন বাড়িতে এসে সুখ্যাতি করেছে। জয় হয়েছে সততার। বলছিলেন, রুমা নামের মেয়ে তো দেশে কম নেই, তবে সৈয়দ রুমা কিন্তু একজনই। আমি কাজ দিয়েই আজকের রুমা। কোনো অন্যায় সুবিধা নিইনি কোনো দিন। সাধনা দিয়েই ফল পেয়েছি।

আইডল কেট মস

চড়া মেকআপ আর বাহারি পোশাক। বাইরে থেকে রুমাকে এভাবেই দেখা যায়। তাঁর আইডল ইংলিশ মডেল কেট মস। রংচঙা জগত্টাকে রুমা ভালোবাসেন। তিনি বলেন, আজকে যারা ভাবে এমনি এমনি হয়ে যায়, তাঁরা খুব ভুল করছেন। গ্রুমিং স্কুলটাও দিয়েছি, সে কারণে যেন সবাই মেধাটাকেই সম্বল করে। লুকটা দরকার, তবে মেধা না থাকলে তা কোনো কাজে আসে না। দুই মাস পর পর নতুন ব্যাচ নিই। স্টুডেন্ট নিই যাচাই-বাছাই করে। ভালো স্টুডেন্ট না পেলে চার-পাঁচজনেই সীমিত রাখি।

ভালো বছর ২০১১

ঢাকা ফ্যাশন উইকে বেস্ট মডেল হয়েছিলেন রুমা ২০১১ সালে।  আর ২০১৪ সালে হয়েছেন বেস্ট কোরিওগ্রাফার। দেশের নামী প্রায় সব ব্র্যান্ডের তিনি মডেল হয়েছেন।রুমা সম্প্রতি বড় পর্দায়ও কাজ করেছেন। ইউটার্ন ছবির একটি গানে নেচেছেন তিনি। বলছিলেন, ‘২০০৫ সালে পন্ডসের বিলবোর্ডের পর থেকেই অনেক ছবি বা নাটকের প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু তখন নিজেকে প্রস্তুত মনে হয়নি, তাই করিনি। তবে পরিচিতদের মধ্যে অনেকেই আমার নাচের ভক্ত। এ জন্য ইউটার্ন ছবির একটি মজার গানে পারফর্ম করেছি। বলতে পারেন নতুন কিছু ট্রাই করা। যদি মনের মতো চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাই, তাহলে করার ইচ্ছা আছে।’

মন্তব্য