kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ভুল সবই ভুল

মৃত্যুর পরও চুল নখ বাড়ে

সবাই সত্যি জানে—এমন অনেক কথা পরে যাচাই করে দেখা গেছে, সেগুলো মিথ্যা। অবসরে সেগুলো আনতে যাচ্ছে পাঠকের গোচরে। লিখেছেন আসমা নুসরাত

১৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মৃত্যুর পরও চুল নখ বাড়ে

এরিক মারিয়া রেমার্কের উপন্যাস অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট। উপন্যাসটির ধারাবর্ণনাকারী কল্পনা করেন তাঁর যে বন্ধুটি গ্যাংগ্রিনে মারা গেছে তাঁর নখ বাড়ছে। ক্ষয়ে যাওয়া খুলিতে চুলও লম্বা হচ্ছে—যেমন উর্বল মাটিতে বড় হয় ঘাস। চিন্তাটি যতই রোমান্টিক হোক, সত্য কি?

মৃত্যুর পর চুল, নখ বৃদ্ধি পায় কি না—এ নিয়ে বিশদ গবেষণা নেই। মরা নিয়ে কাজ করেন—চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমন ছাত্ররা কিছু কথা লিখে রাখছেন মাঝেমধ্যে। যেমন বলছেন, বিভিন্ন রকমের কোষের মৃত্যুর সময় বিভিন্ন। হৃদযন্ত্র তাল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই ব্রেনে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গ্লুকোজ ফুরালে পরে স্নায়ুকোষগুলো মৃত্যুবরণ করে তিন থেকে সাত মিনিটের মধ্যে। 

মারা যাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি কিডনি, লিভার বা হৃিপণ্ড দান করে গেলে ত্রিশ মিনিটের মধ্যেই তা সরিয়ে নেন সার্জনরা। প্রতিস্থাপনও করা হয় ৬ ঘণ্টার মধ্যে। ত্বকের কোষগুলো বরং বেশিক্ষণ বেঁচে থাকে। ১২ ঘণ্টা পরও তা গ্রাফটিং করা যায়। আঙুলের নখের বৃদ্ধি ঘটতে প্রয়োজন গ্লুকোজ। সাধারণত আঙুলের নখ দিনে ০.১ মিমি পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধির মাত্রা কমতে থাকে। নখের ঠিক নিচে জীবাণুসমূহের একটি ছাঁচ নখের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। নতুন কোষসমূহ পুরনোগুলোকে সামনের দিকে ধাক্কা দেয়, ফলে সামনের দিকটা বেড়ে যায়। মৃত্যু গ্লুকোজ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং বন্ধ হয়ে যায় নখের বৃদ্ধিও। একই ঘটনা ঘটে চুলের ক্ষেত্রে। প্রতিটি চুলই একেকটি ফলিকলের সঙ্গে লাগানো থাকে। ফলিকলের সঙ্গে যুক্ত কোষগুলো চুলের বৃদ্ধি ঘটায়। তবে শক্তি পাওয়া সাপেক্ষে। যখন হৃৎপিণ্ড অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তখন শক্তির সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বন্ধ হয় চুলের বৃদ্ধি।

মন্তব্য