kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

বিকেলবাড়ি

প্যারামাউন্ট শরবত ঘর

মান্না দের কফি হাউস কলেজ স্ট্রিটে। কলেজ স্ট্রিটের পাশেই বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট। প্যারামাউন্ট শরবতের দোকানটি বঙ্কিম স্ট্রিটের মাথায়। শুধু শরবত নয়, দোকানটি আগলে রেখেছে অনেক দিনের ইতিহাস। লিখেছেন ফখরে আলম

১৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্যারামাউন্ট শরবত ঘর

আচার্য পিসি রায়ের সেই ডাবের শরবত

এই দোকানে শরবত খেয়েছেন এমন বিখ্যাত লোকের তালিকা দীর্ঘ। তাঁদের কেউ বিপ্লবী, কেউ বিজ্ঞানী, কেউ কবি। নাম বললেই চিনবেন—বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু, কবি কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা সেন, অমর্ত্য সেন, উত্তম কুমার প্রমুখ। ১৯১৮ সাল থেকে ধরে রেখেছে সেই স্বাদ, সেই গন্ধ। 

বরিশাল থেকে শুরু

বরিশালের কাঁচাবেড়িয়া গ্রামে ছিল নীরাঞ্জন মজুমদারের বাড়ি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক, বরিশাল অনুশীলন সমিতির সদস্য। সমিতির কাজ ঠিকমতো করার জন্যই নীরাঞ্জন ডেরা বাঁধেন কলকাতায় এসে। সমিতির সদস্যরা তাঁর ডেরায় এসে গোপন সভা করেন। সদস্যদের মধ্যে আছেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, পুলিনবিহারি দাস, সত্যেন সেন প্রমুখ। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও আসতেন টিকটিকিদের নজর এড়িয়ে। ব্রিটিশ টিকটিকি আর পুলিশকে ফাঁকি দিতেই মুখের ওপর নীরাঞ্জনবাবু খুলে বসেন এই শরবতের দোকান। সেটি ১৯১৮ সাল। দোকানের নাম রাখেন ‘প্যারামাউন্ট শরবত’। সুখ্যাতি ছড়াতে বেশি দিন লাগেনি। বিপ্লবীকে তারপর থেকে বেশি লোক শরবতওয়ালা নামেই চেনে। নীরাঞ্জনবাবু মারা যাওয়ার পরে তাঁর দুই ছেলে পরিমল মজুমদার ও দিলীপ মজুমদার দোকানের হাল ধরেন। এখন দায়িত্বে আছেন পরিমল মজুমদারের ছেলে পার্থপ্রতীম মজুমদার।

 

এক বিকেলে প্যারামাউন্ট

কলকাতার আড্ডায় সিটি নেটওয়ার্কের সিনিয়র এডিটর পার্থ মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘ফখরে ভাই, কলকাতার সব কিছুই তো দেখলেন। খেলেনও। গরমে প্যারামাউন্টের ডাবের শরবত খেয়ে আসুন।’ ডাবের শরবতের কথা কোনো দিন শুনিনি। পার্থ বললেন, ‘কলেজ স্ট্রিটের মহাবোধি সোসাইটির সামনে প্যারামাউন্ট শরবতের দোকান সবাই চেনে।’ পরদিন আমার স্ত্রী আর ছেলেমেয়েকে নিয়ে নিউ মার্কেট থেকে ট্যাক্সিতে কলেজ স্ট্রিট নেমে বইয়ের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে এগোতে থাকি। ৪০ জন বসতে পারে—এমন একটি দোকান প্যারামাউন্ট। ক্যাশবাক্সের দেয়ালে প্রতিষ্ঠাতা নীরাঞ্জন মজুমদারের ছবি। আরেক দিকের দেয়ালে নামিদামি লোকদের নামের তালিকা। আমরা ডাবের সঙ্গে লিচুর শরবতও অর্ডার করি। ডাবের শরবত খেয়ে সত্যি তাক লেগে যায়। আহা! কী খেলুম! ডাবের জলের এ কী স্বাদ! এখানকার ডাবের শরবতটির ফর্মুলা দিয়েছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়।

 

শরবতের রকমফের

প্যারামাউন্টে প্রায় ৪০ রকম শরবত পাওয়া যায়। বিয়ে বা অনুষ্ঠানাদিতে সরবরাহও করে। এখানকার উল্লেখযোগ্য শরবত হচ্ছে—কোকো মালাই, ম্যাঙ্গো ম্যানিয়া, পাইনঅ্যাপেল মালাই, ডাব শরবত, ক্রিমরোজ, লিচুর শরবত, খাস সিরাপ, লেমন সিরাপ, গ্রিন ম্যাঙ্গো, আঙুর শরবত ইত্যাদি। এক গ্লাসের দাম ৪০ থেকে ১২০ টাকা।

মন্তব্য