kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরাও উৎসবে মেতেছেন

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউইয়র্ক   

২৫ জুন, ২০২২ ১৪:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরাও উৎসবে মেতেছেন

বাংলাদেশে যখন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ঐতিহাসিক ও গৌরবজনক অনুষ্ঠান চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেটে প্রায় মধ্যরাত। তবুও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসবের এতটুকু কমতি ছিল না। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে প্রবাসীরা নেমে আসেন পথে। তারা বলেন, নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের গৌরব বেড়েছে বহুগুণ।

বিজ্ঞাপন

এটিকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের বড় একটি বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।  

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার রাতে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বাংলাদেশে পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার এবং এটি আমাদের গৌরব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দেশ-বিদেশের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের পাশাপাশি দৃঢ় সংকল্প ও মনোবলের কারণে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণ করে সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন, এমন একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের রয়েছে।

এর আগে ডেপুটি চিফ অব মিশন ফেরদৌসী শাহরিয়ার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনাইদ কামাল আহমেদ এবং নর্থ ক্যারোলিনা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এবিএম নাসির। এসময় সেখানে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হয়।

এছাড়া নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে চমৎকার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারসহ এতে ছিল নানা আয়োজন। সুধীজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কে কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।   

অন্যদিকে বড় পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার ও আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহাগৌরবের সেই মুহূর্ত উদযাপন করেছে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখা। নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি মিলনায়তনে জমজমাট এই অনুষ্ঠানে ছিল মানুষের ঢল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, তখন অনুষ্ঠানস্থল আনন্দে উদ্ভাসিত, স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত।  

এছাড়া দেশের গানে শিহরণ জাগানিয়া অনুষ্ঠানে ছিল পদ্মা সেতু ও বাংলাদেশের উন্নয়নের ওপর নির্মিত কয়েকটি তথ্যচিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী। এ সময় সুধীজনেরা তুলে ধরেন নিজেদের আনন্দানুভূতি। দূরে থেকেই ভিডিওবার্তায় এতে যুক্ত হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ভিডিওবার্তা দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবার ফাতিমা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ও দৈনিক আজকের পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।  

লেখক ও সাংবাদিক শামীম আল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠোযোদ্ধা কিংবদন্তী শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) মো. নূর এলাহি মিনা, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র চ্যাপ্টারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, উৎসব আয়োজনের আহ্বায়ক হাজী জাফর উল্লাহ এবং সদস্য সচিব আশরাফ আলী খান লিটনসহ অনেকে। সঙ্গীত পরিবেশন করেন কৃষ্ণা তিথি, রাজীব ভট্টাচার্য ও চন্দ্রা রায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শাহাব উদ্দিন চৌধুরী লিটন।  

এদিকে, বাংলাদেশ ক্লাব নিউইয়র্কে একটি আনন্দশোভাযাত্রার আয়োজন করে। ক্লাবটির সভাপতি নুরুল আমিন বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনেকে বক্তব্য রাখেন। জাতীয় পতাকা, রয়েল বেঙল টাইগার আর পদ্মা সেতুর প্রতিকৃতিতে সেজে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। এতে যোগ দিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় ছুটে আসেন অনেকে।  

এছাড়া নিউইয়র্কসহ অন্যান্য স্টেটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন প্রবাসীরা।   



সাতদিনের সেরা