kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

‘জামায়াত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একে-৪৭ নিয়ে এসেছে’

অনলাইন ডেস্ক   

২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘জামায়াত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একে-৪৭ নিয়ে এসেছে’

জামায়াত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একে-৪৭ নিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ও ২০১০ সালে সন্ত্রাসবাদবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে কাজ করার জন্য 'বাংলাদেশের বন্ধু' হিসেবে পুরস্কার গ্রহণকারী ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন। ইউরোপভিত্তিক প্রবাসী সংস্থা ইউরোপীয় বাংলাদেশ ফোরামের (ইবিএফ) ভার্চুয়াল সম্মেলনে এই  মন্তব্য করেন তিনি। 

গত শনিবারে অনুষ্ঠিত 'বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ও স্বপ্ন : বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলে শান্তি চরমপন্থার হুমকি' শীর্ষক ভার্চুয়াল সম্মেলনে তাঁরা এ আহ্বান জানান। সম্মেলনটি ২০২০ সালের ২০ মার্চ জেনেভার প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনার কারণে এটি স্থগিত করা হয়। লন্ডনভিত্তিক ব্রিটিশ-বাংলা নিউজ চ্যানেল কর্তৃক আয়োজিত ভার্চুয়াল ওই সম্মেলনে ইউরোপ থেকে বক্তব্য দেন বিভিন্ন বক্তা। অনুষ্ঠানটি চ্যানেলটির ওয়েবসাইট এবং ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ভার্চুয়াল সম্মেলনে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা : শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর মুক্ত ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের মূলনীতি’ বিষয়ক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ওল্ফ-পিটার জিঞ্জেল। তিনি বলেন, গণতন্ত্র নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভাঙা প্রতিশ্রুতিগুলোই মুক্তিযুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান ১৫ বছরের সামরিক শাসন নিয়ে আসে। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র ফিরে আসে।

ওল্ফ-পিটার জিঞ্জেল আরো বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রথম দিকে বলি হয়ে যায়, যখন শাসক শ্রেণি সাম্প্রদায়িক এবং সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে দৃঢ়ভাবে সংহত করতে শুরু করে। এটিকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়। পরে আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। কিন্তু এটি ফের হুমকির মুখে পড়েছে।

ভার্চুয়াল সম্মেলনে ব্রিটিশ সাংবাদিক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন ‘জামায়াত-ই-ইসলামী ইন সাউথ এশিয়া : রেভল্যুশনারিজ অ্যান্ড রেনেগেডস’ নামক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, ঐতিহাসিক উদাহরণগুলোর সঙ্গে মিল রয়েছে জামায়াতের ছাত্ররাজনীতির। নাৎসি আধাসামরিক শাখার বৈশিষ্ট্যকে অনুকরণ করে জামায়াতের ছাত্ররাজনীতি। জামায়াত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একে-৪৭ নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ছাত্ররা জামায়াতের ছাত্রসংগঠন নিয়ে শঙ্কিত।

সম্মেলনে ব্রিটিশ সাংবাদিক ও ২০১০ সালে সন্ত্রাসবাদবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে কাজ করার জন্য 'বাংলাদেশের বন্ধু' হিসেবে পুরস্কার গ্রহণকারী ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের সহযোগী সদস্য ওল্ফ-পিটার জিঞ্জেল ছাড়াও বক্তব্য দেন বর্ণবাদবিরোধী সুইস ফেডারেল কমিশনের সদস্য এবং সুইজারল্যান্ডের আফ্রিকান ডায়াসপোরা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট সিডি উগোচুকু, ফিনল্যান্ডের হিউম্যানিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড সদস্য এবং ফিনল্যান্ডের লেখক ও মানবাধিকারকর্মী ড. মজিবুর দফতরি, এইবিএফের প্রেসিডেন্ট আনসার আহমেদ উল্লাহ। সম্মেলনটি পরিচালনা করেন সাংবাদিক বি. চৌধুরী।

সম্মেলনে বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ায় 'উগ্রবাদের উত্থানে'র বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অনেকেই উগ্রবাদের উত্থানের আশঙ্কা করছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও তালেবানে থাকা তাদের মিত্ররা আবারও সংগঠিত হচ্ছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম সম্পর্কে তারা বলেন, জামায়াতকে প্রায়শই 'দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম ব্রাদারহুড' হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা