kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

চার মাস ধরে সৌদির হিমঘরে রংপুরের সাদ্দাম

স্বপন চৌধুরী, রংপুর    

২৩ আগস্ট, ২০২০ ১২:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার মাস ধরে সৌদির হিমঘরে রংপুরের সাদ্দাম

রংপুরের পীরগঞ্জের ২৫ বছর বয়সী সাদ্দাম হোসেনের মরদেহ সৌদি আরবের হিমঘরে পড়ে আছে প্রায় চার মাস ধরে। ঢাকার ‘মোহনা ওভারসিজ’-এর পীরগঞ্জের কথিত দালাল জাহাঙ্গীর আলম বুলু হাজি বলছেন, সাদ্দাম করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সাদ্দামের পরিবারের দাবি, সৌদি আরবে তাঁকে মেরে ফেলে মরদেহ সিঁড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ব্যাপারে পীরগঞ্জের ভেণ্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেন ভেণ্ডাবাড়ীর মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। তাঁর স্বজনরা জানান, পীরগঞ্জের চৈত্রকোল ইউনিয়নের হাজীপুরের মৃত মমদেল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বুলু হাজি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার মোহনা ওভারসিজের মাধ্যমে স্থানীয় অনেককেই সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। ২০১৯ সালের ১৭ মে ৯০ দিনের ভিসায় সাদ্দাম হোসেনকে প্রায় ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে সৌদির রিয়াদে পাঠান বুলু হাজি। সেখানে ৯০ দিন অতিবাহিত হলেও সাদ্দামকে বৈধ কাগজপত্র (আকামা) দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে গত ২১ এপ্রিল কথিত দালাল বুলু হাজির সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় সাদ্দামের। তবে সাদ্দাম করোনায় মারা গেছেন বলে ২৭ এপ্রিল এলাকায় প্রচার করেন বুলু হাজি।

লোকমুখে এ ধরনের খবর শোনার পর সাদ্দামের বড় ভাই রব্বানী মিয়া পরদিন ২৮ এপ্রিল ভেণ্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, রিয়াদে সাদ্দামের কর্মস্থলে কোনো লোক মারা যাননি। ‘হাবিব রহমান’ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে ২৯ এপ্রিল সিঁড়িতে ঝুলন্ত একটি মরদেহর ভিডিও প্রকাশ করা হয়। মরদেহটি সাদ্দামের বলে নিশ্চিত হয়ে স্ক্রিনশট নিয়েছেন রব্বানী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, সাদ্দাম করোনায় মারা যায়নি। তাঁকে মেরে ফেলে মরদেহটি ঝুলিয়ে রাখা হয়। মৃত্যু নিয়ে জটিলতার কারণে গত এপ্রিল মাস থেকে সৌদির হিমঘরে পড়ে আছে সাদ্দামের মরদেহ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মোহনা ওভারসিজের পীরগঞ্জের কথিত দালাল জাহাঙ্গীর আলম বুলু হাজি সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার বনানীর মোহনা ওভারসিজের মাধ্যমে (রিক্রুটিং লাইসেন্স নং-২৬৯, বাড়ি নং-১৮ (৪০২), রোড নং-২৪ (লেকপার), ব্লক-‘ক’) আমি এলাকার অনেককে সৌদিতে পাঠিয়েছি। সাদ্দামকেও ২০১৯ সালের ১৭ মে সেখানে পাঠানো হয়। কিন্তু ওই ওভারসিজের সৌদির রিয়াদ প্রতিনিধি আলাউদ্দিন তাঁকে (সাদ্দাম) কাজ ও বৈধ কাগজপত্রের ব্যবস্থা করে দেননি। রিয়াদ থেকে আলাউদ্দিনই জানিয়েছেন, সাদ্দাম করোনায় মারা গেছেন।

এদিকে বিদেশে সাদ্দামের অকাল মৃৃত্যুর খবরে তাঁর পরিবারের মাঝে চলছে শোক। ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় কাঁদছেন বৃদ্ধা মা হাছনা বেগম। ছেলের মরদেহ দেশে ফেরত আনতে প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংসদের স্পিকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

ভেণ্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও আমাকে ফোন করে সাদ্দামের লাশ (সৌদিতে) দাফনের অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি অনুমতি দিইনি। বলেছি, আরো খোঁজখবর নিই। এখনো লাশ দাফন হয়নি।’

ভেণ্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ শাহিন মিয়া বলেন, ‘অভিযোগে উল্লিখিত বিবাদী বুলু হাজি জানিয়েছেন, সৌদিতে সাদ্দামকে আকামা (থাকার অনুমতি) দেওয়া হয়নি। তবে লাশের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা