kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

লন্ডনে সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের রেশ, মাহি জলিলের অপসারণ দাবী

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি   

১৮ মে, ২০২০ ১৯:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লন্ডনে সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের রেশ, মাহি জলিলের অপসারণ দাবী

লন্ডন ভিত্তিক বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল-এস থেকে মাহি ফেরদৌস জলিলকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে আ্যলায়েন্স আ্যগেইনস্ট রেইসিজম আ্যন্ড রেলিজিয়াস হেইট্রেড সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। 

সংগঠনের  আহবায়ক পুস্পিতা গুপ্ত সংগঠনের পক্ষে অভিযোগ আকারের এক বিবৃতিতে এমন দাবি করেন। তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, গত ১২ মে মাহি ফেরদৌসের অপসারণ দাবি সম্বলিত অনুরূপ একটি অভিযোগ পত্র চ্যানেল এস কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী ২০ মে বিকেল ৪ টার মধ্যে চ্যানেল এস থেকে মাহি ফেরদৌস জলিলকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা না হলে, তারা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

পুস্পিতা গুপ্ত স্বাক্ষরিত বৃহস্পতিবারের অভিযোগ পত্রটিতে বলা হয়, 'চ্যানেল এস-এ COVID-19 শিরোনামে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে, উপস্থাপক এবং চ্যানেলের প্রতিষ্ঠাতা মাহি ফেরদৌস জলিলের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে করা ঘৃণ্য, সাম্প্রদায়িক ও অসম্মানজনক মন্তব্যের বিরুদ্ধে আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাবে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। COVID-19 মহামারী বিষয়ক সরাসরি সম্প্রচারিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে জনাব জলিল এই মন্তব্য করেন।

লন্ডনের বাজারে পানের  আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে, জনাব জলিল সেইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের এই আচরণকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানসিকতার সাথে তুলনা করেন। 

আর এই কারণেই ব্রিটেনের সনাতন ধর্মালম্বী সহ প্রগতিশীল সংগঠন ও মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিলেতের বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং দুজন ব্রিটিশ সাংসদ, রুশনারা আলি (বেথনাল গ্রিন ও বো) এবং আপসানা বেগম (পপলার ও লাইমহাউজ), এবং টাওয়ার হ্যামলেটস এর কার্যনির্বাহী মেয়র জন বিগস এর একাত্মতা পোষণ করে বিবৃতি প্রদান এর ধারাবাহিকতায় জনাব জলিল এবং চ্যানেল এস নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করে। 

একইভাবে, ক্ষমাপ্রার্থনাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি  আ্যলায়েন্স আ্যেগেইন্সট রেসিজিম আ্যন্ড রেলিজিয়াস হেইট্রেড এর পক্ষ থেকে বলা হয়, বিলেতে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মুখপত্র হিসেবে চ্যানেল এস এর প্রতি সবার আস্থা পুনঃস্থাপন করতে কতৃপক্ষকে আরো কাজ করে যেতে হবে হবে। যা ঘটেছে তার দায়িত্ব নিয়ে সমাজে যাতে ধর্মীয় ঘৃনা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য নষ্ট না হয় সেই লক্ষ্যে চ্যানেল এসকে আরো সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। 

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জনাব জলিল হিন্দু ধর্মকেই আলাদা করে উদ্দেশ্য করেছেন, সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি যে উনার মন্তব্যের উদ্দেশ্য স্পষ্টতই ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো। গণমাধ্যমে এ ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে থাকা হাজারো বাংলাদেশী এবং বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের বিমূঢ় করে দিয়েছে।

মাহি জলিলের অপসারণ চেয়ে, জগন্নাথ হল এলোমনাই ব্রিটেন, ইউনিটি ফোরাম ইউকে সহ বিভিন্ন সংগঠন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মাহি জলিলের  স্থায়ী অপসারণ সহ তিন দফা দাবী পেশ করেছে সংগঠনগুলো। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা