kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অগ্রগতির সহযোগী আমিরাতের তাফহিম

এম আবদুল মান্নান, আমিরাত প্রতিনিধি   

৯ মে, ২০২০ ০৫:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অগ্রগতির সহযোগী আমিরাতের তাফহিম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'তাফহিম' সেন্টারটি দেশটির রাজ পরিবারের সদস্য শেখ সাঈদ বিন হাশর আল মাকতুমের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন নিশ্চিত করার লক্ষে স্বল্প ব্যয়ে অভিবাসন এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রদান ও প্রচারের কাজ করে থাকে। 

তাফহিম প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র নিয়োগকারীদের প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ প্রদানে উৎসাহিত করে না, এটি প্রবাসীদের ব্যয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশে প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যবহার করবে।

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি প্রবাসীদের বৃহত্তম একটি অংশ মধ্য প্রাচ্যে অবস্থান করে। গত পাঁচ বছরে কমপক্ষে ৫ (পাঁচ লক্ষ) বাংলাদেশি প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে গেছেন এবং ২০১৪ সালে ১০ (দশ লক্ষ) এর অধিক। বাংলাদেশি অভিবাসীদের শীর্ষ দেশসমূহের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং ভারত। বিদেশে ৩৯,৭৫,৫৫০ জন বাংলাদেশির মধ্যে ২৮,২০,০০০ মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করে যা মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের ০.০৭৫ শতাংশ।

বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতি হচ্ছে বাংলাদেশের বাজার ভিত্তিক অর্থনীতি। বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রমবর্ধমান হারে এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, অর্থনৈতিক বিকাশ এবং স্বল্প সমৃদ্ধ মানুষের জীবনযাত্রায় অবদান রাখছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি জোরদার করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে প্রবাসীদের নিকট থেকে বৈদেশিক মুদ্রা। বাংলাদেশি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দুই দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাজ করে যাচ্ছেন। অনাবাসী বাংলাদেশিদের বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসাবে রয়েছে।

২০১২-১৩ অর্থবছরে  বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ছিল ২,৮২৯ (মিলিয়ন মার্কিন ডলার), ২০১৪-১৫ সালে ২,৮২৩ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১৬-২০১৭ সালে তা হ্রাস পেয়ে ২০৯৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু গত ৩ বছরে বৈদেশিক মুদ্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০১৮ সালে ২,৪২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৯ সালে ২,৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অভিবাসী ও প্রবাসীরা যে পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন তার নব্বই শতাংশ দশটি দেশ থেকে আসে। একমাত্র পঁচাশি শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য দেশসমূহ থেকে আসে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১,৭৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অবদান রেখেছিল।

'তাফহিম' প্রতিষ্ঠানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংহতকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যা শ্রমিকদের অধিকার, স্থানীয় আইন এবং অভিবাসন ব্যয়ের বিষয়ে জানানো যাতে করে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস করা। সুতরাং এক্ষেত্রে শ্রমিকদের অর্জিত অর্থ বাংলাদেশে প্রেরণ করে তারা তাদের অভিবাসন ঋণ পরিশোধ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। 'তাফহিম' অভিবাসনের স্বল্প ব্যয়কে সমর্থন করে, অভিবাসন খরচ থেকে ঋণ হ্রাস পেলে বাংলাদে শের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে। এটি 'তাফহিম'-এর মূল উদ্দেশ্য।

'তাফহিম' চেয়ারম্যান জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় আমরা বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকতে চাই। তাই আমরা বাংলাদেশের (বিএমইটি) আওতাভুক্ত ৭০টি ট্রেনিং সেন্টারে কভিড-১৯ টেস্ট ও সনদ, ম্যাক্স বিনামূল্যে আগামী এক বছর প্রদান করব। যা শুধুমাত্র বিভিন্ন দেশে কর্ম ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা