kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

নিউ ইয়র্কে ট্যাক্সি চালানোর টাকায় করোনাকালে সহায়তা করে যাচ্ছেন মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ এপ্রিল, ২০২০ ১০:৪৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নিউ ইয়র্কে ট্যাক্সি চালানোর টাকায় করোনাকালে সহায়তা করে যাচ্ছেন মোশাররফ

করোনায় বিপর্যস্তদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন আমেরিকা প্রবাসী ট্যাক্সিচালক মো. মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। তিনি এখন নিউইয়র্কে লকডাউনে অবরুদ্ধ থাকলেও ভুলে যাননি নিজ জেলা কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার অসহায় মানুষদের। নিজে কয়েক মাস ধরে সেখানে হোমকোয়ারেন্টিনে থেকেও নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন গরিব মানুষের জন্য। তার অর্থায়নে ব্রাহ্মণপাড়া কলেজ পাড়া ও ধান্যদৌলসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মহীন, গরীব ও অসহায় পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি কুমিল্লা বোর্ডের অন্যতম সেরা ব্রাহ্মণপাড়া মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও ব্রাহ্মণপাড়া আব্দুল মতিন খসরু মহিলা কলেজসহ ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি নিউইয়র্কে ট্যাক্সিক্যাব চালান, কখনো ফাস্টফুডের দোকানে ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। উদ্দেশ্য একটাই, কোনো মতে দিন কাটিয়ে টাকা জমাতে হবে। জনহিতকর কাজে লাগাতে হবে নিজের ঘাম ঝরানো অর্জন। আর এই অর্জনের টাকা দিয়ে মানুষের বিপদে আপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি যখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুনছেন এবং দেখছেন নিজ জন্মভূমিতে ভয়াল করোনার কারণে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে তখন থেকেই ভাবতে থাকেন নিজ এলাকা ব্রাহ্মণপাড়ার কথা। স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে গোপনে গোপনে মধ্যবিত্ত ও অসহায় পরিবারের তালিকা করতে থাকেন এবং টাকা পাঠিয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন যাতে খাদ্যসামগ্রী কিনে রাতের আঁধারে তাদের বাড়িতে পোঁছে দিয়ে আসা হয়। কোনো ফটোসেশন যেন না হয় সে দিকেও ছিল কড়া নির্দেশনা। 

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর সাথে নিউইয়র্ক থেকে টেলিফোনে কথা হয়। তিনি জানান, এ পর্যন্ত দুই শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী উপহার হিসেবে দেয়া হয়। সামনে আরও দেয়া হবে। তিনি বলেন, এই মহামারী করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষগুলো অনেকে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে লজ্জায় চাইতে পারছেন না। তাই আপাতত এমন সময়ে দুই শতাধিক অসহায় পরিবারে উপহার পাঠালাম। এ সময়ে সামর্থ্য অনুযায়ী সবারই অসহায়ের পাশে থাকা উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা