kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি সমস্যা সমাধানে আমিরাতের শেখদের আগ্রহ

এম আবদুল মান্নান, আমিরাত প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০৩:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি সমস্যা সমাধানে আমিরাতের শেখদের আগ্রহ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিগত ৮ বছর ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশের শ্রম বাজার উম্মুক্ত করতে আর বাংলাদেশি শ্রমিক রপ্তানি আমিরাতে সহজ করতে আমিরাতের উচ্চপদস্থ শেখগণ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মাত্র কয়েকটি শর্ত পূরণ করা গেলে দেশটিতে (আমিরাতে) ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে মনে করেন আমিরাতের স্থানীয় উচ্চ পর্যায়ের এসব শেখরা।

তাঁদের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত আমিরাতে জিসিসি সেন্টার, তাফহিম সার্ভিস সেন্টার ও বাংলাদেশ ওয়েল ফেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে নতুন কর্মীদের স্থানীয় আইন-কানুনে সতর্ককরণ, দেশ থেকে স্বল্প খরচে কর্মী নিয়োগ, তাদের বেতন ভাতা নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ করা গেলে বন্ধ ভিসার দ্বার উম্মুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির জিসিসি সেন্টারের চেয়ারম্যান মান্যবর শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল-মুয়াল্লাহ ও তাফহিম সার্ভিস সেন্টারের চেয়ারম্যান মান্যবর শেখ সাকার বিন মোহাম্মদ বিন হুমাইদ আল-নুয়াইমী। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দুবাইস্থ  তাঁদের অফিসে সাংবাদিকদের দেওয়া সংবাদ ব্রিপিংয়ে তারা এসব কথা বলেন।

স্থানীয় আরব উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জিসিসি সেন্টার, তাফহিম সার্ভিস সেন্টার ও বাংলাদেশের ওয়েল ফেয়ার সেন্টার নামে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নানা সেবা প্রদানের আশ্বস্ত করেন তাঁরা। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমিরাতে দেশের ভিসা জটিলতা নিরসনে সহযোগিতা করে যেকোনো সমস্যা সামাধানে কাজ করে যাবেন তাঁরা। তাদের টীম খুব শিগগিরই ঢাকায় সফর করবেন বলেও জানান তাঁরা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জিসিসি সেন্টারের চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল-মোয়াল্লাহ বলেন, আমরা এসব সেন্টারের মাধ্যমে অল্প খরচে আমিরাতে কর্মী প্রেরণ, দুই দেশের পুলিশি ছাড়পত্র একই স্থান থেকে প্রদান, শিক্ষা ছাড়পত্র, এজেন্ট থেকে কর্মীদের এক মাসের অগ্রিম বেতন প্রদান এবং এসব সেন্টারের মাধ্যমে দেশ থেকে আমিরাতে আগমনিচ্ছুক কর্মীদেরকে দেশটির কৃষ্টি কালচার সম্পর্কে ধারণা, স্থানীয় আইন-কানুন, মুদ্রা সম্পর্কে নতুন আসা কর্মীদেরকে সচেতন করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল-মোয়াল্লাহ আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশে ওয়েল ফেয়ার সেন্টার চালুর মাধ্যমে নতুন কর্মীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসার আগে যেকোনো সমস্যা সামাধানে কাজ করে যাব। চলতি অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিত এক্সপো ২০২০ কে ঘিরে কর্মচঞ্চল হয়েছে আমিরাতে। আমরা আশা করি এসব বিষয়ে সচেতন হলে বাংলাদেশের শ্রম বাজার উম্মুক্ত হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের সুসম্পর্ককে আরো দৃঢ় করতে দেশ থেকে দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী প্রেরণের বিকল্প নেই মনে করেন তাফহিম সার্ভিস সেন্টারের পরিচালক। কোনো কর্মী যে দেশে যেতে ইচ্ছুক যাওয়ার পূর্বে দেশটির নিয়ম-কানুন ও শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া আবশ্যিক বলে মনে করেন আমিরাতের তাফহিম সার্ভিস সেন্টারের চেয়ারম্যান শেখ সাকার বিন মোহাম্মদ বিন হুমাইদ আল-নুয়াইমী।

তিনি বলেন, বর্তমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর চাহিদা আছে। তাই আমিরাতে আসার আগে এ দেশের নিয়ম কানুন, শ্রমিকের যথাযথ প্রাপ্য সম্পর্কে আসার আগে সম্পূর্ণ ধারণা নিতে হবে। অনেক শ্রমজীবী প্রবাসী মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে এখানে এসে নানা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। আমাদের এই সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সবাইকে এসব বিষয়ে সচেতন করা হবে। একজন শ্রমিকের ভিসার জটিলতাসহ নানা সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব।

দুই প্রতিষ্ঠানের এ দুজন চেয়ারম্যান বাংলাদেশি শ্রমিকদের নানা সুযোগ সুবিধা, তাদের নিরাপত্তা, বীমাসহ প্রশিক্ষণ আমিরাতে তাদের চাকরির স্থায়িত্বের কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন।

চলতি বছর অক্টোবর থেকে আরব আমিরাতে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতিক্ষিত এক্সপো ২০২০। এক্সপোকে ঘিরে বিশ্বের নানা দেশ থেক বিনিয়োগকারীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিনিয়োগ করতে আসবেন। 

উল্লেখিত বিষয়গুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে দেশটিতে বাংলাদেশের বন্ধ শ্রম বাজার উম্মুক্ত হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন দুই প্রতিষ্ঠানের এ দুই চেয়ারম্যান।

বিদেশে কর্মী যাওয়ার আগে তাদের স্থানীয় আইন, থাকা, খাওয়া স্বাস্থ্য সচেতনা সৃষ্টি অভিবাসী ব্যয় কমিয়ে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সচেষ্ট থাকলে আমিরাতে বন্ধ শ্রমবাজার উম্মুক্ত হতে পারে বলে মনে করেন প্রবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।

আমিরাতে ৮ বছর আগে যে শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে তা জাতিগত অজ্ঞতাকে দোষছেন অনেকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা