kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

আমিরাতে শব্দ সন্ত্রাস নেই, দেশেও রোধ করার আহবান প্রবাসীদের

এম আবদুল মান্নান, আমিরাত প্রতিনিধি   

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৩:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমিরাতে শব্দ সন্ত্রাস নেই, দেশেও রোধ করার আহবান প্রবাসীদের

সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজার হাজার গাড়ি থাকলেও আরবী বা প্রবাসীদের কেউ এখানে ভেপুর বা গাড়ির হর্নের আওয়াজে কান ঝালাপালা হয় না। তদ্রুপ এখানে প্রায় সব মুসলিম দেশের নাগরিকসহ বিশ্বের নানা ধর্মের লাখ লাখ প্রবাসীদের বসবাস হলেও মাইকের আওয়াজে কেউ অতিষ্ঠ নয়।

এখানে উচ্চ স্বরে আজান ছাড়া যেমন মাইকের আওয়াজ নেই তেমনিভাবে কোনো বিপদ বা সতর্কতা ছাড়া গাড়ির কোনো হরণ বা ভেপু নেই। আমিরাতে অবস্থানরত দেশীয় প্রবাসীদের অনেকেই ইচ্ছে করেন বাংলাদেশেও যেন এখানকার মতো গাড়ির হর্ন ও মাইকের উচ্চ আওয়াজের উৎপাত থেকে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের রক্ষা করা হোক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৮ লক্ষাধিক দেশীয় প্রবাসীসহ প্রায় পৌনে দুই কোটির কাছাকাছি লোকের বসবাস। এখানে ছোট, বড় (লাইট, হেভী) সব মিলে প্রায় ৩৫ লাখের অধিক গাড়ি আছে। তারপরও এখানে গাড়ির হর্নের আওয়াজ আর আজান ছাড়া মাইকের আওয়াজ শোনাই যায় না। রোডে যেমন নেই কোনো গাড়ির হর্নের শব্দ তেমনি শহরে বা লোকালয়ে নেই কোনো মাইকের শব্দ। মানে এখানে শব্দ সন্ত্রাস নেই বললেই চলে।

এখানে স্থানীয়রা যেমন হর্ন বা মাইক ব্যবহারে অভ্যস্থ নন তেমনিভাবে বাংলাদেশি প্রবাসীসহ নানা দেশের প্রবাসীরাও এ দুইয়ে অভ্যস্থ নন। মানে মাইকের ব্যবহার ও গাড়ির হর্নের ব্যবহারে। এখানে অযথা আওয়াজ বা গাড়ির হর্ন দিলে এমনকি উচ্চ স্বরে গাড়িতে মিউজিক বাজালে ৪০০ দিরহাম প্রায় (৯৪০০ টাকা) জরিমানাসহ ৪টি কালো পয়েন্টের বিধান রাখা হয়েছে। আর পাবলিক প্যালেস বা জনসাধারণের উমুক্ত স্থানে মাইক তো দূরের কথা লাউড স্পিকার পর্যন্ত ব্যবহারের অনুমতি নেই। বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে প্রবাসীসহ স্থানীয়রা হল বা মিলনায়তনে সীমিত আকারের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যায়। ফলে এখানে যারা আছেন তারা সবাই শব্দ সন্ত্রাস থেকে মুক্ত।

চট্রগ্রামের প্রবাসী হাফেজ আবদুল আজিজ ও কক্সবাজারের হাজী আসাদুল হক বলেন, আমিরাত হতে দেশে গেলে মাইকের আওয়াজ ও গাড়ির হর্নে অতিষ্ঠ হয়ে যেতে হয়। যেখানে যাবেন আওয়াজ আওয়াজ আর আওয়াজ। এসবের একটি সীমা থাকা দরকার।

আমিরাতে গাড়ির হর্নের ব্যবহার নেই বললেই চলে। কদাচিৎ কেউ বাজালেও তা কাউকে সম্মান বা সালাম করতে বা কাউকে সতর্ক করতে আর কাউকে ভর্ৎসনা করতে বাজায়। অযথা কেউ হর্ন বাজায় না।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের জহির ইসলাম, নুর হোসেন ও মহীউদ্দিন খোকন আমিরাতের প্রায় দুই দশক ধরে অবস্থান করছেন। তারা জানান, আমাদের দেশে মাইকের ব্যবহার সীমিত করতে সরকারি উদ্যোগ নিতে হবে। জনসভা, প্রতিবাদ সভা, মিটিং মিছিল, পথসভা, সম্মেলনসহ, ওয়াজ মাহফিল, পূজা পার্বণে মাইকের ব্যবহারের পরিবর্তে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। তারা জানান, ছুটিতে দেশে গেলে মাইকের আওয়াজে পাগল হয়ে যেতে হয়।

আমিরাতে এখানে মাইকের ব্যবহার নেই বললেই চলে। মাইক শুধু মসজিদে আজানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এখানে অনুষ্ঠানাদিতে সীমিত আকারের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। হল কিংবা মিলনায়তনে। ওপেন মাটে ময়দানে, রাস্তা ঘাটে এখানে মাইকের ব্যবহার নেই। এখানে যারা জুমা কিংবা ঈদের নামাজের খুৎবা দেন তাও সীমিত আকারের সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে। 

প্রবাসীদের মিলাদ মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হল কিংবা অডিটোরিয়ামের ভেতর সাউন্ড সিস্টেমে হয়। যার আওযাজ বাহিরে কেউ শুনে না। এসবে অব্যস্থ প্রবাসীরা দেশে গেলে হর্ন সন্ত্রাস আর মাইক সন্ত্রাসে অতিষ্ঠ হয়ে যায়। তাই তাদের দাবি নির্দিষ্ট নীতিমালা করে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের শব্দ সন্ত্রাস থেকে রেহাই দেওয়া হোক।

অভিজ্ঞ মহলের অভিমত সরকার সচেষ্ট হলে আমিরাতের মতো বাংলাদেশেও শব্দ সন্ত্রাস রোধ করা অসম্ভব কিছু না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা