kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

মিয়ানমারের শাস্তির দাবিতে নিউ ইয়র্কে সমাবেশ

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউইয়র্ক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৮:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমারের শাস্তির দাবিতে নিউ ইয়র্কে সমাবেশ

রোহিঙ্গা নিধন, গণহত্যা এবং নির্যাতনের দায়ে মিয়ানমারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পেশাজীবী নাগরিকরা। দ্য হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানির শেষ দিন বৃহস্পতিবার এক সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে মিয়ানমার কনস্যুলেটের সামনে বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এই সমাবেশের আয়োজন করে কনশাস সিটিজেনস অব ইউএসএ নামে একটি সংগঠন।

সংগঠনটির আহবায়ক ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নীরব এই প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মানুষ যোগ দেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরে চলে আসা হত্যা, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুত করার অভিযোগে দেশটির বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।

সমাবেশ চলার সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘হত্যা বন্ধ করো’, “নির্যাতন থামাও” “বিচার নিশ্চিত করো”, “রোহিঙ্গা শরনার্থীদের অধিকার দিয়ে নিজ দেশে ফিরিয়ে নাও” ইত্যাদি স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

সেখানে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মী ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, “দেখুন এটি কেবল বাংলাদেশের জন্যে সমস্যা নয়। এটি গোটা মানবতার সংকট। নিরপরাধ নারী, শিশুসহ সর্বস্তরের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়েছে, তার বিচার হতেই হবে। আর সেটি নিশ্চিত করার এখনি সময়”।

একই সাথে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ, তাদেরকে সম্মান দিয়ে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। এজন্যে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও সোচ্চার হবার আহবান জানান ডা. ফেরদৌস খন্দকার।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন লেখক ও সাংবাদিক শামীম আল আমিন, যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দেওয়ান, নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন, বিশিষ্ট নাগরিক আরিফ মাহমুদ, মারুফ রেজা, আসিফ মাহমুদ, আব্দুল্লাহ আল মারুফ এবং চিকিৎসক শাম্মী চৌধুরীসহ অনেকে।

এ সময় মিয়ানমারের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ সেই দাবিতে নিজেদের একাত্মতা জানান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাক্ষরগুলো পরে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে পাঠানো হবে।

এদিকে তিনদিনের শুনানি শেষে আইসিজের বিচারক প্যানেলের প্রধান আবদুলকাভি আহমেদ ইউসুফ বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব এ মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। তার জন্যে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তৃতীয় ও শেষ দিনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনে আইসিজের ১৭ সদস্যের বিচারকের প্যানেল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা