kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নোবেল বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার

শান্তি বিকাশের জন্য প্রতিশ্রুতি ও ধৈর্য প্রয়োজন

সাব্বির খান, সুইডেন থেকে   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শান্তি বিকাশের জন্য প্রতিশ্রুতি ও ধৈর্য প্রয়োজন

আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এ বছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের রাজা হারাল্ডসহ রাজপরিবারের অন্য সদস্যরা, নরওয়ে সরকারের মন্ত্রিবর্গ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিরা। নরওয়ের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় অসলো সিটি হলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর হাতে একটি স্বর্ণপদক, একটি ডিপ্লোমা এবং প্রাইজমানির ৯ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার তুলে দেন নরওয়ের রাজা হারাল্ড।

পুরস্কার হাতে নিয়ে ধন্যবাদ বক্তব্যে কমিটির সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবি আহমেদ বলেন, ‘শান্তির লড়াইয়ে আমাকে যে বিশ্বাস চালিত করেছিল, সে বিশ্বাস সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুমতি দিন।’ এ সময় তিনি বর্ণনা করেন কিভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তির বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে শান্তি আলোচনা শুরু করেছিলেন। আবি বলেন, ‘আমি মনে করি, শান্তি একটি হূদয়ের বিষয়। শান্তি ভালোবাসা। স্থায়ী শান্তি অর্জন করার জন্য দরকার কঠোর পরিশ্রম। আমাদের অবশ্যই এটি উপলব্ধি করা উচিত। শান্তি তৈরি করতে সময় লাগে, যেমন গাছ জন্মাতে লাগে জল ও ভালো মাটি।’ শান্তি বিকাশের জন্য প্রতিশ্রুতি ও ধৈর্য প্রয়োজন বলে যোগ করেন আবি।

নোবেল প্রদান অনুষ্ঠানে অসলোর সিটি হল প্রথাগতভাবে ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখলেও এদিন আবি অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে স্থানীয় মিডিয়ার মন্তব্যে দেখা যায়। প্রথাগত সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রথা ভাঙা শুরু হয়। শান্তি পুরস্কারের আরো এক প্রথার মধ্যে রয়েছে, বিজয়ীকে ছোট ছোট শিশুর সঙ্গে কিছুক্ষণ কাটাতে হয় এবং তাদের অবুঝ মনের বিভিন্ন প্রশ্নের শিশুতোষ উত্তর দিতে হয়।

নোবেলজয়ী আবি তাতেও অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। একের পর এক এ ধরনের প্রথা ভাঙার মধ্য দিয়ে শত বছরের পুরনো ট্র্যাডিশনাল অনুষ্ঠানটি তার স্বকীয়তা হারায় এবং তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে অসলোতে পদার্পণের আগে তিনি স্টকহোমে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোফভেনের সঙ্গে প্রথাগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া তিনি আর কারো সঙ্গেই সময় দেননি বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আবি আহমেদ ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে যখন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখনই তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে তিনি ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শীতল হয়ে যাওয়া শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চান। ইরিত্রিয়ার রাষ্ট্রপতি ইসিয়াস আফওয়ারকির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ ২০ বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে আবি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে চুক্তির নীতিমালাগুলো কার্যকর করেছিলেন।

২০১৯ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে আসমারা ও জেদ্দায় প্রধানমন্ত্রী আবি ও রাষ্ট্রপতি আফওয়ারকির মধ্যকার স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্রে ওই নীতিমালাগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এই অকল্পনীয় সফলতার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল ২০০২ সালের আন্তর্জাতিক সীমানা-কমিশনের সালিসি রায়কে মেনে নিতে আবি আহমেদের শর্তহীন সদিচ্ছা, যা না হলে শান্তিচুক্তিটি কোনোভাবেই আলোর মুখ দেখত না।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি গত অক্টোবরে পুরস্কার ঘোষণাকালে বলেছিল, ‘একপক্ষের চেষ্টায় কখনো শান্তি স্থাপন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী আবি যখন তাঁর হাত বাড়িয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি আফওয়ারকি তখন তা আঁকড়ে ধরেছিলেন, যা দুই দেশের সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ককে একটি সুনির্দিষ্ট শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে ধাবিত করতে সহায়তা করেছিলেন। এই শান্তিচুক্তি ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার সমগ্র জনগণের জন্য একটা ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনতে সহায়তা করবে।’

এদিকে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কনসার্ট হাউসে গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা মূল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। সুইডেনের রাজা কার্ল গুস্তফ সপরিবারে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সুইডেনের মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্যরা, নোবেল বিজয়ীদের নিকট আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা