kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

ভিয়েনায় বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন

ভিয়েনা (অষ্ট্রিয়া) থেকে সংবাদদাতা   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ২৩:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভিয়েনায় বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন

ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের ৪৯তম স্বাধীনতা এবং জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করেছে ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। অষ্ট্রিয়ায় অবস্থানরত বাঙালি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের উপস্থিতিতে মন্যবর রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর আজ মঙ্গলবার দিবসের প্রথমভাগে স্থনীয় সময় সকাল ১০টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন। জাতীয় সংগীতের সুরের মূর্ছনায় পতাকা উত্তোলন শেষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

তারপর ভিয়েনার হউফসাইলস্থ বাংলাদেশ দূতালয়ে ‘মহান স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন, রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর, সঞ্চালনা করেন কাউন্সিলর ও চ্যান্সারি প্রধান রাহাত বিন জামান।

পবিত্র কোরআন থেকে তিলওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়।

এরপর মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন, রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর। প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কাউন্সিলর ও চ্যান্সারি প্রধান রাহাত বিন জামান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন, দূতাবাসের প্রথম সচিব মিস মালিহা শাহজাহান।

‘মহান স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ বিষয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং অষ্ট্রিয়া প্রবাসী মানবাধিকার কর্মী, লেখক, সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম, অষ্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কবির, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অষ্ট্রিয়া ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা বায়েজিদ মীর, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ দূতাবাস ভিয়েনার অনারারি কাউন্সিলর ভলফগাং উইনিনগার ও ডা. আলেস্ক ফ্রান্স, বাংলাদেশ সরকারের ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার এস এম রেজভী, অষ্ট্রিয়া আওয়ামী লীগ নেতা আকতার হোসেন, রুহী দাস সাহা, মোশারফ হোসেন আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ চৌধুরী, ইমরুল কায়েস, বখতিয়ার রানা,  ইয়াসিম মিয়া বাবু, কাফিয়া মুনসর, অনুপমা হক  প্রমুখ।

রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর তাঁর বক্তব্যে হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এবং দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক নর-নারী যারা বাংলাদেশের জন্যে ১৯৭১ সালে চরম আত্মত্যাগ করেছিলেন তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সঙ্গে কাজ করার আহবান জানান।

এম. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশকে যারা জন্মলগ্নে গলাটিপে হত্যা করতে চেষ্টা করেছিল তাদের ষড়যন্ত্রেই আমরা বাংলাদেশের স্রষ্টা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি। ‌ওই চক্রটির বহুমুখী ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত আছে। তাদের টার্গেট জননেত্রী শেখ হাসিনা।’ তিনি বলেন, ‘এই অপশক্তিকে নির্মূল করার জন্য আমাদেরকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।’

খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম বলন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন ২৬ মার্চ। এই দিনের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা বায়েজিদ মীর বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করছেন তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। সাইফুল ইসলাম কবির বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ এখন বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হচ্ছে।

বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে মনোজ্ঞ সঙ্গীত পরিবেশন করেন, প্রবাসী শিল্পী অনুপমা, জাকিয়া, পূর্ণা, কাফিয়া, বাবু প্রমুখ।

অনুষ্ঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির অব্যাহত সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন, দূতাবাসের সহকারী কনস্যুলার জুবায়দুল হক চৌধুরী। ভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

মন্তব্য