kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ সিদ্দিক চাকরি ফিরে পেতে চান

ফখরে আলম, যশোর   

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সসীমা সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়ের পর ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ সিদ্দিকুর রহমান এখন চাকরি ফিরে পেতে চান। কেননা মুক্তিযোদ্ধা হয়েও বয়সের কারণে তাঁকে এক বছর আগে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

একাত্তরে ১১ বছর বয়সে যশোরের গাঁওঘরা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি পরিবার পরিকল্পনা, যশোর অফিসের সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা ২০২০ সালের মার্চ মাসে। কিন্তু বয়সসংক্রান্ত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কারণে এক বছর আগেই তাঁকে অবসরে পাঠানো হয়।

সিদ্দিকুর রহমান বিষয়টি মেনে নেননি। তিনিসহ ৯ জনের একটি দল উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। গত রবিবার আদালতের রায়ের পর তাঁর হাতে মন্ত্রণালয়ের সচিব বাক্সবন্দি ভারতীয় তালিকা তুলে দেন। এই তালিকায় এফএফবি-২১৭ নম্বরে তাঁর নাম রয়েছে।

উচ্চ আদালত মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার বয়সসীমা নেই।’

সিদ্দিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১১ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আমার সব তালিকায় নাম আছে। কিন্তু বয়সের কারণে আমাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। আমি আদালতের রায়ে সম্মান ফিরে পেয়েছি। এখন আমি চাকরি ফিরে পেতে চাই। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই।’

একাত্তরে যশোর সদর উপজেলার গাঁওঘরা গ্রামের সিদ্দিক স্থানীয় ইছালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। বড় ভাই জিন্দার আলী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার মাসখানেক পর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি ফিরলে রাজাকাররা তাঁদের বাড়ি আক্রমণ করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। সিদ্দিক বড় ভাইয়ের হাত ধরে ভারতের চাঁপাবাড়িয়া ক্যাম্পে গিয়ে ওঠেন। পরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। চৌগাছার ধুলিয়ানিতে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। এই যুদ্ধে তাঁর ভাই জিন্দার আলী, চাচা তবিবর রহমানসহ আরো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে রাজাকারের হাতে নির্যাতিত তাঁর বাবা গোলাম আলী মারা যান। পরে তিনি এমএ পাস করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ সিদ্দিক কালের কণ্ঠ’র পাঠক সংগঠন শুভসংঘের যশোর শাখার সহসভাপতি। তাঁকে নিয়ে কালের কণ্ঠে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কালের কণ্ঠ শহীদ জননী হিসেবে সিদ্দিকের মা সখিনা খাতুনকে সম্মাননা জানিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা