kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

বাণিজ্যিক ব্যাংকে লিফলেট প্রচারণা

ঈদে নগদের বদলে জোর ইলেকট্রনিক লেনদেনে

জিয়াদুল ইসলাম   

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদে নগদের বদলে জোর ইলেকট্রনিক লেনদেনে

দেশে ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গড়ে তুলতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে নগদ টাকার পরিবর্তে ইলেকট্রনিক লেনদেনে মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে চায় আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো এবারের ঈদে নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি হ্রাসে ইলেকট্রনিক লেনদেনে মানুষকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইলেকট্রনিক লেনদেনের প্ল্যাটফর্মগুলো সম্পর্কে মানুষকে জানাতে এরই মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচারণামূলক লিফলেট সরবরাহ করা হয়েছে। এসব লিফলেট গ্রাহকদের নজরে পড়বে এমন জায়গায় টানানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সারা বছরের লেনদেনের একটি বড় অংশ হয় রোজার ঈদে। তাই এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক লেনদেনের সিস্টেমগুলো সম্পর্কে মানুষকে জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থায় মানুষ লেনদেনে আগ্রহী হলে আগামী দিনে নগদ লেনদেন কমে আসবে এবং ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার চেষ্টা অনেক দূর এগোবে। 

প্রতিবছর রোজা ও ঈদ ঘিরে নগদ টাকার চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ে। কেনাকাটাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এ চাহিদা সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে যায় এবং নিজের সঙ্গে নগদ টাকা বহন করে। কিন্তু নগদ টাকা বহন করলে ছিনতাই, জাল নোট ছড়িয়ে পড়াসহ নানা ঝুঁকি থাকে। এসব ঝুঁকির বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা ও ইলেকট্রনিক লেনদেনের সুবিধা সম্পর্কে তাদের জানানোর জন্য ব্যাংকের শাখাগুলোতে প্রচারণামূলক লিফলেট টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের আরটিজিএস ম্যানেজারদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকেই রোজার শুরু থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় এ প্রচারণামূলক লিফলেট পৌঁছানো এবং টানিয়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

এ ছাড়া আর্থিক লেনদেন নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত করতে আরো কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদ ঘিরে বাড়তি লেনদেনের কথা চিন্তা করে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ও মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মানুষ যাতে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন করতে পারে সেটিও ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।’

ইলেকট্রনিক লেনদেনে মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে প্রচারণামূলক লিফলেট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরবরাহ করা হয়েছে তার শিরোনাম ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় লেনদেন করুন—সাশ্রয়ী, গতিশীল ও নিরাপদ থাকুন’।

লিফলেটে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় দ্রুত ও নিরাপদে লেনদেনের তিনটি প্ল্যাটফর্মের কথা বলা হয়েছে :

বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) : এ লেনদেন ব্যবস্থায় কোনো ফি ছাড়াই নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে অন্য যেকোনো ব্যাংকের গ্রাহকের হিসাবে টাকা পাঠানো যায়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও  গ্রাহককে ডিভিডেন্ড ও সুদ পরিশোধ করা যায়। এ ছাড়া গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব হতে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল, ঋণের কিস্তি ও বীমা প্রিমিয়াম আদায় করা যায়।

ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) : এ লেনদেন ব্যবস্থায় ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নিজ ব্যাংকের এটিএম থেকে কোনো ফি ছাড়াই নগদ টাকা তোলা, ব্যালান্স অনুসন্ধান ও হিসাব বিবরণী সংগ্রহ করা যায়। অন্য ব্যাংকের এটিএমে ১৫ টাকা ফিতে নগদ টাকা তোলা এবং পাঁচ টাকা ফিতে ব্যালান্স অনুসন্ধান ও হিসাব বিবরণী সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কোনো ফি ছাড়াই পয়েন্ট অব সেলের (পিওএস) মাধ্যমে পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ এবং কোনো ফি ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিজের ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংক হিসাব থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকের হিসাবে এক মুহূর্তেই টাকা পাঠানো যায়।   

বাংলাদেশ রিয়াল টাইম গ্রস সেটলমেন্ট (বিডি-আরটিজিএস) : এ লেনদেন ব্যবস্থায় এক মুহূর্তেই নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে এক লাখ বা তার বেশি অঙ্কের টাকা অন্য যেকোনো ব্যাংকের গ্রাহকের হিসাবে পাঠানো যায়। এর জন্য সর্বোচ্চ ফি মাত্র ১০০ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা