kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

পাটকল শ্রমিকদের দেখার কেউ নেই!

এম সায়েম টিপু   

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাটকল শ্রমিকদের দেখার কেউ নেই!

বিশ্ববাজারে পাটপণ্যের কদর বাড়লেও দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন হচ্ছে না। অবহেলা-অব্যবস্থাপনায় মুখ থুবড়ে পড়ছে সরকারি পাটকলগুলো। বকেয়া মজুরির দাবিতে ঈদ সামনে রেখে রাজপথে দিনের পর দিন আন্দোলন করছেন পাটকল শ্রমিকরা। কিন্তু তা নিয়ে কারো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

শ্রমিক নেতারা আশঙ্কা করছেন, রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো আবারও হাতিয়ে নিতে পাঁয়তারা করছে একটি কুচক্রীমহল। তাই শ্রমিকরা বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা দাবিতে রাজপথে নামলেও সরকার বা বাংলাদেশ জুটমিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) কেউ এগিয়ে আসেনি তাদের সমস্যা সমাধানে। শ্রমিক নেতারা বলেন, লোকসানের অজুহাতে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া না হলেও কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়া থাকে না।

প্রবীণ শ্রমিক নেতা মন্জুরুল আহসান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ ও বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সম্ভাবনাময় এই খাত মুখ থুবড়ে পড়ছে। এটা শুরু হয়েছে দেশের স্বাধীনতার পর থেকে। সরকারের সুবিধাভোগী একটি মহল চক্রান্ত করে রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। অসাধু কর্মকর্তারা পাটকলগুলো লোকসান দেখিয়ে অল্প দামে কারখানা ও এর জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।’

ডেমরা শিল্পাঞ্চলের পাট ও সুতা বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে  বলেন, ‘সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, পাটক্রয়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ফলে দেশের পাটকলগুলো বন্ধ হওয়ার পথে। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক রাজপথে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের সাড়া নেই, মিলে পাট নেই। দেশে ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকার। অন্যদিকে বিজেএমসি ও পাট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়া থাকে না। খেটে খাওয়া মানুষগুলোর বেতন বকেয়া থাকে।’

আবুল হোসেন আরো বলেন, ‘বিজেএমসি যদি মিল চালাতে না পারে তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হোক। পাটকলগুলো নিজেদের ব্যবস্থাপনায় চালানো হলেও লোকসান হবে না। দুর্নীতি হবে না। মাথাভারী লোকবলেরও প্রয়োজন হবে না।’

পাটশিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান : রাষ্ট্রায়ত্ত পাটশিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে ঢাকা চেম্বারের পরিচালক রাশেদুল করিম মুন্না কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার আছে। এ জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে লাভজনক ও আধুনিকায়ন করতে হবে। সময় ও বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে।’ এ ছাড়া সরকারি পাটকলগুলো বাঁচাতে পাট কেনা, বেতন ও চলতি মূলধনের সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের সুফল সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এখনো বলার সময় হয়নি। তবে শিগরিরই দেশ ও জাতিকে একটি ভালো সংবাদ দিতে পারব।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাটের জিননকশায় বিশ্বে আমাদের কদর বেড়েছে। কিন্তু এই পাট নিয়ে আমাদের স্বপ্ন কতটা সফল সেটা নিয়েই আমরা কাজ করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা