kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যু

গ্রেপ্তার বান্ধবী রিমান্ডে হত্যা প্ররোচনার মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আশিকের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ এনে রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি মামলা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে আশিকের বান্ধবী ফারিয়াকে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আশিকের বড় ভাই আল আমিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

ভাটারা থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ ঘটনায় আগেই আটক ছিলেন আশিকের বান্ধবী। মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হলে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারিয়া পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, আশিক তাঁর ভালো বন্ধু ছিল। তাঁরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু বন্ধুত্বের বাইরে গিয়ে আশিক তাঁকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এতে তিনি রাজি ছিলেন না। কারণ বন্ধুত্বটাকে তিনি বন্ধুত্বের মধ্যেই রাখতে চেয়েছিলেন। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে তাঁর (ফারিয়া) বিয়ে ঠিক হয়। এটা জানার পর আশিক অনেকটা পাগলের মতো আচরণ করতে থাকেন। অনেক নিষেধ করার পরও ঘটনার দিন ভোরে আশিক তাঁর বাসায় এসে নিচতলার প্রধান ফটকে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর ফোন করলে অনেক লোকলজ্জার ভয়ে তিনি নিচে নেমে আশিককে তাঁর রুমে নিয়ে যান। এরপর আশিকের একই কথা, ওই দিনই তাঁকে বিয়ে করতে হবে। এতে তিনি কোনোভাবেই রাজি না হলে আশিক তাঁর সঙ্গে চরম খারাপ ব্যবহার করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি রুম থেকে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এর বেশ কিছু সময় পর রুমে ঢুকে তিনি দেখতে পান আশিক নিজের বেল্ট খুলে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তিনি দ্রুত রান্না ঘর থেকে বঁটি এনে বেল্টটি কেটে দিলে আশিক মেঝেতে পড়ে যান। এরপর তিনি তাঁর মাকে ফোন করে ঘটনাটি খুলে বলেন। পরে মায়ের কথামতো তিনি তাঁর বাড়ির মালিককে জানান। পুলিশ ও পরিবার জানায়, আশিক কুড়িল পূর্বপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। একই এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন আশিকের বান্ধবী। তাঁর সঙ্গে আশিকের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক চলছিল। গত মঙ্গলবার সকালে এই বান্ধবীর বাসার জানালার সঙ্গে বেল্ট দিয়ে ফাঁস দেন আশিক। পরে পুলিশ আসার আগেই বান্ধবী ও তাঁর কয়েকজন প্রতিবেশী আশিককে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে আশিকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় ভাটারা থানা পুলিশ। যেহেতু মেয়েটির বাসায় ঘটনাটি ঘটেছে তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা