kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

বান্ধবীর বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের মৃত্যু

হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

বান্ধবীসহ চারজন পুলিশ হেফাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর কুড়িলে বান্ধবীর বাসায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রহস্য কাটেনি। পুলিশ বলছে, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে মৃত আশিক এ এলাহীর পরিবারের দাবি, আশিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আশিকের বান্ধবী, তাঁর মা ও বান্ধবী এবং গৃহকর্মীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, আশিক কুড়িল পূর্বপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। একই এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন আশিকের বান্ধবী। তাঁর সঙ্গে আশিকের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে এই বান্ধবীর বাসার জানালার সঙ্গে বেল্ট দিয়ে ফাঁস দেন আশিক। পরে পুলিশ আসার আগেই বান্ধবী ও তাঁর কয়েকজন প্রতিবেশী আশিককে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে আশিকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় ভাটারা থানার পুলিশ।

ভাটারা থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। পরিবার লাশ নিয়ে গ্রামে গেছে। সেখান থেকে এসে মামলার কাজ করবে। যে অভিযোগ করা হয়েছে, এতে কিছু ভুল আছে। এ ঘটনায় কিছু অসংগতি আছে, সেগুলো দেখা হচ্ছে। যেহেতু মেয়েটির বাসায় ঘটনাটি ঘটেছে তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তবে এখনো বলা যাচ্ছে না এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশিকের বান্ধবী পুলিশকে জানান, মঙ্গলবার সকালে আশিক তাঁর বাসায় আসেন। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর তিনি তাঁর কক্ষ থেকে বারান্দায় চলে যান। তখন আশিক কক্ষটিতে একা ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি কক্ষে ঢুকে দেখেন, আশিক গলায় বেল্ট দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় জানালার সঙ্গে ঝুলছেন। পরে তিনি ও প্রতিবেশীরা আশিককে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেন।

লাশ উদ্ধারকারী ভাটারা থানার এসআই আল আমিন কাউসার বলেন, আশিকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় দাগ ছিল।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে ভাটারা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শিহাব উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, আশিকের সঙ্গে তাঁর বান্ধবীর প্রেম ছিল। তাঁরা আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একই সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

আশিক ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দালালপুর গ্রামের সোহরাওয়ার্দীর ছেলে। তাঁর বড় ভাই আল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আশিকের বান্ধবীর বাসা থেকে বেল্ট দিয়ে জানালার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় আশিককে উদ্ধার করে নাকি কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পুলিশের কাছে জানতে পারি।’

মন্তব্য