kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

রোজায় ব্যায়াম

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোজায় ব্যায়াম

রমজান উপলক্ষে যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম বাদ দিতে চান তাঁদের নতুন করে ভাবার অনুরোধ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, রোজা আর ব্যায়াম পাশাপাশি চলতে পারে। তবে ব্যায়ামের সময়টা সুবিধামতো এদিক-সেদিক করতে পারেন।

স্বাস্থ্যবিদদের মতে, রোজার সময় ব্যায়াম করলে দেহের কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না। দুবাইয়ের ফিজিশিয়ান স্পেশালিস্ট জাভাইদ শাহ বলেন, রোজা রেখে ব্যায়াম করলে বরং আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। এর নিউরো-মোটর এবং তন্তুর পেশি প্রাকৃতিকভাবেই সজীব হয়ে ওঠে। ব্যায়াম করলে আমাদের দেহ চর্বি ঝরাতে বাধ্য হয়। মূলত দেহের চর্বি পোড়ানোপ্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয় সিমপ্যাথিটিক নার্ভাস সিস্টেমের মাধ্যমে। আর খাদ্যের অভাব নিয়ে ব্যায়াম করলে এ প্রক্রিয়া চালু হয়।

তা ছাড়া সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খাওয়া অবস্থায় শরীরচর্চা করলে ওজন দ্রুত কমে আসে, বলেন ফিটনেস এক্সপার্ট ও পারসোনাল ট্রেইনার শিউ। তিনি বলেন, ওজন কমাতে ও পুরোপুরি ফিট থাকতে রোজা রেখে ব্যায়াম বাদ দেবেন না।

ব্যায়ামের সেরা সময় কখন

ড. জাভাইদ রোজাদারদের জন্য ব্যায়ামের সেরা সময় বলে দিয়েছেন। গোটা দিনের রোজা শেষে তারাবি নামাজের পর অনায়াসে ব্যায়াম করতে পারেন। কারণ ইফতারিতে দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য পেয়ে যায়। আবার তারাবির পর ব্যায়াম শুরু করলে মাঝখানে খাদ্য হজমের কিছু সময় মেলে। ব্যায়ামের জন্য যথেষ্ট সময়ও পাওয়া যাবে। শরীরচর্চাকালে ফল বা জুস চলতেই পারে। অনেক সময় ইফতারির পরও দুর্বলতা কাটে না। শরীরটা ম্যাজম্যাজ করতে থাকে। কিন্তু ব্যায়ামের কারণে সব জড়তাই কেটে যাবে।

কী ধরনের ব্যায়াম করা উচিত

স্বাস্থ্যবিদের মতে, যে ব্যায়ামগুলো অনেক পরিশ্রমের রোজার সময় সেগুলো না করাই ভালো। যেসব ব্যায়াম করলে হৃৎস্পন্দন মিনিটে ১৫০-এর বেশি হবে সেসব ব্যায়াম করা যাবে না। রোজা থাকা অবস্থায়ও ব্যায়াম করতে পারবেন। তবে যখনই করেন না কেন, হালকা ও মধ্যম মানের ব্যায়ামের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ব্যায়াম ধীরগতিতে করা উচিত। রমজানে ব্রিস্ক ওয়াক, স্লো জগিং, সাইক্লিং ক্রস ট্রেনিং এবং কম ওজন ব্যবহারে নিশ্চিন্তে শরীরচর্চা করা যাবে। সেই সঙ্গে ইফতারিতে ও সাহরির আগ পর্যন্ত খাবারের তালিকাটা সুষম করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি ও পানীয় পান না করলেই নয়। ব্যায়াম করলে সাহরিতে যথেষ্ট পরিমাণে শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) গ্রহণ করবেন। এতে পরের দিনটাতে একেবারে তরতাজা থাকবেন। আর ইফতারে আমিষপূর্ণ (প্রোটিন) খাবারে গুরুত্ব দেবেন বেশি।

খালিজ টাইমস অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার

মন্তব্য