kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদ স্পেশাল ট্রেনবঞ্চিত রংপুর!

এক শ বছরে লালমনিরহাট ডিভিশনে নতুন কোচ সংযুক্ত হয়নি

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবারের ঈদ উৎসব সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন রুটে আট জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। কিন্তু ঢাকা ও এর পাশের জেলাগুলো থেকে রংপুরের মানুষের জন্য ঈদে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বিশেষ ট্রেন। অর্থাৎ বিশেষ ট্রেন বিভাগীয় নগরী রংপুরের ভাগে একটিও পড়েনি।

এ ছাড়া একমাত্র আন্ত নগর রংপুর এক্সপ্রেসে বাড়তি কোনো বগি লাগানোরও সিদ্ধান্ত হয়নি। অথচ রাজধানী ঢাকা থেকে ঈদ করতে ঘরে ফেরে বেশি উত্তরাঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ। কিন্তু বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ না দেওয়ায় এই অঞ্চলের কয়েকটি জেলার মানুষ ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা এবং পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে যেতে ট্রেনের কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা কোচগুলো দিয়ে ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-খুলনা পথে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নতুন ট্রেনে ওঠার স্বপ্ন অধরা থেকেছে উত্তরের যাত্রীদের। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লালমনিরহাট ডিভিশন তথা রংপুর বিভাগের রেলযাত্রী বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষকে এমন পরিস্থিতিতে ঈদ করতে জীবন হাতে নিয়ে বাসের ছাদে বা মালাবোঝাই ট্রাকের ওপর সওয়ার হতে হয়। এভাবে চলতে গিয়ে প্রায়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনার নিরীহ শিকার হয় তারা; ঈদের আনন্দ ভেসে যায় চোখের জলে। অনেক সময় বেশি ভাড়া কিংবা পরিবহনের অভাবে বাড়িতেই আসা হয় না, কর্মস্থলেই ঈদ করতে হয় কর্মজীবী এসব মানুষকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী ডিভিশন অনেক সমৃদ্ধ হলেও লালমনিরহাট ডিভিশনের অবস্থা নড়বড়েই রয়ে গেছে। তিনি জানান, বিগত এক শ বছরের বেশি সময় ধরে লালমনিরহাট ডিভিশনে নতুন কোচ সংযুক্ত হয়নি। বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাসে এই দীর্ঘ সময় লালমনিরহাট ডিভিশন চলছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামত করা জোড়াতালির কোচ দিয়ে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, অতীতে এমন বিষয় নীরবে সহ্য করলেও বর্তমানে তা মেনে নেবে না এই অঞ্চলের মানুষ।

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, আট জোড়া বিশেষ ট্রেনের মধ্যে কমপক্ষে একটি ট্রেন রংপুরে দেওয়া উচিত ছিল। বরাবরই ঈদে বিশেষ ট্রেন থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে এই অঞ্চলের মানুষ। ফলে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে ঘরে কিংবা কর্মস্থলে ফিরতে বাধ্য হয়। এ কারণে সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা