kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ভোগান্তির আরেক নাম দক্ষিণ মনিপুর সড়ক

‘রাস্তা উঁচু না নিচু হবে’ তাই নিয়ে থমকে আছে কাজ!

শাখাওয়াত হোসাইন   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভোগান্তির আরেক নাম দক্ষিণ মনিপুর সড়ক

দক্ষিণ মনিপুরের এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থায় পড়ে আছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

এগুলো উন্নয়ন না, ভোগান্তি। উন্নয়নের নামে ছয় মাস ধরে এলাকাবাসীকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। পুরো গলিতে মাটি, নির্মাণ বর্জ্য, কালভার্ট বক্স খোলা ফেলে রেখে নর্দমার পরিবেশ করে ফেলা হয়েছে। বিপজ্জনক করে রাখা হয়েছে এখানকার জনজীবন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মিরপুরের দক্ষিণ মনিপুরের এক স্কুল শিক্ষক এই প্রতিবেদককে এভাবেই কথাগুলো বললেন।

ওই শিক্ষকের মতো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এই উন্নয়ন বিড়ম্বনায় পড়েছে দক্ষিণ মনিপুরের আপামর বাসিন্দা। দক্ষিণ মনিপুরের উল্লিখিত রাস্তাটির সংস্কারকাজ বিগত ছয় মাসেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। উপরন্তু নির্মাণ বর্জ্য এবং বড় বড় বক্স কালভার্ট দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে রাস্তাটি। ছয় মাস ধরে কোনো গাড়ি ঢোকে না রাস্তাটিতে। হাঁটাচলাও বেশ বিপজ্জনক। ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে স্থানীয় কাউন্সিলর ও এলাকাবাসী ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে আরজি জানিয়ে এলেও কোনো ফল আসেনি তাতে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাফরুলের ওয়াসা রোড থেকে মনিপুর স্কুলের দিকে যাওয়ার পথেই স্তূপাকারে রাখা হয়েছে নির্মাণ বর্জ্য, ইট, মাটি ও বালু। এ ছাড়া খোলা ম্যানহোলের ঢাকনা বানানো হয়েছে রাস্তাজুড়ে। ফলে দুই চাকার কোনো বাহন নিয়েও রাস্তার ভেতরে প্রবেশ করা যায় না। ওয়াসা রোড থেকে দক্ষিণ মনিপুরের সড়কটির মোড়ের পরেই রাখা হয়েছে বড় বড় কালভার্ট বক্স। এসব বক্সের ওপর দিয়ে রাস্তা পার হতে হয় পথচারীদের। সাবধানে পা না ফেললে ম্যানহোলে পড়া ছাড়াও হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, বিরাজমান অবস্থার কারণে দক্ষিণ মনিপুরের মাইকওয়ালা মসজিদের গলির উল্টো পাশ থেকে ওয়াসা রোড পর্যন্ত সব বাসায় কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। ফলে ছয় মাস ধরে এলাকার বাইরে গ্যারেজ ভাড়া করে নিজেদের গাড়ি রাখতে হচ্ছে। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। এ ছাড়া সড়কজুড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখায় জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুল্যান্স বা অগ্নিনির্বাপণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার জায়গা নেই। ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা থাকায় দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

দক্ষিণ মনিপুরের বাসিন্দা ও প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিগত ছয় মাস ধরে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছি। রাস্তার এই বেহাল দশার কারণে কোনো আত্মীয়-স্বজন বা সুধীজনদের নিমন্ত্রণ করি না। নিজেও কারো সঙ্গে দেখা করতে খুব একটা যাই না।’

ডিএনসিসির ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। বিষয়টি অবগত করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদেরও। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

ডিএনসিসি কর্মকর্তাদের দাবি, দক্ষিণ মনিপুরের ওই সড়কের কাজ অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির আপত্তি ও অসহযোগিতার কারণে তা করা যাচ্ছে না। কয়েকটি বাড়ির মালিক রাস্তার উচ্চতা বাড়ানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। আবার কয়েকটি বাড়ির মালিক রাস্তার উচ্চতা কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কাজ করতে গেলে স্থানীয় লোকজন বেশ কয়েকটি স্ল্যাব ভেঙে দেয়।  ডিএনসিসির অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্লাহ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্থানীয়দের অসহযোগিতার করণে কাজটি শেষ করা যাচ্ছে না। রাস্তা উঁচু-নিচু করার ওপর ভিত্তি করে মাটি ও বালু রাখতে হয়। কিন্তু উচ্চতা ঠিক না হওয়ার কারণে রাস্তা থেকে এগুলো সরানোও যাচ্ছে না। তবে কাজটি শেষ করতে গতকাল (সোমবার) নির্দেশনা দিয়েছে ডিএনসিসি।’

কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া যায় না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করে থাকে। আমরা চাই না উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে কোনো ধরনের অসন্তোষ বা ক্ষোভ সৃষ্টি হোক।’

তমা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আতাউর রহমান মানিক নামের এক ব্যক্তি বলে জানা গেছে। তবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা