kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত

শরবতের উপকরণে কাপড়ের রং শিশুখাদ্যে মেয়াদহীন কেমিক্যাল

দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৬ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শরবতের উপকরণে কাপড়ের রং শিশুখাদ্যে মেয়াদহীন কেমিক্যাল

কেরানীগঞ্জের বন্দ নজরগঞ্জ এলাকার রহমত ফুড প্রডাক্টসে তৈরি হচ্ছে রমজানে মানুষের বিপুল চাহিদায় থাকা তরল পানীয় তৈরির উপকরণ। এ উপকরণ দিয়ে শরবত তৈরি হয়। এর গুঁড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে সিনথেটিক কাপড়ের রং, চিনি, স্যাকারিনসহ শরীরের জন্য ক্ষতিকর নানা কেমিক্যাল। টাই কিং, টপটেন, তৃষা এই তিন নামে শহর থেকে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে এই ভেজাল শরবতের গুঁড়া। সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এ পণ্যের চাহিদাও যথেষ্ট বলে জানান কম্পানির কর্মকর্তারা। তবে এক নামে বিক্রি করতে গেলে বিক্রি কম হয় বলে একই ধরনের কেমিক্যাল দিয়ে তিন নামে পণ্যটি বাজারজাত করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে কেরানীগঞ্জ এলাকার একাধিক গুদামে র‌্যাবের বিশেষ অভিযানের সঙ্গে থেকে দেখা গেছে এসব দৃশ্য।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘শিশুখাদ্য তৈরি করে এমন দুটি প্রতিষ্ঠানে আমরা অভিযান চালিয়েছি। কেরানীগঞ্জের রহমত ফুড প্রডাক্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে শরবত তৈরির এ গুঁড়ার সঙ্গে ক্ষতিকর ফ্লেভার-কেমিক্যাল ও কাপড়ের রং ব্যবহার করতে দেখতে পাই। মালিক তাঁর ভুল স্বীকার করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ইয়োকো ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রো নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানও শিশুদের খাবারের আইটেম তৈরি করে। তাদের তৈরি সব পণ্যই কেমিক্যালনির্ভর। অনেক কেমিক্যালে মেয়াদ পাওয়া যায়নি। এসব পণ্য খাবারের যোগ্য কি না, এ ধরনের কোনো সনদ বা টেস্ট রিপোর্ট তারা দেখাতে পারেনি। এসব খাবার খেলে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।’

কেরানীগঞ্জের বন্দ নজরগঞ্জ এলাকার মূল সড়কের পাশে একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় রহমত ফুড প্রডাক্টস। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা গেল, শরবতের এ গুঁড়া তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা। গুদামের শেষ প্রান্তে গিয়ে দেখা মিলল এক ধরনের রং রাখা। এগুলো কিসের রং—জানতে চাইলে মালিক আতিকুল্লাহ শুরুতে খাওয়ার রং বললেও পরে স্বীকার করেন এগুলো কাপড়ের রং।

আতিকুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি তো খাওয়ার রং আনছিলাম। কিন্তু দোকানদার আমার লগে বেঈমানি করছে। কাপড়ের রং দিয়া দিছে। এমন ভুল আর হইব না।’

ক্ষতিকর কাপড়ের রং ব্যবহার ও কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে রহমত ফুড প্রডাক্টসকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়।

পরে কেরানীগঞ্জের গদারবাগ কালিন্দিতে ইয়োকো ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রো লিমিটেডে অভিযান চালায় র‌্যাব। ছয়তলা ভবনের প্রতি ফ্লোরেই তৈরি করা হচ্ছিল শিশুদের জন্য চকোলেট, ললিপপ, লিচু, ডেইরি মিল্কসহ বিভিন্ন পণ্য। প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ কেমিক্যালনির্ভর একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের তৈরি পণ্যে কোনো ধরনের ফল ব্যবহার করা হয় না। অভিযানে দেখা যায়, তাদের ব্যবহার করা বেশির  ভাগ কেমিক্যালে মেয়াদ নেই। যেভাবে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করার কথা, তাও করা হয় না। ব্যবহার করা বিভিন্ন কেমিক্যাল খাওয়ার যোগ্য কি না, সেই সনদ চাওয়া হলে র‌্যাবের অভিযান দলকে দেখাতে পারেনি তারা। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে কম্পানিটির জেলি প্রডাক্ট সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে আদেশ দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠান দুটির কাগজপত্রে দেখা যায়, বিএসটিআই থেকে লাইসেন্স নেওয়ার সময় তারা কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেনি। অথচ লাইসেন্স পাওয়ার পর তাদের উৎপাদন করা সব পণ্যই হয়ে ওঠে কেমিক্যালনির্ভর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা