kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা

এখনো অধরা বোরহান

কাউন্টার মাস্টারের জবানবন্দি, দায় অস্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় চলন্ত বাসে নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও মাথা থেঁতলে হত্যার মতো চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ নৃশংস ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পরও পুলিশ মূল অভিযুক্ত তিন আসামির একজন বোরহানকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর খালাতো ভাই। পুলিশ বলছে, বোরহানকে গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক অভিযান চলছে। আসামিরা কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করেও তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না।       

এ ঘটনার শুরুর দিকে অভিযুক্ত ধর্ষক বোরহানের বিষয়টি পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের অজানা ছিল। বাসচালক নূরুজ্জামানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর বোরহানের নামটি প্রথম সামনে আসে। বোরহান বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তানিয়ার বাবা গিয়াসউদ্দিন বাদী হয়ে বাজিতপুর থানায় চালক নূরুজ্জামান নূরু, হেলপার মো. লালন মিয়া, সিরিয়ালম্যান আল-আমিনসহ (২৮) চারজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

ঘটনার রাতেই কটিয়াদী থানা পুলিশ এজাহারভুক্ত বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু, হেলপার লালনসহ সন্দেহভাজন কাউন্টার মাস্টার রফিক ও বকুল মিয়া এবং সিরিয়ালম্যান খোকনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গত ৮ মে তাদের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুনের আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে হাজির করে পুলিশ। আদালত ১৫ মে পর্যন্ত প্রত্যেককে আট দিনের রিমান্ডে পাঠান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সারোয়ার জাহান কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘মামলার অন্যতম আসামি বোরহানকে ধরতে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। আসামিরা কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে না। ফলে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করেও তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুলিশ বসে নেই, মামলার সব আসামিকে অচিরেই ধরা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।’  

কাউন্টার মাস্টারের জবানবন্দি ও দায় অস্বীকার : স্বর্ণলতা পরিবহনের কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার রফিক ইসলাম রফিক (৩০) গত ১৫ মে কিশোরগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে নার্স তানিয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নিজে জড়িত থাকার কথা তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তবে কার নির্দেশে কারা কিভাবে রক্তাক্ত তানিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে তা জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আল-মামুনের আদালতে ১৫ মে দেওয়া জবানবন্দিতে রফিক বলেন, তারা মুমূর্ষু অবস্থায় তানিয়াকে নিয়ে পৌনে দুই ঘণ্টা এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে পরে হাসপাতালে নিয়ে যান। কাদের নির্দেশে এসব তারা করেছেন, সে বর্ণনাও রয়েছে জবানবন্দিতে। তার জবানবন্দির বিষয়গুলো নিয়ে এখন তদন্ত চলছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক সারোয়ার জাহান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা