kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

দুধ দই পশুখাদ্যের ক্ষতিকর উপাদান নিরূপণ করতে হবে

কাজ না করে এসি রুমে বসে থাকবেন, তা হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুধ, দই ও পশুখাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে তাতে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক, রাসায়নিক, সিসাসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে তা নিরূপণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৩ জুনের মধ্যে এ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

গতকাল শুনানিকালে বিএসটিআই আবারও জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের (এনএফএসএল) প্রধান অধ্যাপক ড. শাহনীলা ফেরদৌসীর প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আদালত বলেন, ‘তারা (এনএফএসএল) বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার চুক্তির আওতায় কাজ করে। তাদের কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তারা গবেষণা করে। অথচ আপনারা নিজেরা কিছু না করেই তাদের রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই রিপোর্ট দেখুন, তা দেখলে গা শিউরে উঠবে। আর আপনারা এসি রুমে বসে আছেন। দায়িত্ব নিয়েছেন কাজ করার। কিন্তু তা না করে এসি রুমে বসে থাকবেন, তা হবে না।’

আদালত বলেন, ‘২০১৭ সালে আইসিডিআরবি ও সায়েন্স ল্যাবরেটরির পরীক্ষায়ও এসব বিষয় উঠে এসেছে। কিন্তু আপনারা বলছেন, কিছু পান না। আপনাদের পরীক্ষায় সত্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে না কেন? আপনাদের বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

আদালতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে গতকাল আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান মামুন, দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিনউদ্দিন মানিক। এনএফএসএল প্রধান শাহনীলা ফেরদৌসীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শাহিন আহমেদ।

হাইকোর্ট এর আগে গত ১৫ মে এক আদেশে ২৩ জুনের মধ্যে ভেজাল মেশানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা দাখিল করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গরুর দুধ ও বিভিন্ন প্যাকেটজাত দুধ, দই ও গোখাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে তাতে কী পরিমাণ কীটনাশক, ব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক, রাসায়নিক, সিসাসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে, তা নিরূপণ করে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও আদালতকে জানাতে বলা হয়। একই আদেশে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রধান শাহনীলা ফেরদৌসীকে তলব করে তাঁর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে হাজির হয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন শাহনীলা ফেরদৌসী। তিনি বলেন, ‘আমরা নেদারল্যান্ডস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে কাজ করি। এরপর সেই প্রতিবেদন যাচাই করে এফএও (ইন্টারন্যাশনাল ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন) তা প্রকাশ করে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তাদের এমওইউ চুক্তির আওতায়ই এ কাজ করা হয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই নমুনা সংগ্রহ ও তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। আর এনএসএফএল আইএসও সনদপ্রাপ্ত।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ল্যাবের প্রতিবেদন পেলেই তারা তা প্রকাশ করে না। এই পরীক্ষা ও প্রতিবেদন ঠিক আছে কি না, তা বিভিন্ন দেশের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ল্যাবের মান অনেক দেশের চেয়েই উন্নত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা