kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ওয়াসার ৩৪ স্থানের পানি পরীক্ষার নির্দেশ

খরচ ওয়াসাকেই দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকা ওয়াসার পানির উৎস থেকে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত মোট ৩৪টি স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে পানি পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। আইসিডিডিআরবি, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে এসব নমুনা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের কমিটির প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ পানি পরীক্ষার মোট খরচ এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ওয়াসার কাছ থেকে আদায় করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানের মতামতের ভিত্তিতে এ আদেশ দেন আদালত। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. তানভির আহমেদ।

আদেশে চারটি উৎস (বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, ভূ-গর্ভস্থ ও ভূমিস্থ), ১০টি বিতরণ জোন (যা মডস জোন নামে পরিচিত), গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান গতকাল আদালতে বলেছেন, যে পানির ময়লা দেখা যাচ্ছে বা ঘোলা, সেটা তো পরীক্ষার দরকার নেই। সেটা রিজেক্টেড। যেটা সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ—এমন পরিষ্কার পানি পরীক্ষায় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি, যা পান করে কোনো এলাকার রোগ ছড়ানোর তথ্য মেলে। তিনি বলেন, ‘এমন এলাকার পানি আমাদের সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা করতে হবে।’

শুনানির একপর্যায়ে আদালত অধ্যাপক সাবিতার কাছে জানতে চান, প্রতি স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য কত টাকা লাগতে পারে? জবাবে তিনি বলেন, প্রতি স্যাম্পলে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হবে। এরপর আদালত ৩৪টি স্থান থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করার আদেশ দেন।

আদেশের পর অধ্যাপক সাবিতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘পানির পরীক্ষা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আজ যে পানি সুপেয়, দুই দিন পরে কোনো রকম জটিলতার কারণে সে পানি সুপেয় নাও থাকতে পারে। এ জন্যই এককালীন পরীক্ষা করে পানির বিষয়টি সমাধান করা যাবে না। পানি সুপেয় না হলে যেটা করণীয় সেটার ওপর জোর দিতে হবে। পাইপলাইনে সংস্কার কিংবা পানির মান উন্নয়ন।’

এর আগে গত ১৬ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আদালতে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০টি জোনের ময়লা পানিপ্রবণ এলাকা থেকে ৩৫৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এরপর তা তিনটি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে। ফলে মোট নমুনার সংখ্যা দাঁড়াবে এক হাজার ৬৫টি। এই এক হাজার ৬৫টি নমুনা থেকে রোগজীবাণু ও ভৌত রাসায়নিক পরীক্ষা করতে খরচ হবে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা।

আদালত এরপর ঢাবির অণুজীব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাবিতাকে ২১ মে সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে উপস্থিত হতে অনুরোধ জানিয়ে আদেশ দেন। আদালতের অনুরোধে গতকাল সকালে অধ্যাপক সাবিতা উপস্থিত হন।

গত বছর ৬ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া এক নির্দেশে ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইসিডিডিআরবির প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির নামের তালিকা গত ১৮ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠায় মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় আদালত পানি পরীক্ষার জন্য কত টাকা প্রয়োজন তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চান। এ কারণে মন্ত্রণালয় খরচের পরিমাণ উল্লেখ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন পাঠায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা