kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

ডিসকাশন প্রজেক্টের ২৭ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



১৯ মে, ১৯৯২। আল্লামা ইকবাল সড়ক, নারায়ণগঞ্জ। পুকুরের পারে একতলা বাড়ি। একটি ঘরে দুজন শ্রোতা বসে আছেন। সামনে দাঁড়িয়ে একজন বক্তা বলছেন ইউক্লিডীয় জ্যামিতির ত্রুটি নিয়ে। শ্রোতাদ্বয়ের চোখে যতটা মুগ্ধতা ছিল, তার চেয়ে বেশি স্বপ্ন ছিল বক্তার চোখে।

বক্তৃতা শুরুর আগে শ্রোতাদ্বয় ৫০টি টাকা সম্মানী দিয়েছেন। শেষ হওয়ার পর তাঁদের মনে হয়েছিল, না টাকাটা উসুল হয়েছে। তাঁদের চোখের সামনে খুলে গিয়েছিল গণিতের নতুন দরজা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিজ্ঞানচর্চায় শুরু হয়েছিল নতুন যুগ, বক্তৃতার মাধ্যমে বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া। ‘ডিসকাশন প্রজেক্ট’ নামের বিজ্ঞান সংগঠনের শুরু হয়েছিল সেই দিনে। আজ এই সংগঠন ২৭ বছরে পা রাখল। আর সেই বিজ্ঞান বক্তার নাম আসিফ।

এই যে দুজন শ্রোতা নিয়ে শুরু। ক্রমে এ খবর চারপাশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণরা তাঁর কাছে যেতেন বক্তৃতা শুনতে। ছয় মাসের মধ্যে আসিফ ৩৯টি বক্তৃতা দেন, যা ২৬ বছরে দাঁড়িয়েছে ৩০০টিতে। সব মিলিয়ে তাঁর বক্তব্য শুনেছেন ষাট হাজার মানুষ। সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল চট্টগ্রামের মুসলিম হলে ২০০৬ সালে। শ্রোতা ছিল এক হাজার ৩০০। এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছিলেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. জামাল নজরুল ইসলাম।

বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করাই ডিসকাশন প্রজেক্টের কাজ। কিন্তু কেনই বা প্রয়োজন হয়ে পড়ল দর্শনীর বিনিময়ে বিজ্ঞান বক্তৃতার। এ নিয়ে আসিফ বলেন, ‘দুটি কারণ, প্রথমত অর্থযোগ না থাকলে অংশগ্রহণকারী মনোযোগী হয় না। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের খরচও কিছুটা উঠে আসা দরকার।’

 

মন্তব্য