kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

গ্রেপ্তার হওয়া দালালদের তথ্য

বহু পথ ঘুরিয়ে লিবিয়া নেয় পাচারকারীচক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির কবলে পড়া বাংলাদেশিদের প্রথমে সড়কপথে কলকাতায় নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে দিল্লি হয়ে শ্রীলঙ্কা, এরপর দুবাই ও সিরিয়া হয়ে নেওয়া হয় লিবিয়ার ত্রিপোলিতে। সেখান থেকে ইতালির দিকে যাত্রা করানো হয়েছিল তাদের। ওই পর্যন্ত তাদের নিতে পথে অনেক বাধার সম্মুখিন হতে হয়। প্রতিটি দেশেই মানবপাচারকারী চক্রের আলাদা লোক বা দালাল কাজ করে। পাচারকারীচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর আব্দুল্লাপুর, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা এসব তথ্য দিয়েছে র‌্যাবকে।

গ্রেপ্তারকৃত দালালরা হলো শরীয়তপুরের আক্কাস মাতুব্বর, সিলেটের এনামুল হক তালুকদার ও ব্রাহ্মণবাডিয়ার আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া।

র‌্যাব-১-এর পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বল্প আয়ের মানুষদের টার্গেট করে মানবপাচারকারীরা। দালালচক্র মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে ১০-১২ লাখ টাকায় তাদের বিদেশ পাঠায়। ওই ফাঁদে একবার পড়লে ফেরার পথ থাকে না। তবে যারা এই অবৈধ কাজে জড়িত তাদের আরো অনেকের নাম পাওয়া গেছে। তাদের ধরার চেষ্টা চলছে।’

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, আটক দালালরা জানিয়েছে, অনেক বাংলাদেশি ও বিদেশি মিলে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট লিবিয়ায় লোক পাঠায়। ১০ লাখ টাকার ‘প্যাকেজে’ বহু পথ ঘুরিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিসহ আরো কয়েকটি দেশের নাগরিকদের পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। এ ক্ষেত্রে সড়ক, আকাশ ও নৌপথের প্রতিটি রুটে তারা লোক নিয়োগ করেছিল। জলে তাদের বাহন ছিল ফুলানো নৌকা। এটাতে সাগর পারি দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও তারা ওই লোকগুলোকে নৌকায় উঠেয়েছিল। কারণ নৌকায় উঠানো পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব। ওই নৌকায় পাচারকারীদের কেউ থাকে না। যারা অবৈধভাবে যায় তাদেরই নৌকা চালানো ও দিক নির্ণয়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র মতে, গ্রেপ্তার হওয়া এনামুল হক ও রাজ্জাক আন্তর্জাতিক দালালচক্রের সদস্য। আক্কাস দেশে তাদের সহযোগিতা করত। এদের সঙ্গে দেশ-বিদেশের শতাধিক দালালের পরিচয় আছে।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা