kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

ছাত্রলীগ নেতার দায়ের কোপে সাবেক নেতার চার আঙুল বিচ্ছিন্ন

কলারোয়া হাসপাতালের ভেতরেই হামলা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সম্পাদক রামদা দিয়ে কুপিয়ে সাবেক সহসাধারণ সম্পাদকের হাতের চারটি আঙুল কেটে নিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলারোয়া হাসপাতালের অভ্যন্তরেই এ ঘটনা ঘটে। জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে দুই দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।

আহত উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক জি এম তুষার জানান, কলারোয়া পৌর সদরের মুরারীকাঠি গ্রামে তাঁর জমি আছে। সদ্য উপজেলা নির্বাচনের পর প্রতিপক্ষ উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান নাইস ওই জমি দখল করে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুজনের মধ্যে মারামারিও হয়। এতে তিনি সামান্য আহত হয়ে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর হোসেনের নেতৃত্বে নাইস ও আরো পাঁচ-ছয়জন হাসপাতালের দোতলার বেড থেকে তাঁকে ডেকে নিচে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের

পাশে তাঁদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নাইস হত্যার উদ্দেশে রামদা দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ মারেন। এ সময় ডান হাত দিয়ে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে গেলে দায়ের কোপ তাঁর হাতে লেগে চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় নাইসের পক্ষের শহিদুল ইসলামও (৪৮) আহত হন। পরে খবর পেয়ে তাঁর বাবা ও চাচা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর এবং পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

প্রত্যক্ষদর্শী কলারোয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিতে তুষার নামের এক যুবক আহত হন। তাঁর ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে পড়ে যাওয়ায় তাঁকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর হোসেন বলেন, ‘জি এম তুষার দলীয় পরিচয়ে এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল, যে কারণে তাকে ছাত্রলীগের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ নিয়ে বর্তমান কমিটির ওপর তুষার ক্ষুব্ধ ছিল। জমি দখল করা নিয়ে দুই দিন আগে তুষারের সঙ্গে নাইসের গণ্ডগোল হয়। সে সময় তুষার নাইসের পক্ষের মন্টু, পলাশ ও সিজানকে মারপিট করে আহত করে এবং তাদের নামে উল্টো মামলা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ নিয়ে গতকাল শনিবার হাসপাতালে নাইসের সঙ্গে তুষারের মারামারি হয়েছে।’ এ ঘটনায় তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন সাগর। এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে নাইসের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আহত তুষারের বাবা উপজেলার পাটুলিয়া গ্রামের মুনসুর আলী বলেন, কলারোয়া বাজারে তাঁর ছেলের তুষার ইলেকট্রনিকস নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে গতকাল দুপুরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান নাইস তাঁর পক্ষের কয়েক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর ছেলেকে মারধর করে ডান হাতের আঙুল কেটে নেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাচ্ছি।’

কলারোয়া থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আহত তুষারের চাচা আবু সিদ্দিক বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 

 

মন্তব্য