kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

বিশ্বনাথে মানবপাচারকারী রফিকচক্রের বিরুদ্ধে মামলা

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সম্প্রতি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিশিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার যুবক রেদওয়ানুল ইসলাম খোকন (২৬)। দালালচক্র মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে তাঁকে প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া নিয়ে যায়। সেখানে খোকনসহ অন্যান্য যুবককে ঘরে বন্দি করে রাখা হয়। ইতালি পাঠাতে খোকন ও তাঁর সহযাত্রীদের নৌকায় উঠতে বাধ্য করে সাগরে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপজেলার নওধার মাঝপাড়া গ্রামে রেদওয়ানুল ইসলাম খোকনের বাড়িতে গেলে তাঁদের কাছে এমন অভিযোগ করেন খোকনের মা-বাবা।

বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার গ্রামের ইলিয়াস আলীর ছেলে রেদওয়ানুল ইসলাম খোকন। তিনি সিলেট সরকারি কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে খোকনকে একই ইউনিয়নের কাঠলীপাড়া গ্রামের চমক আলীর ছেলে আদম ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিক ইতালি যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগের কথা বলেন। এতে খোকন রাজি হয়ে গেলে পরিবারের সবাই টাকার জন্য হিমশিম খায়। একপর্যায়ে দালাল রফিকের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সাড়ে আট লাখ টাকার বিনিময়ে খোকনকে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তাঁর পরিবার। ছেলেকে ইউরোপ পাঠানোর আশায় খোকনের বাবা ইলিয়াস আলী তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ফিজা এন্ড কোম্পানী’র নামে ব্র্যাক ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখা থেকে আট লাখ টাকা লোন উত্তোলন করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দালাল রফিককে প্রদান করেন ইলিয়াস আলী। কথা ছিল লিবিয়া পৌঁছার পর এক মাসের মধ্যে সেখান থেকে ইতালি পৌঁছানো হবে খোকনকে এবং ইতালি পৌঁছার পর চুক্তির বাকি আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু লিবিয়া পৌঁছার এক সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির বাকি টাকাসহ আট লাখ ২০ হাজার টাকা খোকনের পরিবারকে চাপ দিয়ে আদায় করে নেয় দালালচক্র। ঘটনার পর থেকে সপরিবারে আত্মগোপনে আদম ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিক।

রেদওয়ানুল ইসলাম খোকনকে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশ পাঠানো এবং নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর বড় ভাই রেজাউল ইসলাম রাজু বাদী হয়ে দালাল রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ও আরো ১০-১১ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা বলেন, ‘তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

 

মন্তব্য