kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

‘ধর্ষণচেষ্টা’য় বাধা, গৃহবধূকে লাঠিপেটা, ভিডিও ভাইরাল

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় তিন সন্তানের এক জননীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও অর্ধনগ্ন করে প্রকাশ্যে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। গত সোমবারের এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার কুলাউড়া থানায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। আসামি উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের উজানপাড়া গ্রামের মৃত সরল খানের ছেলে মোলাইম খানকে (৪৫) শুক্রবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসীর স্ত্রী ওই গৃহবধূর বাড়ি বরমচাল ইউনিয়নের একটি গ্রামে। গত সোমবার দুপুরে তিনি তাঁর স্বামীর বিদেশ থেকে ‘বিকাশে’ পাঠানো টাকা স্থানীয় ফুলেরতল বাজারের একটি দোকান থেকে তুলে বাড়িতে ফেরেন। এ সময় মোলাইম খান তাঁর পিছু নিয়ে ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। বাধা দেওয়ায় তাঁকে নানা অপবাদ দিয়ে পেটাতে পেটাতে বাইরে আনেন মোলাইম। সেখানে গৃহবধূকে তাঁর দুই সন্তানের সামনে অর্ধনগ্ন করে বেধড়ক লাঠিপেটা করেন মোলাইম। সন্তানরা মাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে মোলাইম তাদের ওপরও চড়াও হন। মারধরের একপর্যায়ে গৃহবধূ অচেতন হয়ে পড়লে মোলাইম চলে যান। গৃহবধূর আত্মীয়-স্বজন তাঁকে আহত অবস্থায় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

গৃহবধূকে এ মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। বৃহস্পতিবার রাতে গৃহবধূ মোলাইমকে আসামি করে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেন। চিকিৎসায় সময় লাগায় মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

স্ত্রী দাবি, গৃহবধূ বলছেন প্রতারণা

মোলাইম খান ওই গৃহবধূকে তাঁর স্ত্রী দাবি করছেন এবং স্ত্রীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁকে মারধর করেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে গৃহবধূ বলছেন, এটা মোলাইমের প্রতারণা। তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুর-শাশুড়ি মারা গেছেন। স্বামী প্রবাসী। ভাশুর অন্যত্র থাকেন। দুই সন্তান নিয়ে আমি বাড়িতে থাকি। আমার চাচাশ্বশুরের সঙ্গে জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। মোলাইম খান দূর সম্পর্কের আত্মীয়। আমি মহিলা, তাই মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব দিই মোলাইমকে। এ জন্য তিনি মাঝেমধ্যে আমার বাড়িতে আসতেন। মামলা পরিচালনার জন্য ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ একই তারিখের কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্প কাগজে স্বাক্ষর নিতে আসেন মোলাইম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজে দস্তখত দিতে হবে। আমি সরল বিশ্বাসে সেই সাদা স্ট্যাম্পে দস্তখত দিই। কিছুদিন পর মোলাইম আমার স্বামীর কাছে মোবাইল ফোনে কথিত তালাকের হলফনামার ও কোর্ট ম্যারেজের কাগজের ছবি পাঠান। এ বিষয়ে স্বামী আমাকে জানান। বিষয়টি আমি মোলাইমকে জিজ্ঞেস করি। পরে তিনি আমার দস্তখত দেওয়া ওই কাগজ দেখিয়ে আমাকে তাঁর স্ত্রী দাবি করেন। এরপর তিনি তাঁকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে আমাকে বিভিন্ন সময় হয়রানি করেন এবং এক দিন মারধর করেন। ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কথিত কোর্ট ম্যারেজ ও তালাকনামা বাতিলের জন্য এফিডেভিটের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করি। এর পরও তিনি আমাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। সোমবার তিনি আমাকে ব্যাপক মারধর করা ছাড়াও আমার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যান।’

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে মোলাইম খান বলেন, ‘আমার দুই স্ত্রী আছে। ওই নারীও (গৃহবধূ) আমার স্ত্রী। আমি তাকে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে করেছি। আগের স্বামীর সঙ্গে তার তালাক হয়ে গেছে। ঘটনার দিন তার বাড়িতে গেলে সে আমার ওপরে হামলা চালায়। আমি আত্মরক্ষার্থে তাকে মারধর করি।’ তাঁর দাবি, গৃহবধূর সঙ্গে বিয়ের সব কাগজপত্র আপসের জন্য স্থানীয় ফুলেরতল মসজিদ পঞ্চায়েতের (কমিটির) সাবেক সভাপতি আনারউদ্দিনসহ কমিটির সদস্যদর কাছে দেওয়া আছে।

কুলাউড়া থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, গৃহবধূর মামলায় মোলাইম খানকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

মন্তব্য