kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

জলাতঙ্ক রোধে ঝুঁকিমুক্ত করা হচ্ছে ১৩ লাখ কুকুর

তৌফিক মারুফ   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ লাখ কুকুরকে ঝুঁকিমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে আগেই। আর গত ১৪ মে থেকে শুরু হয়ে ঢাকায় কুকুরকে টিকা দেওয়ার প্রথম ধাপের কার্যক্রম শেষ হচ্ছে আজ রবিবার। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এ অভিযানের মাধ্যমে ঢাকায় প্রায় ৪৫ হাজার কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ব্যাধি, যা একবার হলে মৃত্যু অনিবার্য। সাধারণত কুকুরের কামড় থেকেই ৯০ শতাংশ জলাতঙ্ক রোগ হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঢাকা ছাড়া সারা দেশে প্রায় ১২ লাখ ৩৮ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সব ওয়ার্ডে ব্যাপকহারে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের ৩৯টি জেলা ও সাতটি সিটি করপোরেশনে কুকুরকে ভ্যাকসিন দিয়ে জলাতঙ্ক থেকে রক্ষার কার্যক্রম আগে থেকেই আমরা শুরু করেছি। কিন্তু ঢাকা শহরে অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এটা করতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এবার সেই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে বিভিন্নভাবে পরিকল্পনা করে একই সঙ্গে কুকুরের সংখ্যা নিরূপণ ও ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু হয় ১৪ মে থেকে। ভ্যাকসিনপ্রাপ্ত কুকুর কোনো মানুষকে কামড়ালেও জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকবে না। তবে এ জন্য পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে প্রতিটি কুকুরকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন করতে হবে।’

একই বিভাগের ডিপিএম ডা. উম্মে রুমান সিদ্দিকী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মূল উদ্যোক্তা হলেও ঢাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সিটি করপোরেশন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহায়তা নিচ্ছি। তারাও আমাদের এ কার্যক্রমের একরকম অংশীদার।’

ওই কর্মকর্তা জানান, কুকুরকে ধরে ভ্যাকসিন দেওয়ার পর গায়ে রং স্প্রে করে দেওয়া হয় গণনার সুবিধার্থে।

বেসরকারি সংস্থা ‘অভয়ারণ্য’র তথ্যসূত্র অনুসারে, এর আগেও এক দফা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের সহায়তায় ঢাকা মহানগরীতে পাইলট আকারে একটি সার্ভে করা হয়েছিল যেখানে মোট ৩৫ হাজার কুকুর শনাক্ত করা হয়। তখন দেখা গেছে ঢাকায় চার ধরনের কুকুর রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশই বেওয়ারিশ বা পথকুকুর। বাকিগুলোর মধ্যে ২০ শতাংশ কমিউনিটিতে থাকে (বিশেষ কোনো এলাকায়), ৫ শতাংশ সাধারণভাবে পালিত এবং মাত্র ১ শতাংশ ক্রয়সূত্রে পালিত। আর পথের কুকুরই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জলাতঙ্কের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এসব কুকুরকে মানুষের জন্য নিরাপদ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

ঢাকা সিটি করপোরেশন সূত্র থেকে জানা যায়, আগে প্রতিবছর শুধু ঢাকাতেই প্রায় ২০ হাজার কুকুর হত্যা করা হতো কুকুর নিধন অভিযানের নামে। এখন সেই পদ্ধতি নেই। এখন কুকুরকে জলাতঙ্কমুক্ত করে মানুষের জন্য বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

গত ৯ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় কুকুরকে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়ার মাধ্যমে আমরা ২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূল করার কাজ করে যাচ্ছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা