kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

নিখোঁজ দুই যুবকের মৃত্যুর খবর পেল পরিবার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিশিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে নিখোঁজ শরীয়তপুরের দুই যুবকের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়েছে তাঁদের পরিবার। গত শুক্রবার রাতে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের তাঁদের পরিবারকে এ খবর দেন।

ওই দুই যুবক হলেন নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের নলতা গ্রামের ইয়ার খানের ছেলে রাজিব খান (২৬) ও দক্ষিণ চাকধ গ্রামের গৌতম দাসের ছেলে উত্তম দাস (২৩)। এর আগে চাকধ গ্রামের মোকছেদ মৃধার ছেলে পারভেজ মৃধার মৃত্যুর খবর পায় তাঁর পরিবার।

গ্রামবাসী জানায়, রাজিব খানের বাবা ইয়ার খান স্ত্রী রাজিয়া বেগম ও এক ছেলেকে নিয়ে ওমান থাকেন। সংসারের বড় ছেলে রাজিব তিন বোনকে নিয়ে দেশে থাকতেন। গত বছর রাজিব ইতালি যাওয়ার বায়না ধরেন। সে অনুযায়ী স্থানীয় দালাল আক্কাছ মাদবরের সঙ্গে সাড়ে সাত লাখ টাকায় চুক্তি করেন। গত বছর রমজান মাসে রাজিব, তাঁর ফুফাতো ভাই রনি মোল্লাসহ এলাকার আরো ১০-১২ জন যুবক ওই দালালের হাত ধরে লিবিয়া যান। সেখান থেকে নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি রওনা হন। গত ১১ মে রাতে অভিবাসীবাহী নৌকাটি তিউনিশিয়ার উপকূলে ডুবে গেলে নিখোঁজ হন রাজিবসহ নড়িয়ার যুবকরা।

এদিকে ছেলের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওমান থেকে গত শুক্রবার দেশে ফিরেছেন মা রাজিয়া বেগম। শনিবার রাজিবদের বাড়ি গেলে দেখা যায় সন্তানহারা রাজিয়া বেগম আহাজারি করছেন, তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে আত্মীয়-স্বজনরা। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, ‘ছেলেকে মানা করেছিলাম ঝুঁকি নিয়ে ইতালি যেতে। টাকা দিয়ে দেশেই ব্যবসা করার কথা বলেছিলাম।’

আরেক হতভাগ্য যুবক দক্ষিণ চাকধ গ্রামের উত্তম দাস স্থানীয় একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন গত বছর। এরপর তিনিও স্থানীয় আক্কাছ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যান এবং ইতালি যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। উত্তমের বাবা গৌতম দাস আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘ছেলের লাশ পাওয়া গেছে—এমন খবর প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। আমাদের ছেলে আর নেই, এটা আমরা মেনেই নিতে পারছি না। লাশটা যেন পাই, শেষবারের মতো  ছেলের মুখটা দেখতে চাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা