kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

দুর্বিষহ যানজটে নাকাল নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্বিষহ যানজটে নাকাল নগরবাসী

রাজধানীর তেজগাঁও সাতরাস্তা এলাকায় এভাবেই দিনভর যানজট লেগে ছিল। ছবিটি দুপুর ১টায় তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর বিজয় সরণি থেকে তেজগাঁও উড়াল সেতুতে উঠতেই গাড়ি আর সামনে এগোলো না।  টানা ৪৫ মিনিটে বড় জোড় ১০ গজ সামনে যাওয়া গেল। এই উড়াল সেতু থেকে নেমে মহাখালী-সাতরাস্তা হয়ে আবারও উড়াল সেতু। কিন্তু তখন এক কিলোমিটার পথ পার হতে লেগে গেল ৪৪ মিনিট। মালিবাগ-মৌচাক উড়াল সেতু হয়ে চলতে চলতে শান্তিনগরের চামেলিবাগে গিয়েও ঠেলতে হলো গাড়ির জট। উবারের প্রাইভেট কার চালক মো. আরমানুল ইসলাম গন্তব্যে পৌঁছে বললেন, ‘আগারগাঁও থেকে শান্তিনগরে চলাচলে আগে লাগত আধাঘণ্টা। আজ আসলাম তিন ঘণ্টায়।’

শুধু তেজগাঁও উড়ালসেতু নয়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানী উড়াল সেতু, মেয়র হানিফ উড়াল সেতু, মগবাজার মালিবাগ উড়াল সেতুর বিভিন্ন অংশেও যানজট ছিল। সকালে কর্মস্থলে যেতে এক দফা যানজট হলেও, দুপুরে কেন এই যানজট তার জবাব জানতে চাইলে ঢাকা ট্র্যাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মিরপুর থেকে ফার্মগেট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত সড়কের মধ্যাংশ বন্ধ থাকায় যানজট তার পাশের সড়কগুলোয় ছড়িয়েছে।

আগারগাঁও থেকে গতকাল বিজয় সরণি হয়ে গাড়ির বড় একটি অংশ তেজগাঁও হয়ে বিকল্প পথে চলাচল করে। কারণ বাংলামোটর, সোনারগাঁও মোড়, শাহবাগ হয়ে চলাচল করলে ভ্রমণ সময় আরো বেশি লেগে যায়। আটকে থাকতে হয় এসব স্থানে।

রাজধানীতে ৭৩টি মোড় আছে। এর মধ্যে মিরপুর-১২ থেকে বড় ধরনের আটটি মোড়েই অপেক্ষাকৃত বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। অবস্থা এমন যে যানজটের কারণে মিরপুর থেকে চলাচলকারী বাসগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশ রাজধানীর অন্যান্য রুটে চলাচল করছে। বিহঙ্গ পরিবহন, আকিক পরিবহন, প্রজাপতি পরিবহন, তেঁতুলিয়া পরিবহনসহ বিভিন্ন কম্পানির বাস এখন অর্ধেকে নেমেছে। কারণ হিসেবে প্রজাপতি পরিবহনের বাসচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মেট্টো রেলের কাজের জন্য এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। কম্পানির ৫০টির বেশি বাস অন্য রুটে চলাচল করছে।’

গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডি, শাহবাগ, ফার্মগেট, বেইলি রোড, কাকরাইল, রামপুরা, মতিঝিল, মিরপুর-১০ ও এর আশপাশেও তীব্র যানজট ছিল। শান্তিনগর মোড়ে দুপুর ১টায় দায়িত্ব পালনরত ট্র্যাফিক পুলিশ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তিনগর, বেইলি রোড, চামেলিবাগে যানজটের তীব্রতা দুপুরেও থাকে। কারণ সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ভিকারুননিসা নুন উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি হয় দুপুরে। এ ছাড়া বিকল্প সড়ক হিসেবে মহাখালী-সাত রাস্তা হয়ে উড়াল সেতু দিয়ে গাড়ির চাপ এ এলাকায় পড়ছে। তাতেই অবস্থা বেসামাল হয়ে পড়ছে।’

মালিবাগ মোড়ে অনাবিল পরিবহনের চালক মো. আলম মিয়া বলেন, ‘রামপুরা ও নর্দায় বেশি যানজট হচ্ছে। কারণ আন্ত জেলা রুটের বাসগুলো ঘুরিয়ে নেওয়া ও থেমে থাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।’ একই মোড়ে এই বাসের যাত্রী আবদুল লতিফ বলেন, ‘দুপুরেও যানজটে এখানে আটকে আছি ১৫ মিনিট ধরে।’ 

মন্তব্য