kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

কাপাসিয়ায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

হাসপাতাল সিলগালা, তদন্ত কমিটি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর    

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অস্ত্রোপচারের পর টানা দুই দিন তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ওই প্রসূতি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই মারা যান প্রসূতি।

ওই প্রসূতির নাম তানিয়া আক্তার (২০)। উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের কুশদি গ্রামের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রায়হানের স্ত্রী তিনি।

ওই ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. ইসমত আরা হাসপাতালটি সিলগাল করেছেন। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান ইউএনও।

স্বজনরা জানায়, সাড়ে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া আক্তারের প্রসব ব্যথা উঠলে তাঁর স্বামী গত বুধবার সকালে তাঁকে পাশে আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

তানিয়া আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ রায়হান জানান, হাসপাতালের দুই কর্মচারী ‘রোগীর অবস্থা ভালো নয়’ দাবি করে আধাঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। এরপর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম আকন্দও একই মত দেন। পরে সকালেই তাঁরা (চিকিৎসক) তড়িঘড়ি তানিয়ার অস্ত্রোপচার করেন।

তানিয়া আক্তারের চাচি রুমা আক্তার জানান, অস্ত্রোপচারের পর একটি সুস্থ ছেলেশিশুর জন্ম দিলেও অবস্থার অবনতি ঘটে তানিয়ার। ‘সুস্থ হয়ে উঠবে’ বলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তানিয়াকে কোথাও নিয়ে যেতেও দেননি চিকিৎসকরা।

তানিয়ার শ্বশুর শহিদুল্লাহ অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তাঁর পুত্রবধূ যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। বিকেলে যন্ত্রণার তীব্রতা বাড়ায় চিৎকার করছিলেন তানিয়া। এতে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক ছুটে গিয়ে তানিয়াকে সজোরে থাপ্পড় মারেন। ওই অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে তানিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

শহিদুল্লাহ আরো জানান, গত বুধবার হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ অপারগতা জানালে তানিয়াকে তাঁরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার প্রায় ২০ মিনিট পরই মারা যান তানিয়া। শহিদুল্লাহ অভিযোগ করেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁদের জানিয়েছেন, তানিয়া ভুল চিকিৎসার শিকার।

অভিযোগ অস্বীকার করে আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল আলম শিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভুল চিকিৎসা নয়, বিলিরুবিনের মাত্রা বাড়ায় ওই প্রসূতিকে আমরা ঢামেকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। সেখানেই তাঁর (প্রসূতি) মৃত্যু হয়।’

তবে শহিদুল্লাহ আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে আপসরফার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁকে মোটা অঙ্কের টাকার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, ‘আমি হাসপাতালের মালিকসহ ভুল চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. ইসমত আরা বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট (গাইনি) আয়েশা সিদ্দিকা।’

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ প্রসঙ্গে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য