kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

টিসিবির উদ্যোগে স্বস্তি এলেও বাজারে চড়া পেঁয়াজ-চিনি

শওকত আলী   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিসিবির উদ্যোগে স্বস্তি এলেও বাজারে চড়া পেঁয়াজ-চিনি

কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও পেঁয়াজ ও চিনির বাজারের লাগাম ধরে রাখা যাচ্ছে না। ঢাকার সব বাজারে পুরোপুরি প্রভাব না পড়লেও কিছু কিছু জায়গায় বাড়তি দামে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ ও খোলা চিনির দাম কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) খোলাবাজারে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ক্রেতাদের। এখানে বাজারের তুলনায় বেশ কম দামে মিলছে তেল, চিনি ও ডাল।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, সেগুনবাগিচা, হাতিরপুল, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ কোথাও ৩০ টাকা, আবার কোথাও ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাস দুয়েক ধরে দেশি পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেড়েছে, যা অনেক দিন ধরেই ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে আসছিল। দুই দিন ধরে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে। দুই দিনের ব্যবধানে দুই ধরনের পেঁয়াজের দামই বেড়েছে।

ক্রেতারা বলছে, রমজান শুরু হতে বাকি আর ১০ দিন। প্রতিবছরই রমজানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এবারও রমজানের ঠিক আগ মুহূর্তে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পণ্যটির দাম। ফার্মগেট কাঁচাবাজারের এক ক্রেতা তৌহিদা জান্নাত বলেন, ‘দুই দিন আগেও ৩০ টাকায় দেশি পেঁয়াজ কিনেছি। আজ (বৃহস্পতিবার) কিনতে হচ্ছে ৩৫ টাকায়। বোঝা যাচ্ছে রোজা এসে গেছে।’

একই বাজারের এক বিক্রেতা ফারুক কালের কণ্ঠকে জানান, দুই দিন আগেও কারওয়ান বাজার থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে দেশি পেঁয়াজ কিনে ৩০ টাকায় বিক্রি করেছেন, কিন্তু গত বুধবার তাঁকে এই পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ৩০ টাকা কেজিতে, যে কারণে তিনি ৩৫ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। 

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে শরিফুল ইসলাম নামের এক পাইকারি বিক্রেতার কাছে দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘রোজায় বাড়তি সরবরাহের চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই দাম বেড়েছে। রোজায় একটু বাড়বেই।’

এদিকে মাসখানেক ধরেই পেঁয়াজের বাজারে বাড়তি নজরদারি করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শ্যামবাজারে দুই দফা মিটিং করে আড়তদারদের বাধ্য করা হয়েছে পেঁয়াজের বস্তায় বিক্রির তারিখ ও প্রতি কেজির দাম লিখতে। তার পরও অনেকেই তা মানছে না, যে কারণে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির এক অভিযানে চারটি আড়তকে জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘পাইকারি বাজারে নজরদারির ধারাবাহিকতায় শনিবার থেকে খুচরা বাজারেও নজরদারি শুরু করব। কারওয়ান বাজারের মতো একটু ছোট পাইকারি বাজারগুলোও এর আওতায় আসবে। অনৈতিকভাবে কেউ দাম বাড়িয়ে এবার পার পাবে না।’

এদিকে পেঁয়াজের মতোই ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে চিনির দাম। প্যাকেটজাত চিনির বাজার স্থিতিশীল থাকলেও খোলা চিনির দাম কিছু কিছু জায়গায় বেড়ে গেছে। সপ্তাহখানেক আগেও খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৫ টাকায়। এখন তা ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের দ্বিতীয় তলায় মুদি দোকানগুলোতে প্রতি কেজি খোলা চিনি ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

টিসিবি ন্যায্য মূল্যে খোলাবাজারে চিনি, তেল ও ডাল বিক্রি শুরু করেছে ঢাকার ৩৫টি স্থানে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চিনি ৪৭ টাকা, প্রতি লিটার ভোজ্য তেল (সয়াবিন) ৮৫ টাকা ও মসুর ডাল ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি রোজা শুরুর পাঁচ দিন আগে থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে ছোলা ও দুই দিন আগে থেকে ১৩৫ টাকা দরে খেজুর বিক্রি করবে। একজন ক্রেতা একসঙ্গে চার কেজি করে চিনি, মসুর ডাল ও ছোলা, পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল এবং এক কেজি খেজুর কিনতে পারবে।

মন্তব্য