kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

পরীক্ষার হলে ছাত্রের চুল কেটে দিলেন শিক্ষক

লজ্জায় আত্মহননচেষ্টা

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীক্ষার হলে ছাত্রের চুল কেটে দিলেন শিক্ষক

নরসিংদীর বেলাবতে পরীক্ষার হলে প্রকাশ্যে দশম শ্রেণির এক ছাত্রের চুল কেটে দিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ওই ছাত্রের চুল কাটার ‘স্টাইল’ পছন্দ না হওয়ায় গত বুধবার উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের লাখপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন কাজল এ কাণ্ড ঘটান।

এ ঘটনার পর লজ্জায় ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় বলে জানিয়েছে তার পরিবারের লোকজন। সে বর্তমানে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছে।

সহপাঠী ও ওই ছাত্রের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে দশম শ্রেণির ওই ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পর কক্ষ পরিদর্শনে এসে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন কাজল ওই ছাত্রের চুল কাটার ধরন পছন্দ না হওয়ায় কাঁচি এনে সবার সামনে তা কেটে দেন। আকস্মিক প্রধান শিক্ষকের এমন কাণ্ডে হতভম্ব হয়ে যায় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ওই ছাত্র লজ্জায় আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে চেতনা হারায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্ঞান না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। এ সময় চিকিৎসকরা তার চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ার আলামত পান।

ওই ছাত্রের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলের চুল প্রধান শিক্ষকের পছন্দ না হলে তিনি তাকে আলাদাভাবে বলতে পারতেন। এমনকি আমাকে অফিসে ডেকে বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে সবার সামনে চুল কেটে দেন। এতে সে লজ্জা ও অপমানে কিছু একটা খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় বেলাব থানার ওসি মো. ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া আমাদের থানায় ডেকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আপস করিয়ে দেন।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন কাজলকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে না পেয়ে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে অন্য শিক্ষকরাও কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। প্রকাশ্যে সব শিক্ষার্থীর সামনে চুল কেটে নেওয়া রীতিমতো একটা নির্যাতন। একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি তা করতে পারেন না। এ ব্যাপারে কেউ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে শুনেছি ওসি সাহেব প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের লোকজনকে আপস করিয়ে দিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে বেলাব থানার ওসি মো. ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, ‘এটা আসলে আপস বলা যাবে না। ঘটনাটি শুনে আমি ওই শিক্ষার্থীর মা-বাবা ও ওই প্রধান শিক্ষককে ডেকে পাঠিয়েছিলাম। কারণ প্রধান শিক্ষক যা করেছেন, তা অন্যায়। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীর মা-বাবা কোনো অভিযোগ দিতে চাননি তাই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

মন্তব্য