kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

সীমার বাইরের সিম সংযোগ

নিষ্ক্রিয় হওয়ার তালিকায় ২০ লাখ সিম

গত রাত ১২টার পর থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথা

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একজন গ্রাহকের ১৫টির অতিরিক্ত সিম বা সংযোগ বন্ধে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সময় বাড়ানোর আবেদন নাকচ করেছে বিটিআরসি। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৬টার মধ্যে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রায় সাড়ে ২০ লাখ সিম নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথা।

বিটিআরসি গতকাল সন্ধ্যায় সময় না বাড়ানোর বিষয়ে সর্বশেষ নির্দেশনা মোবাইল ফোন অপারেটরদের জানিয়ে দেয়। এর কয়েক মিনিট আগে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের পক্ষ থেকে কালের কণ্ঠকে বলা হয়, ‘আমরা গ্রাহকদের অসুবিধার কথা তুলে ধরে বিটিআরসির কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছি। কারণ অনেক সিম অনলাইন বা আর্থিক কাজে ব্যবহৃত হয়। আশা করি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে আমাদের আবেদনে সাড়া দেবে।’

জানা যায়, অ্যামটবের সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ গতকাল বিটিআরসি চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে দুই মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক গতকাল বিকেলে বলেন, ‘এক জাতীয় পরিচয়পত্রে ১৫টির অধিক সিম থাকলে সেগুলো আজ মধ্যরাত থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নিরাপদে মোবাইল সিম ব্যবহারে এই প্রচেষ্টা আরো গ্রাহকবান্ধব হবে এবং এই খাত অধিকতর সুশৃঙ্খল হবে। আশা করছি, এর ফলে জনসাধারণ নির্বিঘ্নে উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রহণ করতে পারবে।’

বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুসারে একজন মোবাইল ফোন গ্রাহক ১৫টির বেশি সিম ব্যবহার করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো গ্রাহকের ১৫টির বেশি সিম থাকলে, যেগুলো আগে নেওয়া হয়েছে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। বহাল থাকবে পরে নেওয়া ১৫টি সিম। এক বছর আগেই এ সিদ্ধান্তের কথা মোবাইল ফোন অপারেটরদের জানিয়ে দিলেও তা এত দিন বাস্তবায়িত হয়নি।

বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুসারে গ্রাহকপ্রতি ১৫টির বেশি সিম রয়েছে সব অপারেটর মিলিয়ে ২০ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৭টি। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের চার লাখ ৬১ হাজার ২৬১, বাংলালিংকের চার লাখ ৫৫ হাজার ৮৩১, রবির সাত লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৫ (এয়ারটেলের দুই লাখ ২৫ হাজার ৭৪১) ও টেলিটকের চার লাখ ৮৭ হাজার ৮৯২টি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১৫টির বেশি বা সীমার বাইরে সিমের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ বিটিআরসির সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিকস ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম বা সিবিভিএমপি সার্ভারে এখনো মোবাইল ফোন অপারেটররা তাদের সব গ্রাহকের তথ্য দেয়নি। জানা যায়, এ ধরনের সিম রয়েছে গ্রামীণফোনের প্রায় ৪৫ হাজার, বাংলালিংকের প্রায় ১২ হাজার এবং রবির ৭০ হাজারের কাছাকাছি। আগামী ৩০ এপ্রিল সিবিভিএমপি সার্ভারের সঙ্গে অপারেটরদের ডাটার সমন্বয় করা বা এসব সিমের তথ্য দেওয়ার সময় নির্ধারিত রয়েছে।

লে. কর্নেল মোহাম্মদ আজিজুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, ৩০ এপ্রিলের পর সিবিভিএমপি সার্ভারের বাইরে থাকা এসব সিমের ডাটা সমন্বয়ের পর নির্ধারিত সীমার বাইরে আরো সিম চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত সিম বন্ধের সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন অপারেটরদের আজ (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে পরদিন (শুক্রবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, এ সময়ের মধ্যেই অতিরিক্ত এসব সিম নিষ্ক্রিয় করার কাজ সম্পন্ন হবে। তবে কারিগরি কোনো সমস্যা দেখা দিলে তার জন্য অতিরিক্ত কিছুটা সময় দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।’

অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, বিটিআরসির সর্বশেষ নির্দেশনা প্রতিপালনে তাঁদের প্রস্তুতি রয়েছে। গ্রামীণফোন ও টেলিটকের পক্ষ থেকেও একই তথ্য জানানো হয়। তবে রবির কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য