kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির দিনেই উদ্ধারকর্মী হিমুর আত্মহত্যা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির দিনেই উদ্ধারকর্মী হিমুর আত্মহত্যা!

এয়ার ফ্রেশনার, পারফিউম বা যেকোনো ধরনের সুগন্ধি অসহ্য ঠেকত হিমুর কাছে। মুরগি বা গরুর কাঁচা মাংস দেখলে নিজেকে সুস্থির রাখতে পারতেন না। মানুষের চেয়ে পশুপাখির সান্নিধ্য পছন্দ করতে থাকেন। রানা প্লাজার উদ্ধার অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন মানসিক বিপর্যয়ে নিয়ে যায়। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ষষ্ঠ বর্ষের দিন ২৪ এপ্রিল গত বুধবার রাতে শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহননের পথ বেঁচে নেন রানা প্লাজার অনন্য উদ্ধারকর্মী নওশাদ হাসান হিমু (২৭)। 

অথচ শতভাগ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে কতজনের প্রাণ বাঁচিয়েছেন হিমু! তাঁর এই আত্মহননের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেনি কেউ। সাভারের বিরুলিয়ায় শ্যামপুর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বুধবার রাত ৯টার দিকে তাঁর ঝলসে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই এলাকার আবদুল হক মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন হিমু। সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর উদ্ধার তৎপরতার জন্য হিমু সবার কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। বরিশালের উজিরপুর থানার বাবর গ্রামের সরদার আবুল হোসেনের ছেলে ছিলেন হিমু।  বন্ধু-শুভানুধ্যায়ীদের কাছে ‘হিমালয় হিমু’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজগর আলী কালের কণ্ঠকে জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, হিমু কারো সঙ্গে তেমন একটা মিশতেন না। পুলিশ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে ঘটনাটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা। তাঁর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ কালের কণ্ঠকে বলেন, নিজের গায়ে নিজে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়ে আত্মহত্যা করেছেন হিমু। তিনি তিন বছর ধরে শ্যামপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

‘হিমালয় হিমু’ নামে হিমুর ফেসবুক আইডিতে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার রাতে আত্মহননের আগে ফেসবুকে কয়েকটি লেখা পোস্ট করেন হিমু। এর মধ্যে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেওয়া একটি পোস্টে লেখেন—‘ছোটকাল হৈতেই আগুন আমার অনেক পছন্দ’।

হিমুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অ্যাক্টিভিস্ট কল্লোল মোস্তফা ফেসবুকে লেখেন—‘কিভাবে সম্ভব! কেন এ রকম করল হিমু? রানা প্লাজার উদ্ধার তৎপরতায় যে মানুষগুলোকে সত্যিকারের হিরো মনে হয়েছিল, হিমু ছিল তার মধ্যে অগ্রগামী। এত সিরিয়াস ও ডেডিকেটেড ছিল! ধ্বংসস্তূপের যে গভীরতায় কেউ ঢুকতে সাহস করত না, হিমু অবলীলায় সেখানে চলে যেত আহত-নিহত মানুষদের উদ্ধার করতে। হি ওয়াজ রিয়েলি মাই হিরো।...ভীষণ কষ্ট লাগছে হিমুর মতো প্রাণবন্ত একটা ছেলে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করছে শুনে। খুব খারাপ লাগছে।’

মন্তব্য