kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

অর্থপাচারের আরেক মামলা

গিয়াস আল মামুনের সাত বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি মামলায় ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগেও একটি মামলায় মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি মামুনকে ১২ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, ২০০২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ১৩ ধারার অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় তাঁকে সাজা দেওয়া হলো। তবে রায়ে বলা হয়েছে, এই মামলায় আসামির হাজতবাস সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

গত ৮ এপ্রিল রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের তারিখ ধার্য করেন আদালত। রায় ঘোষণার আগে মামুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিটিএল ও গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান এম শাহজাদ আলী রেলওয়ের সিগন্যাল সিস্টেম আধুনিকায়নের কাজ পান দরপত্রের মাধ্যমে। কিন্তু কার্যাদেশ চূড়ান্ত করার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন শাহজাদের কাছে অবৈধ কমিশন দাবি করেন এবং তা না দিলে কার্যাদেশ বাতিলের হুমকি দেন। এভাবে মামুন বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ছয় কোটি এক লাখ ৫৭ হাজার ৭৬২ টাকা আদায় করেন। পরে ওই টাকা লন্ডনের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে পাচার করেন।

ওই ঘটনায় ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করে দুদক। পরের বছর ২৯ এপ্রিল মামুনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। চার্জশিটভুক্ত ১২ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময় ১০ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন খায়রুল ইসলাম লিটন।

এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন মামুন। এর পর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থপাচার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।

২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর মামুনকে একটি কনস্ট্রাকশন কম্পানির কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে তা সিঙ্গাপুরে পাচার করার দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৪০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। পাচার করা ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা সিঙ্গাপুর থেকে সরকার ফেরত আনায় ওই টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয় সেই রায়ে। ওই মামলায় তারেক রহমানও আসামি ছিলেন। বিচারিক আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে আদালত তারেককেও সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। অন্যদিকে মামুনের করা আপিল নামঞ্জুর করে তাঁর শাস্তি বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

মন্তব্য