kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

মিঠাপুকুরে ধর্ষণের পর ওঁরাও স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর ও মিঠাপুকুর প্রতিনিধি   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রংপুরের মিঠাপুকুরে স্বপ্না টপ্য নামের ওঁরাও সম্প্রদায়ের এক স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে কথিত প্রেমিক ও তার তিন বন্ধু ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। লজ্জা ও ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে মেয়েটি। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার উপজেলার খোর্দ্দ নুরপুর গ্রামের আদিবাসী পল্লীতে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় স্বপ্নার এক স্বজনকেও ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ। গত মঙ্গলবার রাতে স্বপ্নার কথিত প্রেমিক রতন মিনজিসহ তিনজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন স্বপ্নার বোন পরিতা টপ্য।

নির্যাতিত ও মৃত স্বপ্না টপ্য মিঠাপুকুরের মির্জাপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ নুরপুর গ্রামের জীতেন টপ্যর একমাত্র মেয়ে ও স্থানীয় ইমাদপুর পশ্চিম পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। গত এসএসসি পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয় স্বপ্না। ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার ঘটনায় অভিযুক্ত রতন মিনজি রংপুর নগরের মাহিগঞ্জ এলাকার ঢোলভাঙা গ্রামের বুধুয়া মিনজির ছেলে।

নুরপুরে গিয়ে জানা যায়, রতন মিনজির সঙ্গে স্বপ্নার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে স্বপ্নাকে দেখা করতে ডাকে রতন। এদিন বিকেলে এক স্বজনকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় স্বপ্না। পরে রতনের সঙ্গে দেখা করতে ঢোলভাঙা গ্রামে যায় তারা। সেখানে রাতে তাদের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে রতন ও তার তিন বন্ধু ধর্ষণ করে। পরদিন শুক্রবার বিকেলে স্বপ্না ও তার স্বজন বাড়ি ফেরে। তখন তারা অসুস্থ থাকলেও ঘটনাটি কাউকে জানায়নি। পরে বিকেল ৫টার দিকে লজ্জা ও ক্ষোভে স্বপ্না বসতঘরে তীরের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

স্বপ্নার প্রতিবেশী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, অনেক দিন ধরে রতন মোবাইল ফোনে স্বপ্নাকে বিরক্ত করত। প্রেমের প্রস্তাব দিত। কিন্তু সে রাজি হয়নি। পরে নানা কৌশলে প্রেমের ফাঁদে পড়ে। এর পর থেকে তারা মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ করত। রতনের ফাঁসি দাবি করে তারা।

মন্তব্য